মূল লেখায় যানSkip to content

ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট নেওয়ার নিয়ম: পার্সোনাল, মার্চেন্ট নাকি গেটওয়ে?

Metanoz টিম হালনাগাদ 10 মিনিটে পড়ুন পেমেন্ট · Payments
ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট নেওয়ার নিয়ম: পার্সোনাল, মার্চেন্ট নাকি গেটওয়ে?
সংক্ষেপে উত্তর

ওয়েবসাইটে বিকাশে টাকা নেওয়ার তিনটি পথ আছে। ১) নম্বর + TrxID: গ্রাহক আপনার বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠিয়ে ট্রানজেকশন আইডি দেন, আপনি মিলিয়ে অর্ডার কনফার্ম করেন — কাগজপত্র ছাড়াই আজই চালু করা যায়। ২) বিকাশ মার্চেন্ট পেমেন্ট গেটওয়ে: চেকআউটেই বিকাশে পেমেন্ট হয়, নিজে থেকে যাচাই হয়; ট্রেড লাইসেন্সসহ আবেদন লাগে। ৩) SSLCommerz-এর মতো এগ্রিগেটর: এক সংযোগে বিকাশ, নগদ, কার্ড সব। শুরুতে প্রথম পথ, অর্ডার বাড়লে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পথে যাওয়াই সাধারণ নিয়ম।

বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটায় বিকাশ সবচেয়ে পরিচিত মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমগুলোর একটি। তাই নিজের ওয়েবসাইটে দোকান খুললে প্রথম প্রশ্নই আসে: "গ্রাহক কীভাবে বিকাশে টাকা দেবেন?" উত্তরটা নির্ভর করে আপনার ব্যবসা কত বড়, কাগজপত্র তৈরি কি না আর প্রতিদিন কতগুলো অর্ডার আসে তার ওপর। এই লেখায় তিনটি পথই খুলে বলছি — কীভাবে কাজ করে, কী লাগে, ঝুঁকি কোথায় — আর শেষে দেখাব Metanoz-এ কীভাবে চালু করবেন।

এই লেখায় যা আছে
  1. তিনটি পথ এক নজরে
  2. পথ ১: বিকাশ নম্বরে টাকা + TrxID
  3. পথ ২: বিকাশ মার্চেন্ট পেমেন্ট গেটওয়ে
  4. পথ ৩: SSLCommerz-এর মতো এগ্রিগেটর
  5. কোন পথটা আপনার জন্য
  6. Metanoz-এ বিকাশ পেমেন্ট চালু করা
  7. নিরাপত্তা ও প্রতারণা থেকে বাঁচার নিয়ম
  8. গ্রাহকের দিক থেকে বিকাশ পেমেন্ট সহজ করা
  9. পেমেন্টের হিসাব আর রিফান্ড
  10. শেষ কথা
  11. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

তিনটি পথ এক নজরে

নিচের টেবিলে তিন পথের মূল পার্থক্যগুলো দেওয়া হলো। একটি পথ বেছে নিলেই অন্যটা বন্ধ হয়ে যায় না; অনেক বিক্রেতা শুরুতে প্রথম পথ চালান, পরে গেটওয়ে যুক্ত করে দুটোই রাখেন।

বিকাশ পেমেন্ট নেওয়ার তিন পথের তুলনা: TrxID, মার্চেন্ট গেটওয়ে ও SSLCommerz
তিন পথের তুলনা — শুরুতে সহজটা, ব্যবসা বাড়লে স্বয়ংক্রিয়টা।

পথ ১: বিকাশ নম্বরে টাকা + TrxID

এটাই সবচেয়ে প্রচলিত আর সবচেয়ে সহজ শুরু। ওয়েবসাইটের চেকআউটে আপনার বিকাশ নম্বর আর ছোট একটা নির্দেশনা দেখানো হয়। গ্রাহক নিজের বিকাশ অ্যাপ থেকে টাকা পাঠিয়ে যে ট্রানজেকশন আইডি (TrxID) পান, সেটা অর্ডার ফর্মে লিখে দেন। আপনি নিজের বিকাশ অ্যাপে TrxID আর টাকার অঙ্ক মিলিয়ে অর্ডারে "Paid" করে দেন।

বিকাশে টাকা নিয়ে TrxID মিলিয়ে অর্ডার কনফার্ম করার পাঁচটি ধাপ
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্রতিটি অর্ডারের পথ — মেলানোর ধাপটা কখনো বাদ দেবেন না।

কীভাবে কাজ করে

  1. নম্বর ঠিক করুন: ব্যবসার জন্য আলাদা একটি বিকাশ নম্বর রাখুন, যাতে ব্যক্তিগত লেনদেনের সাথে না মেশে।
  2. নির্দেশনা লিখুন: চেকআউটে পরিষ্কার করে লিখুন কোন অপশনে টাকা পাঠাতে হবে (যেমন "Send Money" বা মার্চেন্ট নম্বর হলে "Payment") আর TrxID কোথায় দিতে হবে।
  3. মেলান: প্রতিটি অর্ডারের TrxID আর অঙ্ক নিজের অ্যাপের লেনদেন তালিকার সাথে মেলান। গ্রাহকের পাঠানো স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয় — স্ক্রিনশট সহজেই বানানো যায়।
  4. কনফার্ম করুন: মিললে অর্ডারে পেমেন্ট নিশ্চিত করুন আর গ্রাহককে জানান।

সুবিধা ও সীমা

সুবিধা

  • কোনো আবেদন বা অপেক্ষা ছাড়াই চালু
  • গেটওয়ের আলাদা চার্জ নেই
  • টাকা সাথে সাথে নিজের অ্যাকাউন্টে

সীমা

  • প্রতিটি পেমেন্ট হাতে মেলাতে হয়
  • অর্ডার বাড়লে সময় ও ভুলের ঝুঁকি বাড়ে
  • ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সীমা আর নিয়ম আছে

ব্যক্তিগত নাকি মার্চেন্ট নম্বর? বিকাশে ব্যবসার জন্য আলাদা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা আছে। শুরুতে অনেকে ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করেন, কিন্তু নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টই উপযুক্ত — এতে লেনদেনের সীমা আর হিসাব দুটোই ব্যবসার মতো করে সাজানো থাকে। সর্বশেষ নিয়ম বিকাশের কাছ থেকে জেনে নিন।

TrxID মেলানোর রুটিন, জাল পেমেন্ট চেনার লক্ষণ আর গ্রাহককে কী বলবেন — বিস্তারিত আছে বিকাশ TrxID মিলিয়ে অর্ডার কনফার্ম করার নিয়ম লেখায়।

পথ ২: বিকাশ মার্চেন্ট পেমেন্ট গেটওয়ে

পেমেন্ট গেটওয়েতে গ্রাহককে আলাদা করে অ্যাপ খুলে টাকা পাঠাতে হয় না। চেকআউটে "বিকাশে পরিশোধ" চাপলে বিকাশের পেমেন্ট পেজ খোলে; গ্রাহক নম্বর, OTP আর পিন দিয়ে পরিশোধ করেন, আর পেমেন্ট সফল হলে ওয়েবসাইট নিজে থেকেই জানতে পারে। ফলে মেলানোর কাজ থাকে না, ভুল TrxID-এর ঝামেলাও থাকে না।

সাধারণত কী কী লাগে

প্রতিষ্ঠান সময়ে সময়ে কাগজের তালিকা বদলায়, তবে সাধারণভাবে এগুলো চাওয়া হয়:

  • হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স
  • মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি
  • ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (টাকা জমা হওয়ার জন্য)
  • চালু ওয়েবসাইট — পণ্য, দাম, যোগাযোগের ঠিকানা, রিফান্ড ও প্রাইভেসি পলিসি পেজসহ
  • কখনো কখনো TIN বা অন্যান্য কাগজ

ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে করবেন জানতে পড়ুন অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ও ই-ক্যাব গাইড। নীতিমালা পেজে কী লিখবেন তা আছে প্রাইভেসি ও রিফান্ড পলিসি লেখায়।

আবেদনের আগে ওয়েবসাইট প্রস্তুত রাখুন

গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন যাচাইয়ের সময় আপনার ওয়েবসাইট খুলে দেখে। অর্ধেক তৈরি সাইট বা "শিগগিরই আসছে" লেখা পেজ থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে। আবেদনের আগে নিশ্চিত করুন: প্রতিটি পণ্যের পরিষ্কার নাম, ছবি আর টাকায় দাম আছে; ডেলিভারি চার্জ ও সময় লেখা আছে; "আমাদের সম্পর্কে" আর "যোগাযোগ" পেজে আসল ঠিকানা ও ফোন নম্বর আছে; রিফান্ড, প্রাইভেসি আর শর্তাবলি পেজ আছে; আর সাইটটি https দিয়ে খোলে। ব্যবসার নাম ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর ওয়েবসাইটে একই রকম থাকলে যাচাই দ্রুত হয়। এই প্রস্তুতি শুধু আবেদনের জন্য নয়, গ্রাহকের আস্থার জন্যও কাজে লাগে।

চার্জ কেমন

গেটওয়েতে প্রতিটি সফল লেনদেনে একটা নির্দিষ্ট শতাংশ চার্জ কাটা হয়। হার নির্ভর করে চুক্তি, ব্যবসার ধরন আর লেনদেনের পরিমাণের ওপর, আর সময়ে সময়ে বদলায় — তাই কোনো ব্লগে দেখা সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে আবেদনের সময় লিখিতভাবে জেনে নিন। দাম ঠিক করার সময় এই চার্জটা আপনার খরচের হিসাবে ধরতে ভুলবেন না।

সংযোগের কাজ

গেটওয়ে অনুমোদন পেলে আপনি API-র তথ্য পান, যা ওয়েবসাইটে বসাতে হয়। কাস্টম সাইটে ডেভেলপার এই সংযোগ তৈরি করেন; প্ল্যাটফর্মে সাধারণত সেটিংসে তথ্য বসালেই হয় — যদি প্ল্যাটফর্ম সেই গেটওয়ে সমর্থন করে। আপনার প্ল্যাটফর্ম কোন গেটওয়ে সমর্থন করে তা আগে জেনে নিন।

পথ ৩: SSLCommerz-এর মতো এগ্রিগেটর

এগ্রিগেটর হলো এমন গেটওয়ে, যার এক সংযোগে অনেক মাধ্যম পাওয়া যায় — বিকাশ, নগদ, অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং, ভিসা-মাস্টারকার্ড আর ইন্টারনেট ব্যাংকিং। বাংলাদেশে SSLCommerz এর পরিচিত উদাহরণ; এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন সেবা দেয়। আলাদা আলাদা গেটওয়ের জন্য আলাদা আবেদন আর সংযোগের বদলে একটাই যথেষ্ট।

কাগজপত্র মোটামুটি মার্চেন্ট গেটওয়ের মতোই, আর প্রতি লেনদেনে মাধ্যম অনুযায়ী চার্জ থাকে। টাকা সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। অ্যাকাউন্ট খোলা আর Sandbox থেকে Live-এ যাওয়ার পুরো নিয়ম আছে SSLCommerz অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম লেখায়। বিভিন্ন গেটওয়ের তুলনা পড়ুন বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে তুলনা লেখায়।

কোন পথটা আপনার জন্য

আপনার অবস্থাযে পথে শুরু করবেন
সবে শুরু, দিনে কয়েকটি অর্ডার, কাগজপত্র এখনো হয়নিনম্বর + TrxID, সাথে ক্যাশ অন ডেলিভারি
দিনে অনেক অর্ডার, বেশিরভাগ বিকাশেবিকাশ মার্চেন্ট গেটওয়ে
গ্রাহকেরা কার্ড, নগদ, বিকাশ — নানা মাধ্যমে দিতে চানSSLCommerz-এর মতো এগ্রিগেটর
দেশের বাইরের গ্রাহকও আছেনএগ্রিগেটর (কার্ড) + আন্তর্জাতিক পেমেন্টের ব্যবস্থা

একটা বাস্তব কৌশল হলো দুই স্তরে চলা: শুরুতে TrxID দিয়ে চালু করুন আর একই সময়ে কাগজপত্র গুছিয়ে গেটওয়ের আবেদন করুন। অনুমোদন এলে গেটওয়ে যুক্ত করুন, কিন্তু যাঁরা অভ্যস্ত তাঁদের জন্য TrxID পথটাও কিছুদিন খোলা রাখুন।

Metanoz-এ বিকাশ পেমেন্ট চালু করা

Metanoz-এ অনলাইন দোকানে (Business প্ল্যান থেকে) বিকাশ দুইভাবে নেওয়া যায়:

বিকাশ ও নগদ নম্বর দিয়ে (TrxID)

  1. Admin → Settings → Payment method খুলুন।
  2. বিকাশ অংশে আপনার নম্বর, দেখানোর নাম আর গ্রাহকের জন্য ছোট নির্দেশনা লিখুন (যেমন "Send Money করে TrxID দিন")। নগদের জন্যও একই কাজ করুন।
  3. সুইচ চালু করে সংরক্ষণ করুন — চেকআউটে মাধ্যমগুলো দেখা যাবে।
  4. অর্ডার এলে নিজের অ্যাপে TrxID আর অঙ্ক মিলিয়ে অর্ডারে পেমেন্ট "Paid" করুন।

টাকা সরাসরি আপনার নম্বরে যায়; Metanoz মাঝখানে কোনো কমিশন নেয় না। একই পেজ থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারিও চালু করা যায়।

Metanoz হেল্প সেন্টারে বিকাশ ও নগদে পেমেন্ট নেওয়ার গাইডের স্ক্রিনশট
Metanoz হেল্প সেন্টারের গাইড: Admin → Settings → Payment method থেকে বিকাশ-নগদ চালু করা।

SSLCommerz দিয়ে (স্বয়ংক্রিয়)

নিজের ব্যবসার নামে SSLCommerz মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে তাদের দেওয়া Store ID আর Store Password একই Payment method পেজের SSLCommerz অংশে বসান। সংরক্ষণ করলে Metanoz সাথে সাথে সংযোগ পরীক্ষা করে ফল দেখায়। এরপর গ্রাহক বিকাশ, নগদ, কার্ড বা ব্যাংকে পরিশোধ করতে পারেন, আর প্রতিটি পেমেন্ট সার্ভার থেকে SSLCommerz-এর কাছে যাচাই হওয়ার পরই অর্ডার "Paid" হয়। ধাপগুলো ছবিসহ আছে হেল্প সেন্টারের SSLCommerz গাইডে।

নিরাপত্তা ও প্রতারণা থেকে বাঁচার নিয়ম

অনলাইন বিক্রেতাদের সাথে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় পেমেন্টের নামে। এই নিয়মগুলো কখনো ভাঙবেন না।

  • স্ক্রিনশট প্রমাণ নয়: পেমেন্ট নিশ্চিত হয় শুধু আপনার নিজের অ্যাপে বা গেটওয়ের রিপোর্টে লেনদেন দেখলে।
  • পিন ও OTP কাউকে দেবেন না: বিকাশ বা কোনো প্রতিষ্ঠান ফোনে পিন বা OTP চায় না। "ভুল করে টাকা চলে গেছে, ফেরত দিন" কল এলে নিজের অ্যাপে আগে দেখুন টাকা আসলেই এসেছে কি না।
  • অঙ্ক মেলান: TrxID সঠিক হলেও টাকার অঙ্ক কম হতে পারে।
  • একই TrxID দুবার নয়: একটি TrxID দিয়ে দুটি অর্ডার কনফার্ম হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন।
  • গেটওয়ের তথ্য গোপন রাখুন: Store Password বা API কী কাউকে মেসেজে পাঠাবেন না।

প্রতারণার আরও ধরন আর এড়ানোর উপায় পড়ুন অনলাইন পেমেন্টে প্রতারণা এড়ানোর উপায় লেখায়।

গ্রাহকের দিক থেকে বিকাশ পেমেন্ট সহজ করা

পেমেন্টের পথ যত নিরাপদই হোক, গ্রাহক যদি বুঝতে না পারেন কী করতে হবে, তাহলে তিনি অর্ডার ছেড়ে চলে যাবেন বা ইনবক্সে প্রশ্ন করবেন। কয়েকটি ছোট কাজে এই ঝামেলা অনেক কমে:

  • মোট টাকা স্পষ্ট দেখান: পণ্যের দাম আর ডেলিভারি চার্জ যোগ করে কত পাঠাতে হবে, তা চেকআউটে বড় করে লিখুন। ভুল অঙ্ক পাঠানোর ঘটনা এতে কমে।
  • ধাপগুলো সংখ্যা দিয়ে লিখুন: "১. বিকাশ অ্যাপে Send Money, ২. এই নম্বরে টাকা পাঠান, ৩. TrxID এখানে লিখুন" — এমন সাজানো নির্দেশনা সবাই বোঝেন।
  • আংশিক অগ্রিমের নিয়ম আগে বলুন: শুধু ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নিলে সেটা পণ্যের পেজে আর চেকআউটে দুই জায়গাতেই লিখুন, যাতে পরে বিস্ময় না থাকে।
  • দ্রুত কনফার্মেশন দিন: পেমেন্ট মিলে গেলে যত দ্রুত সম্ভব SMS বা মেসেজে জানান। অপেক্ষার সময় যত কম, গ্রাহকের আস্থা তত বেশি।
  • বিকল্প রাখুন: বিকাশের পাশাপাশি নগদ আর ক্যাশ অন ডেলিভারি থাকলে কোনো গ্রাহককে ফিরিয়ে দিতে হয় না।

পেমেন্টের হিসাব আর রিফান্ড

অর্ডার বাড়লে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয় হিসাব মেলানো। প্রতিদিনের শেষে একবার নিজের বিকাশ লেনদেনের তালিকা আর ওয়েবসাইটের "Paid" অর্ডারের তালিকা পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে নিন। যে টাকা এসেছে কিন্তু কোনো অর্ডারের সাথে মেলেনি, সেটা আলাদা করে লিখে রাখুন আর গ্রাহককে খুঁজে বের করুন। গেটওয়ে ব্যবহার করলে তাদের রিপোর্ট থেকে প্রতিটি লেনদেনের চার্জ আর ব্যাংকে জমার তারিখ দেখা যায় — মাস শেষে এই রিপোর্ট আপনার আসল আয়ের হিসাব দেয়।

রিফান্ডের নিয়মও আগে থেকে ঠিক করে ওয়েবসাইটে লিখে রাখুন: কোন ক্ষেত্রে টাকা ফেরত দেবেন, কত দিনের মধ্যে, আর কোন মাধ্যমে। নম্বর পদ্ধতিতে রিফান্ড আপনাকে নিজে পাঠাতে হয়; গেটওয়েতে সাধারণত তাদের প্যানেল থেকে রিফান্ডের ব্যবস্থা থাকে, তবে নিয়ম প্রতিষ্ঠান ভেদে আলাদা। পরিষ্কার রিফান্ড নীতি গ্রাহকের আস্থা বাড়ায় আর গেটওয়ের আবেদনেও কাজে লাগে।

শেষ কথা

বিকাশ পেমেন্ট নেওয়ার জন্য প্রথম দিন থেকেই বড় গেটওয়ের দরকার নেই। নম্বর আর TrxID দিয়ে শুরু করুন, প্রতিটি পেমেন্ট সতর্কভাবে মেলান, আর ব্যবসা বাড়ার সাথে কাগজপত্র গুছিয়ে স্বয়ংক্রিয় গেটওয়েতে যান। নগদেও একই পদ্ধতিতে টাকা নেওয়া যায় — বিস্তারিত আছে ওয়েবসাইটে নগদ পেমেন্ট লেখায়।

নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন

টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।

বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে নিতে কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?

সাধারণত লাগে। মার্চেন্ট গেটওয়ে বা SSLCommerz-এর মতো এগ্রিগেটরের আবেদনে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র আর ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়। সর্বশেষ তালিকা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।

গেটওয়ে ছাড়া কি ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট নেওয়া যায়?

যায়। চেকআউটে আপনার বিকাশ নম্বর দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে TrxID নিন, তারপর নিজের অ্যাপে মিলিয়ে অর্ডার কনফার্ম করুন। ছোট ব্যবসার শুরুর জন্য এটা যথেষ্ট।

বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ের চার্জ কত?

প্রতি সফল লেনদেনে একটা শতাংশ, যা চুক্তি, ব্যবসার ধরন আর লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা হয় এবং সময়ে সময়ে বদলায়। আবেদনের সময় লিখিতভাবে হার জেনে নিন।

গ্রাহক ভুল TrxID দিলে কী করব?

অর্ডার কনফার্ম করবেন না। গ্রাহককে ফোন বা মেসেজে সঠিক TrxID চান আর নিজের অ্যাপে অঙ্কসহ মিলিয়ে নিন। মিল না পেলে পণ্য পাঠাবেন না।

Metanoz কি বিকাশ পেমেন্টে কমিশন কাটে?

না। নম্বর পদ্ধতিতে টাকা সরাসরি আপনার বিকাশ বা নগদ নম্বরে যায়। SSLCommerz ব্যবহার করলে তাদের চার্জ তাদের নিয়মে প্রযোজ্য, Metanoz আলাদা কিছু কাটে না।

গেটওয়ের টাকা কবে হাতে আসে?

গেটওয়েতে পরিশোধ হওয়া টাকা সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়; কত দিন পরপর, তা প্রতিষ্ঠান আর চুক্তি অনুযায়ী আলাদা। নম্বর পদ্ধতিতে টাকা সাথে সাথে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে আসে। নগদ প্রবাহের পরিকল্পনায় এই পার্থক্যটা মাথায় রাখুন।

বিকাশ আর নগদ দুটোই কি রাখা উচিত?

রাখা ভালো। গ্রাহকেরা ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করেন, আর একটির বদলে দুটি বিকল্প থাকলে চেকআউটে অর্ডার ছেড়ে যাওয়া কমে।

বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট bkash payment gateway বিকাশ TrxID
Metanoz টিম
Metanoz বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার। আমাদের টিম নিজেরা প্ল্যাটফর্ম বানায় ও চালায়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখে ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। প্রশ্ন থাকলে হেল্প সেন্টার দেখুন বা যোগাযোগ করুন।
শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp LinkedIn

আমরা এখন অফিসের বাইরেWe are outside office hours

অফিস সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা। নম্বর রেখে যান, অফিস খুললেই আমরা কল করব।Office hours: Saturday–Thursday, 9 AM – 9 PM. Leave your number and we will call you when we open.

তবুও WhatsApp-এ লিখুনWrite on WhatsApp anyway