মূল লেখায় যানSkip to content

অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়ম: শূন্য থেকে প্রথম অর্ডার পর্যন্ত (২০২৬)

Metanoz টিম হালনাগাদ 10 মিনিটে পড়ুন অনলাইন ব্যবসা · E-commerce
অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়ম: শূন্য থেকে প্রথম অর্ডার পর্যন্ত (২০২৬)
সংক্ষেপে উত্তর

অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে সাতটি কাজ ক্রমানুসারে করুন: ১) কোন পণ্য কাকে বেচবেন ঠিক করুন, ২) পুঁজি আর লাভের হিসাব করুন, ৩) ট্রেড লাইসেন্সসহ দরকারি কাগজ করুন, ৪) ফেসবুক পেজের পাশাপাশি নিজের ওয়েবসাইটে দোকান খুলুন, ৫) বিকাশ-নগদ ও ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পেমেন্ট নিন, ৬) একটি নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার ঠিক করুন, ৭) প্রথম ১০টি অর্ডার নিজে হাতে সামলে প্রক্রিয়াটা শিখে নিন। ছোট পরিসরে শুরু করে প্রতিটি অর্ডার থেকে শেখাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

বাংলাদেশে এখন অনেকেই চাকরির পাশাপাশি বা পুরো সময় দিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করছেন — পোশাক, খাবার, বই, গ্যাজেট, হস্তশিল্প থেকে শুরু করে সেবা পর্যন্ত। শুরু করা সহজ মনে হলেও অনেকে প্রথম কয়েক মাসেই থেমে যান: কেউ ভুল পণ্য বেছে নেন, কেউ লাভের হিসাব না করে দাম ঠিক করেন, কারও পার্সেল ফেরত আসে বারবার। এই গাইডে আমরা শূন্য থেকে প্রথম অর্ডারের টাকা হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সাজিয়েছি, যাতে আপনি জানেন কোন কাজ আগে, কোনটা পরে।

এই লেখায় যা আছে
  1. শুরুর আগে নিজেকে ৫টি প্রশ্ন করুন
  2. ধাপ ১: পণ্য আর গ্রাহক ঠিক করা
  3. ধাপ ২: পুঁজি আর লাভের হিসাব
  4. ধাপ ৩: দরকারি কাগজপত্র
  5. ধাপ ৪: অনলাইন দোকান খোলা
  6. ধাপ ৫: পেমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা
  7. ধাপ ৬: ডেলিভারির ব্যবস্থা
  8. ধাপ ৭: প্রথম ১০টি অর্ডার
  9. প্রথম ৯০ দিনের পরিকল্পনা
  10. নতুনদের সাধারণ ভুল
  11. পরের ধাপ
  12. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শুরুর আগে নিজেকে ৫টি প্রশ্ন করুন

পণ্য কেনার বা পেজ খোলার আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে ফেলুন। উত্তরগুলো পরে প্রতিটি সিদ্ধান্তে কাজে লাগবে।

  1. আমি কী বেচব, আর কেন মানুষ আমার কাছ থেকেই কিনবে? দাম, মান, বিশেষ ডিজাইন, দ্রুত ডেলিভারি — কোনো একটা কারণ থাকতে হবে।
  2. আমার গ্রাহক কারা? বয়স, এলাকা, আয় আর তাঁরা কোথায় সময় কাটান (ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল)।
  3. প্রতিদিন কত সময় দিতে পারব? অর্ডার, প্যাকিং, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর — সবকিছুতে সময় লাগে।
  4. কত টাকা হারানোর ঝুঁকি নিতে পারি? এই অঙ্কের বেশি পুঁজি প্রথমে খাটাবেন না।
  5. পণ্য কোথা থেকে আসবে? নিজে বানানো, পাইকারি বাজার, স্থানীয় কারিগর, নাকি অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে?

ধাপ ১: পণ্য আর গ্রাহক ঠিক করা

নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো "সবার জন্য সবকিছু" বেচতে চাওয়া। শুরুতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের পণ্য আর নির্দিষ্ট গ্রাহক বেছে নিন। যেমন "মেয়েদের পোশাক" না বলে "অফিসে পরার মতো সুতির থ্রি-পিস", বা "খাবার" না বলে "ঘরে বানানো আচার ও মশলা"।

ভালো পণ্যের কয়েকটি লক্ষণ

  • পাঠানো সহজ: ভাঙে না, পচে না, ওজন কম — কুরিয়ার খরচ আর রিটার্ন দুটোই কম।
  • লাভের জায়গা আছে: কেনা দামের ওপর প্যাকিং, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপন আর কিছু রিটার্ন ধরেও লাভ থাকে।
  • বারবার কেনার সম্ভাবনা: প্রসাধনী, খাবার, শিশুর জিনিস — একবার সন্তুষ্ট গ্রাহক আবার আসেন।
  • আপনার জানাশোনা আছে: যে পণ্য আপনি নিজে বোঝেন, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আর ভালো মাল চেনা সহজ।

কী নিয়ে শুরু করবেন বুঝতে না পারলে আমাদের কম পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া লেখাটি দেখুন, সেখানে প্রতিটি আইডিয়ার সুবিধা-অসুবিধা তুলনা করা আছে।

চাহিদা যাচাই করুন

বড় স্টক কেনার আগে ছোট পরিসরে পরীক্ষা করুন: ১০–২০টি পণ্য আনুন, চেনা মানুষ আর ফেসবুকে দেখান, কোনটা নিয়ে বেশি প্রশ্ন আসে খেয়াল করুন। গুগলে আপনার পণ্যের নাম বাংলা ও ইংরেজিতে লিখে দেখুন কারা আগে থেকে বেচছে আর কত দামে।

ধাপ ২: পুঁজি আর লাভের হিসাব

অনলাইন ব্যবসায় দোকান ভাড়া লাগে না, কিন্তু খরচ শূন্যও নয়। শুরুর আগে একটা সহজ হিসাব কাগজে করে নিন:

খরচের খাতকী ধরবেন
প্রথম স্টকঅল্প পরিমাণে, কয়েকটি ডিজাইন/সাইজ
প্যাকেজিংপলিব্যাগ, বক্স, টেপ, লেবেল
কাগজপত্রট্রেড লাইসেন্স ফি (এলাকা অনুযায়ী আলাদা)
ওয়েবসাইট ও ডোমেইনমাসিক প্ল্যান বা বানানোর খরচ
বিজ্ঞাপনশুরুতে ছোট বাজেট, ফল দেখে বাড়ানো
ফোন ও ইন্টারনেটগ্রাহকের সাথে যোগাযোগ, SMS

প্রতিটি পণ্যের দাম ঠিক করার সময় শুধু কেনা দাম আর বিক্রয় মূল্যের পার্থক্য দেখবেন না। একটি পণ্য বেচতে প্যাকিং, কুরিয়ার চার্জের যে অংশ আপনি বহন করছেন, বিজ্ঞাপনের খরচ আর মাঝে মাঝে ফেরত আসা পার্সেলের ক্ষতি — সব যোগ করে তারপর আসল লাভ হিসাব করুন। দাম ঠিক করার বিস্তারিত নিয়ম আছে আমাদের অনলাইনে পণ্যের দাম ঠিক করার নিয়ম লেখায়।

ধাপ ৩: দরকারি কাগজপত্র

ছোট পরিসরে শুরু করতে অনেকে কাগজপত্র ছাড়াই নামেন, কিন্তু ব্যবসা একটু বড় হলেই এগুলো লাগে — বিশেষ করে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে। শুরু থেকেই গুছিয়ে রাখা ভালো:

  • ট্রেড লাইসেন্স: আপনার এলাকার সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। বেশিরভাগ ব্যবসায়িক কাজের ভিত্তি এটাই।
  • DBID (ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি): অনলাইন বিক্রেতাদের পরিচয় নিবন্ধন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থায়।
  • ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: লেনদেন আলাদা রাখতে আর গেটওয়ে থেকে টাকা নিতে।
  • TIN: আয় বাড়লে কর-সংক্রান্ত কাজে লাগবে।

কোন কাগজ কোথা থেকে, কী লাগে আর ই-ক্যাব সদস্যপদ কেন — বিস্তারিত পড়ুন অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ও ই-ক্যাব লেখায়। নিয়মকানুন সময়ে সময়ে বদলায়, তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের সর্বশেষ নিয়ম মিলিয়ে নিন।

অনলাইন ব্যবসার পাঁচটি ধাপ: পণ্য, দোকান, পেমেন্ট, ডেলিভারি, গ্রাহক
একটি অর্ডারের পুরো পথ: প্রতিটি ধাপ আগে থেকে ঠিক করে রাখলে প্রথম অর্ডারেই ঝামেলা কম হয়।

ধাপ ৪: অনলাইন দোকান খোলা

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার বড় অংশ ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু হয়, আর সেটা শুরু করার জন্য ভালো জায়গা। তবে শুধু পেজের ওপর নির্ভর করলে কিছু ঝুঁকি থাকে, তাই অনেক বিক্রেতা পেজের পাশাপাশি নিজের ওয়েবসাইট রাখেন।

ফেসবুক পেজ: দ্রুত শুরু, তবে সীমাবদ্ধ

পেজ খুলতে টাকা লাগে না, আর গ্রাহক সেখানেই আছেন। কিন্তু প্রতিটি অর্ডার ইনবক্সে হাতে লিখে নিতে হয়, একই প্রশ্নের উত্তর বারবার দিতে হয়, আর পেজ কোনো কারণে বন্ধ বা সীমিত হলে পুরো ব্যবসা থেমে যেতে পারে। গুগলে কেউ আপনার পণ্য খুঁজলেও পেজের পোস্ট সাধারণত খুঁজে পান না।

নিজের ওয়েবসাইট: আপনার নিজের দোকান

ওয়েবসাইটে গ্রাহক নিজেই পণ্য দেখে, সাইজ বেছে, ঠিকানা লিখে অর্ডার করেন; সব অর্ডার এক তালিকায় জমা হয়। দাম, স্টক, ডেলিভারি চার্জ আর পেমেন্ট — সব আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফেসবুক পেজে "Shop Now" বোতাম দিয়ে ওয়েবসাইটে পাঠানো যায়, ফলে দুটো একসাথে কাজ করে। ধাপে ধাপে দোকান সাজানোর নিয়ম আছে অনলাইন দোকান খোলার নিয়ম লেখায়।

একটি অনলাইন বইয়ের দোকানের ডেমো ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট
একটি ডেমো অনলাইন দোকান (kitabghar.metanoz.com): পরিষ্কার মেনু, অফার আর কেনার বোতাম প্রথম স্ক্রিনেই।

শুরুর জন্য যথেষ্ট: ৫–১০টি ভালো ছবিসহ পণ্য, পরিষ্কার দাম, ডেলিভারি চার্জ, একটি "আমাদের সম্পর্কে" পেজ আর যোগাযোগের নম্বর। শত শত পণ্য একসাথে তোলার দরকার নেই। Metanoz-এ পণ্য যোগের ধাপগুলো আছে হেল্প সেন্টারের এই গাইডে।

ধাপ ৫: পেমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা

বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটায় এখনো ক্যাশ অন ডেলিভারি সবচেয়ে প্রচলিত, তবে বিকাশ-নগদে আগাম পেমেন্টও বাড়ছে। শুরুতে তিনটি পথ রাখুন:

  • ক্যাশ অন ডেলিভারি: গ্রাহকের আস্থা বেশি, কিন্তু ফেরত আসা পার্সেলের ঝুঁকি আপনার।
  • বিকাশ/নগদে সেন্ড মানি: গ্রাহক টাকা পাঠিয়ে ট্রানজেকশন আইডি (TrxID) দেন, আপনি মিলিয়ে অর্ডার কনফার্ম করেন। খরচ কম, শুরু করা সহজ।
  • পেমেন্ট গেটওয়ে: কার্ড, বিকাশ, নগদ — সব এক জায়গায়, টাকা পরিশোধ নিজে থেকেই যাচাই হয়। কাগজপত্র লাগে, প্রতি লেনদেনে চার্জ আছে।

অনেক বিক্রেতা ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জটা আগে বিকাশে নিয়ে নেন, এতে ফেক অর্ডার কমে। কোন পথ আপনার জন্য ঠিক, তা নিয়ে বিস্তারিত আছে ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট নেওয়ার নিয়ম লেখায়। Metanoz-এ বিকাশ ও নগদের টাকা সরাসরি আপনার নম্বরে যায়, মাঝখানে কোনো কমিশন কাটা হয় না।

ব্যবসার টাকা আলাদা রাখুন

শুরু থেকেই ব্যবসার জন্য আলাদা একটি বিকাশ বা নগদ নম্বর আর সম্ভব হলে আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখুন। ব্যক্তিগত খরচ আর ব্যবসার আয় এক জায়গায় মিশে গেলে মাস শেষে বোঝা যায় না আসলে লাভ হলো কি না। প্রতিটি অর্ডারের পাশে লিখে রাখুন টাকা কীভাবে এসেছে — ক্যাশ অন ডেলিভারি, বিকাশ নাকি গেটওয়ে — আর কুরিয়ার থেকে টাকা এলে সেই তালিকার সাথে মিলিয়ে নিন। এই অভ্যাস পরে কর, ঋণ বা বিনিয়োগের কাগজ তৈরিতেও কাজে লাগে।

ধাপ ৬: ডেলিভারির ব্যবস্থা

পণ্য যত ভালোই হোক, দেরিতে বা ভাঙা অবস্থায় পৌঁছালে গ্রাহক আর ফেরেন না। শুরুতেই ঠিক করুন:

  1. কুরিয়ার বাছাই: কভারেজ, চার্জ, ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা কত দিনে ফেরত দেয় আর রিটার্নের নিয়ম মিলিয়ে দেখুন। আমাদের কুরিয়ার বাছাইয়ের গাইডে মাপকাঠিগুলো আছে।
  2. ডেলিভারি চার্জ: ঢাকার ভিতরে ও বাইরে আলাদা চার্জ ঠিক করে ওয়েবসাইটে বসিয়ে দিন, যাতে চেকআউটে গ্রাহক নিজেই দেখেন।
  3. প্যাকেজিং: পণ্য অনুযায়ী মজবুত প্যাকিং, বাইরে পরিষ্কার লেবেল আর ভেতরে একটা ছোট ধন্যবাদ কার্ড।
  4. ট্র্যাকিং: পার্সেল পাঠানোর পর গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বর বা SMS দিন — "আমার জিনিস কোথায়?" প্রশ্ন অনেক কমে যায়।

ধাপ ৭: প্রথম ১০টি অর্ডার

প্রথম অর্ডারগুলো আসলে আপনার প্রশিক্ষণ। এগুলো থেকেই আপনি বুঝবেন কোথায় সময় যায়, কোথায় ভুল হয়।

  • চেনা পরিচিতদের দিয়ে শুরু: বন্ধু, আত্মীয়, সহকর্মীদের জানান, আর সৎ মতামত চান।
  • ছোট বিজ্ঞাপন: বড় বাজেট না দিয়ে অল্প টাকায় নির্দিষ্ট এলাকা আর বয়সের মানুষকে দেখান, কোন পোস্টে সাড়া বেশি দেখুন।
  • প্রতিটি অর্ডার নিজে দেখুন: অর্ডার পাওয়া থেকে টাকা হাতে আসা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিজে করুন, তারপর ঠিক করুন কোন কাজ অন্যকে দেবেন।
  • রিভিউ চান: সন্তুষ্ট গ্রাহককে ছবি বা মতামত দিতে অনুরোধ করুন — অনুমতি নিয়ে সেটা পেজে বা ওয়েবসাইটে দেখান। বানানো রিভিউ কখনো দেবেন না; ধরা পড়লে আস্থা একবারেই নষ্ট হয়।
  • কনফার্মেশন: অর্ডারের পর ফোন বা SMS-এ কনফার্ম করুন। এতে ভুল ঠিকানা আর ফেক অর্ডার দুটোই কমে।

প্রথম ৯০ দিনের পরিকল্পনা

প্রথম তিন মাসকে তিন ভাগে ভাগ করে নিলে কাজ গোছানো থাকে আর অগ্রগতি মাপা যায়:

অনলাইন ব্যবসার প্রথম ৯০ দিনের কাজের চেকলিস্ট
প্রথম ৯০ দিনের কাজ — প্রতি মাসে তিনটি করে বড় লক্ষ্য।

প্রতি মাসের শেষে তিনটি সংখ্যা লিখে রাখুন: মোট অর্ডার, ফেরত আসা পার্সেল আর প্রতি অর্ডারে আসল লাভ। এই তিনটি সংখ্যা থেকেই বোঝা যায় ব্যবসা সঠিক পথে যাচ্ছে কি না।

নতুনদের সাধারণ ভুল

এগুলো এড়াতে পারলে প্রথম বছরের অনেক ক্ষতি বাঁচে।

  • শুরুতেই বড় স্টক: চাহিদা যাচাইয়ের আগে বেশি মাল কিনে আটকে যাওয়া।
  • প্রতিযোগীর চেয়ে কম দাম রাখাই একমাত্র কৌশল: দাম কমাতে কমাতে লাভই থাকে না। মান, সার্ভিস আর ডেলিভারিতে আলাদা হোন।
  • হিসাব না রাখা: কত বিক্রি হলো আর কত লাভ হলো আলাদা জিনিস। একটা সাধারণ খাতা বা স্প্রেডশিটেই শুরু করুন।
  • ছবি ও বিবরণে অবহেলা: অনলাইনে গ্রাহক পণ্য হাতে ধরতে পারেন না; ছবি আর লেখাই তাঁর ভরসা। মোবাইলে ভালো ছবি তোলার কৌশল আছে পণ্যের ছবি তোলার নিয়ম লেখায়।
  • বাস্তবের চেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি: "২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি" বললে সেটা রাখতে হবে। না পারলে বাস্তব সময় বলুন।
  • এক জায়গার ওপর পুরো নির্ভরতা: শুধু একটি পেজ বা একটি কুরিয়ারের ওপর ব্যবসা দাঁড় করালে সেটা বন্ধ হলে সব থেমে যায়।

পরের ধাপ

অনলাইন ব্যবসা রাতারাতি বড় হয় না, কিন্তু সঠিক ক্রমে কাজ করলে প্রথম কয়েক মাসেই একটা নিয়মিত ছন্দ তৈরি হয়। পণ্য আর হিসাব ঠিক রাখুন, প্রতিটি গ্রাহকের অভিজ্ঞতা ভালো করুন, আর প্রতি মাসে সংখ্যাগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নিন। দোকানটা নিজের ওয়েবসাইটে খুলতে চাইলে Metanoz-এ অনলাইন স্টোরের টেমপ্লেট বেছে নিয়ে পণ্য, বিকাশ-নগদ পেমেন্ট আর কুরিয়ার এক জায়গায় সাজাতে পারেন — অনলাইন স্টোর Business প্ল্যানে (দাম জানতে যোগাযোগ করুন) থাকে, আর শুরুতে ৭ দিন বিনামূল্যে চালিয়ে দেখা যায়।

নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন

টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।

বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই; পণ্যের ধরন আর পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। অনেকে অল্প স্টক, ফেসবুক পেজ আর ছোট বিজ্ঞাপন দিয়ে কয়েক হাজার টাকায় শুরু করেন। নিয়ম হলো, যতটা হারানোর ঝুঁকি নিতে পারেন তার বেশি প্রথমে খাটাবেন না।

ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কি অনলাইন ব্যবসা করা যায়?

অনেকে ছোট পরিসরে শুরু করেন, কিন্তু মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর ই-ক্যাব সদস্যপদের মতো কাজে ট্রেড লাইসেন্স লাগে। শুরু থেকেই করে রাখা নিরাপদ।

শুধু ফেসবুক পেজ দিয়ে কি ব্যবসা চালানো যায়?

যায়, অনেকে চালাচ্ছেনও। তবে অর্ডার সামলানো, গুগলে খুঁজে পাওয়া আর পেজ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকির কারণে পেজের পাশাপাশি নিজের ওয়েবসাইট রাখা ভালো। দুটো একসাথে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

ঘরে বসে কোন অনলাইন ব্যবসা সবচেয়ে সহজ?

যে পণ্য পাঠানো সহজ, যার লাভের জায়গা আছে আর যা আপনি নিজে ভালো বোঝেন — সেটাই আপনার জন্য সহজ। পোশাক, ঘরে বানানো খাবার, বই, হস্তশিল্প আর ডিজিটাল পণ্য নতুনদের মধ্যে প্রচলিত।

প্রথম অর্ডার পেতে কত দিন লাগে?

এটা পণ্য, দাম আর প্রচারের ওপর নির্ভর করে। চেনা মানুষ আর ছোট বিজ্ঞাপন দিয়ে অনেকে প্রথম সপ্তাহেই অর্ডার পান, আবার কারও কয়েক সপ্তাহ লাগে। নিয়মিত পোস্ট আর দ্রুত উত্তর দেওয়া সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।

ক্যাশ অন ডেলিভারিতে ফেরত আসা পার্সেল কীভাবে কমাব?

অর্ডারের পর ফোন বা SMS-এ কনফার্ম করুন, পণ্যের বিবরণ আর ছবি সঠিক রাখুন, দ্রুত পাঠান, আর প্রয়োজনে ঢাকার বাইরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ আগে নিন।

অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়ম অনলাইন ব্যবসা কিভাবে শুরু করব ই-কমার্স ব্যবসা শুরু অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া online business Bangladesh
Metanoz টিম
Metanoz বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার। আমাদের টিম নিজেরা প্ল্যাটফর্ম বানায় ও চালায়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখে ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। প্রশ্ন থাকলে হেল্প সেন্টার দেখুন বা যোগাযোগ করুন।
শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp LinkedIn

আমরা এখন অফিসের বাইরেWe are outside office hours

অফিস সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা। নম্বর রেখে যান, অফিস খুললেই আমরা কল করব।Office hours: Saturday–Thursday, 9 AM – 9 PM. Leave your number and we will call you when we open.

তবুও WhatsApp-এ লিখুনWrite on WhatsApp anyway