মূল লেখায় যানSkip to content

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট: মেনু, টেবিল বুকিং আর অনলাইন অর্ডার এক জায়গায়

Metanoz টিম হালনাগাদ 7 মিনিটে পড়ুন ব্যবসা অনুযায়ী ওয়েবসাইট · By industry
রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট: মেনু, টেবিল বুকিং আর অনলাইন অর্ডার এক জায়গায়
সংক্ষেপে উত্তর

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে আটটি জিনিস অবশ্যই রাখুন: দামসহ মেনু, খোলার সময়, ঠিকানা ও ম্যাপ, এক চাপে কল, টেবিল বুকিং, অনলাইন অর্ডার, ভালো ছবি আর ইভেন্ট/ক্যাটারিংয়ের তথ্য। ফুড অ্যাপ নতুন গ্রাহক আনে, কিন্তু নিজের ওয়েবসাইটে নিয়মিত গ্রাহকেরা কমিশন ছাড়াই সরাসরি আপনার কাছে অর্ডার আর বুকিং করতে পারেন — আর গুগলে "কাছের রেস্টুরেন্ট" খোঁজা মানুষও আপনাকে খুঁজে পান। তৈরি রেস্টুরেন্ট টেমপ্লেট দিয়ে এক-দুই দিনেই এমন সাইট দাঁড় করানো যায়।

রেস্টুরেন্টের গ্রাহক সাধারণত তিনটি প্রশ্ন নিয়ে খোঁজেন: "আজ খোলা আছে?", "মেনুতে কী আছে, দাম কত?", আর "কোথায়, কীভাবে যাব?" ফেসবুক পেজে এই উত্তরগুলো পুরনো পোস্টের নিচে চাপা পড়ে যায়; ফুড অ্যাপে আপনার পুরো পরিচয় দেখানো যায় না। একটা গোছানো ওয়েবসাইট এই তিন প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় দেয়, আর সেখান থেকেই বুকিং বা অর্ডার হয়। এই লেখায় দেখাব রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে কী রাখবেন, কীভাবে সাজাবেন আর কীভাবে বানাবেন।

এই লেখায় যা আছে
  1. রেস্টুরেন্টের নিজের ওয়েবসাইট কেন দরকার
  2. যা অবশ্যই থাকবে
  3. মেনু সাজানোর নিয়ম
  4. টেবিল বুকিং
  5. অনলাইন অর্ডার আর ডেলিভারি
  6. ছবি: যা দেখে মানুষ আসেন
  7. গুগলে খুঁজে পাওয়া
  8. রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে সাধারণ ভুল
  9. ধাপে ধাপে রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট বানানো
  10. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

রেস্টুরেন্টের নিজের ওয়েবসাইট কেন দরকার

  • কমিশন ছাড়া অর্ডার: ফুড ডেলিভারি অ্যাপ প্রতিটি অর্ডারে কমিশন নেয়। নিয়মিত গ্রাহকেরা যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি অর্ডার করেন, সেই অংশটা আপনার থাকে। অ্যাপ বন্ধ করার দরকার নেই — দুটো একসাথে চলুক।
  • গুগলে খুঁজে পাওয়া: "ধানমন্ডিতে বিরিয়ানি" বা "কাছে ফ্যামিলি রেস্টুরেন্ট" লিখে খোঁজা মানুষ ওয়েবসাইট আর গুগল ম্যাপের প্রোফাইল দেখেই আসেন।
  • বুকিং গোছানো: ফোনে বা ইনবক্সে বুকিং নিলে ভুল হয়, দুই দলকে একই টেবিল দেওয়া হয়ে যায়। ওয়েবসাইটের বুকিং ফর্মে তারিখ, সময় আর কতজন — সব লেখা থাকে।
  • নিজের পরিচয়: আপনার রান্নার গল্প, শেফ, পরিবেশ আর বিশেষ পদ — যা অ্যাপের তালিকায় দেখানো যায় না।
  • ইভেন্ট আর ক্যাটারিং: জন্মদিন, অফিস পার্টি বা বিয়ের ক্যাটারিংয়ের জিজ্ঞাসা আলাদা পেজ থেকে সরাসরি আসে।

যা অবশ্যই থাকবে

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে অবশ্যই থাকা উচিত এমন আটটি অংশের চেকলিস্ট
রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটের আটটি জরুরি অংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হলো খোলার সময় আর মেনুর দাম। পুরনো মেনু বা ভুল সময় দেখে কেউ এসে ফিরে গেলে সেই গ্রাহক আর ফেরেন না। দাম বা সময় বদলালে ওয়েবসাইটে সেদিনই বদলান।

অনেক রেস্টুরেন্ট মেনুর একটা ছবি বা PDF তুলে দেয়। এতে তিনটি সমস্যা: ফোনে বড় করে পড়তে কষ্ট হয়, গুগল ছবির ভেতরের লেখা ঠিকমতো পড়তে পারে না, আর দাম বদলালে পুরো ছবি নতুন করে বানাতে হয়। তার বদলে মেনু লেখা হিসেবে সাজান:

  • ক্যাটাগরি: স্টার্টার, মেইন কোর্স, বিরিয়ানি/ভাত, ডেজার্ট, পানীয় — যেভাবে মানুষ ভাবেন।
  • প্রতিটি পদে: নাম, এক লাইনের বিবরণ (কী দিয়ে তৈরি, কতজনের জন্য), দাম আর সম্ভব হলে একটা ছবি।
  • বিশেষ চিহ্ন: ঝাল, নিরামিষ, শেফের পছন্দ বা নতুন — ছোট চিহ্ন দিয়ে।
  • প্যাকেজ: ফ্যামিলি প্যাক, অফিস লাঞ্চ বা সেট মেনু আলাদা করে দেখান।

বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় মেনু: পদের নাম দুই ভাষায় দিলে বাংলায় খোঁজা মানুষ আর বিদেশি অতিথি দুজনেই সুবিধা পান, আর গুগলে দুই ভাষার খোঁজেই আপনার মেনু আসতে পারে।

টেবিল বুকিং

ভালো বুকিং ফর্ম ছোট আর পরিষ্কার: তারিখ, সময়, কতজন, নাম আর ফোন নম্বর। সাথে একটা ঘর রাখুন "বিশেষ অনুরোধ" — জন্মদিনের কেক, শিশুর চেয়ার বা হুইলচেয়ার। বুকিং আসার পর SMS বা ফোনে কনফার্ম করুন, আর আগের দিন বা কয়েক ঘণ্টা আগে একটা মনে করিয়ে দেওয়ার বার্তা দিন — এতে বুকিং করে না আসার ঘটনা কমে। ভিড়ের সময় কত টেবিল অনলাইনে বুক করা যাবে, সেটা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, যাতে হঠাৎ আসা অতিথির জন্যও জায়গা থাকে।

একটি বার্গার রেস্টুরেন্টের ডেমো ওয়েবসাইটের হোমপেজ
ডেমো রেস্টুরেন্ট সাইট (burgerbari.metanoz.com): খোলার সময়, ফোন নম্বর আর অর্ডারের বোতাম প্রথম স্ক্রিনেই।

অনলাইন অর্ডার আর ডেলিভারি

ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার নিতে চাইলে আগে তিনটি সিদ্ধান্ত নিন:

  1. ডেলিভারি এলাকা: রেস্টুরেন্ট থেকে কত দূর পর্যন্ত গরম খাবার পৌঁছানো সম্ভব? এলাকা অনুযায়ী আলাদা চার্জ রাখুন।
  2. কে পৌঁছাবে: নিজের ডেলিভারি কর্মী, নাকি রাইড বা কুরিয়ার সেবা। খাবারের ক্ষেত্রে সময়টাই আসল।
  3. পেমেন্ট: ক্যাশ অন ডেলিভারির সাথে বিকাশ-নগদ রাখুন; বড় অর্ডার বা ক্যাটারিংয়ে অগ্রিম নেওয়া নিরাপদ। পেমেন্টের পথগুলো বিস্তারিত আছে ওয়েবসাইটে বিকাশ পেমেন্ট নেওয়ার নিয়ম লেখায়।

শুরুতে পুরো মেনু অনলাইন অর্ডারে না দিয়ে যে পদগুলো ভালোভাবে পাঠানো যায় (বিরিয়ানি, কাবাব, প্যাকেট মিল) সেগুলো দিয়ে শুরু করুন। খাবার পৌঁছানোর পর ঠান্ডা বা নষ্ট হলে সেই অভিজ্ঞতা পুরো রেস্টুরেন্টের সুনামে লাগে।

ছবি: যা দেখে মানুষ আসেন

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে ছবিই সবচেয়ে বেশি কাজ করে। পেশাদার ফটোগ্রাফার না থাকলেও দিনের আলোয়, জানালার পাশে, পরিষ্কার প্লেটে খাবারের ছবি তুলুন। খাবারের পাশাপাশি বসার জায়গা, পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর আর পরিবেশনের ছবি দিন — মানুষ জানতে চান জায়গাটা পরিবারের সাথে আসার মতো কি না। অতিথিদের ছবি দিলে অবশ্যই তাঁদের অনুমতি নিন। ছবির মাপ ছোট রাখুন, যাতে ফোনে সাইট দ্রুত খোলে।

গুগলে খুঁজে পাওয়া

রেস্টুরেন্টের বেশিরভাগ নতুন গ্রাহক আসেন লোকাল সার্চ থেকে। তিনটি কাজ করুন:

  • Google Business Profile: গুগল ম্যাপে রেস্টুরেন্ট যুক্ত করে যাচাই করুন, খোলার সময় আর ছবি দিন, আর ওয়েবসাইটের লিংক বসান। ধাপগুলো আছে গুগল ম্যাপে দোকান যুক্ত করার নিয়ম লেখায়।
  • সব জায়গায় একই তথ্য: নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর ওয়েবসাইট, ফেসবুক আর ম্যাপে হুবহু এক রাখুন।
  • এলাকার নামসহ লেখা: হোমপেজ আর "আমাদের সম্পর্কে" পেজে এলাকা ও বিশেষ খাবারের নাম স্বাভাবিকভাবে লিখুন — যেমন "মিরপুর ১০-এ কাচ্চি ও কাবাব"।

এলাকার গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আরও কৌশল পড়ুন লোকাল SEO লেখায়।

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইটে সাধারণ ভুল

  • প্রথম স্ক্রিনে শুধু বড় ছবি: সুন্দর ছবির নিচে খোলার সময়, ফোন আর মেনুর বোতাম চাপা পড়ে যায়। এই তিনটি যেন স্ক্রল না করেই দেখা যায়।
  • অটো-প্লে গান বা ভারী ভিডিও: ফোনের ডেটা খরচ করে, সাইট ধীর করে, আর বেশিরভাগ মানুষ বিরক্ত হয়ে বের হয়ে যান।
  • ঈদ বা বিশেষ দিনের সময়সূচি না দেওয়া: ছুটির দিনে খোলা কি না, ইফতারের প্যাকেজ কবে থেকে — এগুলো আগে থেকে জানান।
  • বুকিংয়ের উত্তর না দেওয়া: অনলাইন বুকিং এসে পড়ে থাকলে গ্রাহক এসে বিব্রত হন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বুকিং দেখার দায়িত্ব কাউকে দিন।

বুকিং আর রিমাইন্ডার SMS-এর মতো কাজের জন্য কোন অ্যাপ কোন প্ল্যানে আছে, দেখুন Metanoz অ্যাপের তালিকায়।

ধাপে ধাপে রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট বানানো

  1. তথ্য জোগাড়: লোগো, মেনু (নাম, বিবরণ, দাম), খোলার সময়, ঠিকানা, ফোন, ২০–৩০টি ভালো ছবি।
  2. টেমপ্লেট বাছাই: আপনার রেস্টুরেন্টের ধরনের সাথে মেলে এমন ডিজাইন — ফাস্ট ফুড, ফাইন ডাইনিং, ক্যাফে, বেকারি বা ক্যাটারিং।
  3. মেনু ও বুকিং চালু: মেনু ক্যাটাগরি অনুযায়ী তুলুন, বুকিং ফর্ম আর খোলার সময় ঠিক করুন।
  4. অর্ডার ও পেমেন্ট: চাইলে অনলাইন অর্ডার, ডেলিভারি এলাকা ও চার্জ, ক্যাশ অন ডেলিভারি আর বিকাশ-নগদ।
  5. ফোনে পরীক্ষা: নিজের ফোনে বুকিং আর অর্ডার দিয়ে দেখুন কোথাও আটকায় কি না।
  6. প্রচার: টেবিলে QR কোড, ফেসবুক পেজে লিংক, ম্যাপের প্রোফাইলে ওয়েবসাইট।
ফোনে একটি রেস্টুরেন্টের ডেমো ওয়েবসাইট — মেনু আর টেবিল বুকিংয়ের বোতাম
বেশিরভাগ গ্রাহক ফোনে দেখবেন — মেনু আর বুকিং যেন এক চাপে পাওয়া যায়।

Metanoz-এ রেস্টুরেন্টের জন্য ২৪টি টেমপ্লেট আছে, আর রেস্টুরেন্ট অ্যাপে খাবারের মেনু, টেবিল বুকিং, খোলার সময় আর ডেলিভারি এক জায়গায় সামলানো যায় (Business প্ল্যান; দাম জানতে যোগাযোগ করুন)। ডেমো রেস্টুরেন্ট সাইটগুলো ঘুরে দেখতে পারেন রেস্টুরেন্ট টেমপ্লেট পেজে। অন্য ধরনের ব্যবসার ওয়েবসাইটে কী লাগে তা জানতে দেখুন কোন ব্যবসার জন্য কেমন ওয়েবসাইট।

নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন

টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।

বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ফুড অ্যাপ থাকলে কি রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট দরকার?

দরকার, কারণ দুটোর কাজ আলাদা। অ্যাপ নতুন গ্রাহক আনে কমিশনের বিনিময়ে; ওয়েবসাইটে মেনু, বুকিং, ইভেন্ট আর নিয়মিত গ্রাহকের সরাসরি অর্ডার আপনার নিজের হাতে থাকে।

মেনু কি ছবি হিসেবে দেব নাকি লেখা হিসেবে?

লেখা হিসেবে দিন, সাথে পদের ছবি। লেখা মেনু ফোনে পড়া সহজ, গুগল পড়তে পারে আর দাম বদলানো সহজ। চাইলে প্রিন্ট মেনুর PDF বাড়তি হিসেবে রাখতে পারেন।

ওয়েবসাইট থেকে টেবিল বুকিং কীভাবে কনফার্ম করব?

বুকিং এলে ফোন বা SMS-এ কনফার্ম করুন, আর নির্ধারিত সময়ের আগে একটা মনে করিয়ে দেওয়ার বার্তা দিন। এতে বুকিং করে না আসার ঘটনা কমে।

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ?

কাস্টম ডেভেলপমেন্টে বাজারে প্রচলিত আনুমানিক খরচ ৳৩০,০০০–৮০,০০০, ফিচার অনুযায়ী কম-বেশি। ওয়েবসাইট বিল্ডারে মাসিক খরচে হয়; বিস্তারিত হিসাব আছে ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ লেখায়।

ছোট টং দোকান বা হোম কিচেনেরও কি ওয়েবসাইট লাগে?

বাধ্যতামূলক নয়, তবে মেনু আর অর্ডারের একটা পরিষ্কার পেজ থাকলে ফেসবুকের প্রশ্ন কমে আর অর্ডার গোছানো থাকে। ছোট পরিসরে শুরু করে প্রয়োজনে বাড়ানো যায়।

ওয়েবসাইটে খাবারের দাম কত ঘন ঘন হালনাগাদ করা উচিত?

দাম বদলালে সেদিনই। পুরনো দাম দেখে অর্ডার করা গ্রাহকের সাথে বিল নিয়ে তর্ক হয়, আর আস্থা নষ্ট হয়।

রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট অনলাইন মেনু টেবিল বুকিং restaurant website Bangladesh রেস্টুরেন্ট অনলাইন অর্ডার
Metanoz টিম
Metanoz বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার। আমাদের টিম নিজেরা প্ল্যাটফর্ম বানায় ও চালায়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখে ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। প্রশ্ন থাকলে হেল্প সেন্টার দেখুন বা যোগাযোগ করুন।
শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp LinkedIn

আমরা এখন অফিসের বাইরেWe are outside office hours

অফিস সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা। নম্বর রেখে যান, অফিস খুললেই আমরা কল করব।Office hours: Saturday–Thursday, 9 AM – 9 PM. Leave your number and we will call you when we open.

তবুও WhatsApp-এ লিখুনWrite on WhatsApp anyway