মূল লেখায় যানSkip to content

কোন ব্যবসার জন্য কেমন ওয়েবসাইট: ১০ ধরনের ব্যবসার গাইড

Metanoz টিম হালনাগাদ 11 মিনিটে পড়ুন ব্যবসা অনুযায়ী ওয়েবসাইট · By industry
কোন ব্যবসার জন্য কেমন ওয়েবসাইট: ১০ ধরনের ব্যবসার গাইড
সংক্ষেপে উত্তর

ব্যবসার ওয়েবসাইট কেমন হবে, তা ঠিক করে আপনার ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য: দোকান চায় অর্ডার (পণ্য, কার্ট, বিকাশ-নগদ, ক্যাশ অন ডেলিভারি), রেস্টুরেন্ট চায় মেনু আর বুকিং, স্কুল চায় নোটিশ আর ভর্তি, ক্লিনিক চায় ডাক্তারের সময় আর সিরিয়াল, সেবা প্রতিষ্ঠান চায় কোটেশন বা কল, আর নিউজ বা ব্লগ চায় পাঠক। সব সাইটে হোম, আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ আর নীতিমালা লাগে; বাকি পেজ আর ফিচার বাছুন নিজের ধরন দেখে।

আপনার ব্যবসার সাথে মেলে এমন ধরন দেখুন: ব্যবসা অনুযায়ী ওয়েবসাইট।

"একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে দিন" — এই অনুরোধের পেছনে একেক ব্যবসার চাওয়া একেক রকম। কাপড়ের অনলাইন দোকানের দরকার চেকআউট আর কুরিয়ার, কোচিং সেন্টারের দরকার নোটিশ বোর্ড, ডাক্তারের দরকার সিরিয়াল। অন্যের সাইট দেখে হুবহু বানালে প্রায়ই দেখা যায় দরকারি জিনিস নেই, অথচ অপ্রয়োজনীয় পেজে ভর্তি। এই গাইডে ১০ ধরনের ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা করে বলা হলো: কোন পেজ লাগবে, কোন ফিচার জরুরি, আর কোন ভুলগুলো সাধারণত হয়। নিজের ধরনটা পড়ুন, তারপর বিস্তারিত গাইডের লিংক ধরে এগোন।

এই লেখায় যা আছে
  1. এক নজরে টেবিল
  2. ১. অনলাইন দোকান
  3. ২. একটি পণ্যের ফানেল
  4. ৩. রেস্টুরেন্ট
  5. ৪. স্কুল ও কোচিং
  6. ৫. ক্লিনিক ও ডাক্তার
  7. ৬. নিউজ পোর্টাল
  8. ৭. রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন
  9. ৮. পোর্টফোলিও
  10. ৯. কোম্পানি ও সার্ভিস প্রতিষ্ঠান
  11. ১০. ব্লগ
  12. একাধিক ধরন মিলে গেলে কী করবেন
  13. সব ধরনের সাইটে যে ভুলগুলো একই
  14. প্রথম সপ্তাহের পরিকল্পনা
  15. কীভাবে বাছাই করে শুরু করবেন
  16. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

এক নজরে টেবিল

প্রথমে পুরো ছবিটা দেখে নিন। প্রতিটি ধরনের সাইটের একটা প্রধান কাজ আছে; ডিজাইন আর ফিচার সেই কাজকে সহজ করার জন্য।

১০ ধরনের ব্যবসার ওয়েবসাইটের প্রধান লক্ষ্য আর জরুরি ফিচারের টেবিল
প্রতিটি ধরনের সাইটের একটা প্রধান কাজ আছে; ফিচার বাছাই করুন সেই কাজ দেখে।

সব ধরনের ওয়েবসাইটে কয়েকটি জিনিস একই থাকে: হোমপেজ, আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ (ফোন, WhatsApp, ঠিকানা, ম্যাপ), প্রশ্নোত্তর আর নীতিমালা; ফোনে ঠিকমতো দেখা; আর https। এগুলোর ওপর প্রতিটি ধরন নিজের দরকারি অংশ যোগ করে — নিচে একে একে দেখুন।

১. অনলাইন দোকান

লক্ষ্য: ভিজিটর যেন ইনবক্সে দাম জিজ্ঞেস না করে নিজেই অর্ডার দেন।

  • জরুরি পেজ: ক্যাটাগরি, প্রতিটি পণ্যের পেজ (ছবি, দাম, সাইজ, স্টক), কার্ট ও চেকআউট, ডেলিভারি তথ্য, রিটার্ন-রিফান্ড নীতি।
  • জরুরি ফিচার: বিকাশ-নগদ আর ক্যাশ অন ডেলিভারি; ঢাকার ভিতরে ও বাইরে আলাদা ডেলিভারি চার্জ; কুরিয়ারে অর্ডার পাঠানো; কুপন; অর্ডার কনফার্মেশন SMS।
  • পরে যোগ করুন: অসম্পূর্ণ অর্ডার রিকভারি, লয়্যালটি পয়েন্ট, কার্ড পেমেন্ট গেটওয়ে।

সাধারণ ভুল: ডেলিভারি চার্জ শেষ ধাপে গিয়ে দেখানো, ঝাপসা বা অন্যের ছবি, আর সাইজ চার্ট না দেওয়া। পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে আছে অনলাইন দোকান খোলার নিয়ম গাইডে।

২. একটি পণ্যের ফানেল

লক্ষ্য: ফেসবুক বিজ্ঞাপন থেকে আসা ভিজিটরকে এক পেজেই অর্ডার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।

যাঁরা একটি বা দুটি পণ্য বিক্রি করেন — একটা তেল, একটা গ্যাজেট, একটা বই — তাঁদের জন্য পুরো দোকানের চেয়ে একটা লম্বা ল্যান্ডিং পেজ বেশি কাজ করে। পেজে ওপর থেকে নিচে থাকে: সমস্যা আর সমাধান, পণ্যের ছবি ও ভিডিও, কী পাবেন, দাম ও অফার, আসল গ্রাহকের মতামত, প্রশ্নোত্তর, আর পেজের নিচেই ছোট অর্ডার ফর্ম (নাম, ফোন, ঠিকানা)।

  • জরুরি ফিচার: এক পেজে অর্ডার ফর্ম, ক্যাশ অন ডেলিভারি, ফোনে কনফার্মেশন, বিজ্ঞাপন মাপার জন্য Facebook Pixel।
  • সাধারণ ভুল: মেনু আর অনেক লিংক রেখে ভিজিটরকে পেজ থেকে বের হওয়ার পথ দেওয়া; অতিরঞ্জিত দাবি ("৭ দিনে গ্যারান্টি ফল")।

কীভাবে বানাবেন আর কোন অংশ কোথায় রাখবেন, তা আছে একটি পণ্যের ল্যান্ডিং পেজ বানানোর গাইডে।

৩. রেস্টুরেন্ট

লক্ষ্য: ভিজিটর মেনু আর দাম দেখে টেবিল বুক করবেন বা অর্ডার দেবেন।

  • জরুরি পেজ: দামসহ মেনু (ছবির PDF নয়, পড়া যায় এমন লেখা), টেবিল বুকিং, খোলার সময় ও ছুটির দিন, ঠিকানা ও ম্যাপ, খাবার আর পরিবেশের ছবি।
  • জরুরি ফিচার: টেবিল বুকিং ফর্ম, ডেলিভারি দিলে এলাকা আর চার্জ, কল ও WhatsApp বোতাম।
  • মৌসুমি কাজ: রমজানে ইফতার মেনু, ঈদ বা বিশেষ দিনের অফার আগে থেকে সাইটে দিন।

সাধারণ ভুল: পুরনো দাম রেখে দেওয়া আর মেনু শুধু ছবি হিসেবে দেওয়া — ফোনে পড়া যায় না, গুগলও পড়তে পারে না। বিস্তারিত পড়ুন রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট গাইডে।

৪. স্কুল ও কোচিং

লক্ষ্য: অভিভাবক আর শিক্ষার্থীরা নোটিশ, ভর্তি আর ফলাফলের তথ্য ফোন না করেই পাবেন।

  • জরুরি পেজ: নোটিশ বোর্ড (তারিখসহ), ভর্তি তথ্য ও অনলাইন ফর্ম, শিক্ষক পরিচিতি, কোর্স বা ক্লাস ও ফি, ফলাফল বা সাফল্য, গ্যালারি, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস।
  • জরুরি ফিচার: নোটিশ প্রকাশ যেন অফিসের যেকোনো কর্মী সহজে করতে পারেন; ভর্তি ফর্ম; ইভেন্ট ক্যালেন্ডার।
  • সাধারণ ভুল: নোটিশ মাসের পর মাস হালনাগাদ না হওয়া — অভিভাবকেরা আবার ফোন করা শুরু করেন, আর সাইটের ওপর আস্থা কমে।

কে নোটিশ দেবেন আর কীভাবে সাইট চালু রাখবেন, তা আছে স্কুল ও কোচিং সেন্টারের ওয়েবসাইট গাইডে। মাদ্রাসার জন্যও কাঠামো প্রায় একই; ভর্তি, নোটিশ আর অনুদানের তথ্য সেখানে বাড়তি গুরুত্ব পায়।

৫. ক্লিনিক ও ডাক্তার

লক্ষ্য: রোগী আগে থেকে জানবেন কোন ডাক্তার কবে বসেন, আর লাইনে না দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নেবেন।

  • জরুরি পেজ: ডাক্তারদের পরিচিতি (ডিগ্রি, বিশেষজ্ঞতা, BMDC নিবন্ধন নম্বর যদি দিতে চান), চেম্বারের সময়সূচি, সেবা ও পরীক্ষার তালিকা, ঠিকানা ও যাওয়ার পথ।
  • জরুরি ফিচার: অনলাইন সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট, SMS রিমাইন্ডার, জরুরি ফোন নম্বর ওপরে।
  • সতর্কতা: রোগ সারানোর নিশ্চয়তা বা অতিরঞ্জিত দাবি লিখবেন না; রোগীর ছবি বা তথ্য অনুমতি ছাড়া দেবেন না।

বিস্তারিত আছে ক্লিনিক ও ডাক্তারের ওয়েবসাইট গাইডে।

ফোনে একটি ক্লিনিক ডেমো ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট
ক্লিনিক, স্কুল বা রেস্টুরেন্ট — ধরন যা-ই হোক, বেশিরভাগ ভিজিটর সাইটটা ফোনেই দেখবেন।

৬. নিউজ পোর্টাল

লক্ষ্য: পাঠক দ্রুত খবর পাবেন, বারবার ফিরে আসবেন।

  • জরুরি পেজ: বিভাগ (জাতীয়, রাজনীতি, খেলা, জেলা ইত্যাদি), প্রতিটি খবরের পেজ, সম্পাদক ও প্রকাশকের তথ্য, যোগাযোগ, বিজ্ঞাপনের তথ্য।
  • জরুরি ফিচার: দ্রুত লোড হওয়া পেজ (বিশেষ করে ফোনে), রিপোর্টারদের আলাদা লগইন ও ভূমিকা, শিরোনাম-বিবরণ ঠিক রাখা যাতে গুগলে খবর ঠিকমতো দেখায়, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার।
  • নিয়মকানুন: অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধনের নিয়ম আছে, আর তা সময়ে সময়ে বদলায়। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয় — সর্বশেষ নিয়ম সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে মিলিয়ে নিন।

ডিজাইন, ক্যাটাগরি আর রিপোর্টার ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত পড়ুন নিউজ পোর্টাল বানানোর নিয়ম লেখায়।

৭. রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন

লক্ষ্য: মানুষ জানবেন আপনি কে, কী করেছেন, কী করতে চান — আর যুক্ত হওয়ার পথ পাবেন।

  • জরুরি পেজ: পরিচিতি ও জীবনী, কার্যক্রম ও উন্নয়নের খবর (ছবি-তারিখসহ), ইভেন্ট, ভিডিও, গ্যালারি, এলাকার সমস্যা জানানোর ফর্ম, স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার ফর্ম।
  • এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন: কাজের এলাকা, প্রকল্প, বার্ষিক প্রতিবেদন, পরিচালনা পর্ষদ আর অনুদানের হিসাব — স্বচ্ছতাই এখানে মূল কথা। এনজিওর ওয়েবসাইট নিয়ে আমাদের আলাদা একটি গাইডও আছে।
  • সতর্কতা: নির্বাচনী প্রচারে অনলাইন প্রচারণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম থাকে; প্রচারের সময় সর্বশেষ আচরণবিধি মিলিয়ে নিন।

রাজনৈতিক সাইটের পেজ আর কার্যক্রম সাজানোর বিস্তারিত পাবেন রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনের ওয়েবসাইট গাইডে।

৮. পোর্টফোলিও

লক্ষ্য: ফ্রিল্যান্সার, ডিজাইনার, ফটোগ্রাফার বা শিল্পী নিজের কাজ দেখিয়ে ক্লায়েন্ট পাবেন।

  • জরুরি পেজ: বাছাই করা ৬–১২টি সেরা কাজ (প্রতিটির ছোট গল্প: সমস্যা, আপনার কাজ, ফল), সেবা ও দামের ধারণা, নিজের পরিচিতি, যোগাযোগ।
  • জরুরি ফিচার: বড় ছবির গ্যালারি যা ফোনেও দ্রুত খোলে, যোগাযোগ বা কোটেশন ফর্ম, ইংরেজি সংস্করণ (বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য)।
  • সাধারণ ভুল: সব কাজ ঢেলে দেওয়া; কম কিন্তু সেরা কাজ বেশি কাজ করে। ক্লায়েন্টের কাজ দেখানোর আগে অনুমতি নিন।

বিস্তারিত আছে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট গাইডে।

৯. কোম্পানি ও সার্ভিস প্রতিষ্ঠান

লক্ষ্য: সম্ভাব্য গ্রাহক বিশ্বাস করবেন আর কল, কোটেশন বা মিটিংয়ের অনুরোধ পাঠাবেন।

এই দলে পড়ে অনেক ধরনের ব্যবসা: নির্মাণ ও ইন্টেরিয়র, আইটি ও মার্কেটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, পরামর্শক, কারখানা, বিউটি পার্লার, রিয়েল এস্টেট।

  • জরুরি পেজ: প্রতিটি সেবার আলাদা পেজ, কাজের নমুনা বা প্রকল্প, ক্লায়েন্ট ও পার্টনার (অনুমতি নিয়ে), টিম, আমাদের সম্পর্কে, ক্যারিয়ার (নিয়োগ দিলে)।
  • জরুরি ফিচার: কোটেশন অনুরোধের ফর্ম, কল ও WhatsApp বোতাম, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা বুকিং (পার্লার, পরামর্শক), দামের প্যাকেজ টেবিল।
  • সাধারণ ভুল: "আমরা সব ধরনের সেবা দিই" লিখে কোনো সেবার বিস্তারিত না দেওয়া; ট্রেড লাইসেন্স, ঠিকানা আর আসল ফোন নম্বর লুকিয়ে রাখা।

১০. ব্লগ

লক্ষ্য: নিয়মিত লেখা দিয়ে পাঠক, আস্থা আর গুগল থেকে ভিজিটর আনা।

  • জরুরি পেজ: লেখার তালিকা, বিভাগ, লেখক পরিচিতি, আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ।
  • জরুরি ফিচার: সহজে লেখা প্রকাশ, প্রতিটি লেখার শিরোনাম ও বিবরণ (SEO), নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব, ফেসবুকে শেয়ার।
  • মনে রাখুন: ব্যবসার সাইটে আলাদা ব্লগ না বানিয়ে একটা "ব্লগ" অংশ যোগ করাই অনেক সময় ভালো — একই ডোমেইনে লেখা গুগল থেকে ভিজিটর আনে, আর পাঠক সরাসরি আপনার সেবা বা পণ্য দেখতে পান।

একাধিক ধরন মিলে গেলে কী করবেন

অনেক ব্যবসা এক ধরনে পড়ে না: রেস্টুরেন্ট যারা ফ্রোজেন খাবারও অনলাইনে বেচে, কোচিং যারা বইও বিক্রি করে, পার্লার যারা প্রসাধনী বেচে। এই ক্ষেত্রে নিয়মটা সহজ:

  1. প্রধান আয় কোথা থেকে, সেটা দিয়ে শুরু করুন। সেই ধরনের টেমপ্লেট নিন।
  2. দ্বিতীয় কাজটা একটা অংশ হিসেবে যোগ করুন। যেমন রেস্টুরেন্ট সাইটে একটা "অনলাইন শপ" পেজ, কোচিং সাইটে বইয়ের তালিকা।
  3. হোমপেজে প্রধান বোতাম একটাই রাখুন। দ্বিতীয় কাজের জন্য মেনুতে লিংক দিন।

সব ধরনের সাইটে যে ভুলগুলো একই

ধরন আলাদা হলেও কিছু ভুল প্রায় সব সাইটে দেখা যায়। নিজের সাইট প্রকাশের আগে এগুলো মিলিয়ে নিন:

  • প্রধান কাজটা লুকানো: দোকানে "অর্ডার করুন", ক্লিনিকে "সিরিয়াল নিন", কোচিংয়ে "ভর্তি ফর্ম" — এই বোতাম হোমপেজের প্রথম পর্দায় না থাকলে অনেকে খুঁজেই পান না।
  • ফোন নম্বর ছবির ভেতরে: ছবিতে লেখা নম্বর চাপলে কল যায় না, কপিও হয় না। নম্বর লেখা হিসেবে দিন।
  • পুরনো তথ্য: গত বছরের নোটিশ, শেষ হয়ে যাওয়া অফার, বদলে যাওয়া দাম বা সময় — এগুলো বিশ্বাস নষ্ট করে।
  • টেমপ্লেটের নমুনা লেখা: ডেমোর নাম, নমুনা ঠিকানা বা ইংরেজি নমুনা লেখা থেকে গেলে সাইট অসম্পূর্ণ দেখায়।
  • শুধু কম্পিউটারে পরীক্ষা: বেশিরভাগ ভিজিটর ফোন থেকে আসেন; প্রতিটি পেজ ফোনে খুলে দেখুন।

প্রথম সপ্তাহের পরিকল্পনা

ধরন যা-ই হোক, প্রথম সপ্তাহটা এভাবে ভাগ করলে কাজ এগোয়, আটকে থাকে না:

  1. দিন ১: প্রধান লক্ষ্য এক লাইনে লিখুন, ওপরের তালিকা থেকে নিজের ধরনের পেজগুলো বাছুন।
  2. দিন ২: ছবি, দাম বা ফি, সময়সূচি, ঠিকানা আর বারবার আসা প্রশ্ন এক ফোল্ডারে জোগাড় করুন।
  3. দিন ৩–৪: ধরন অনুযায়ী টেমপ্লেট নিয়ে হোমপেজ আর মূল পেজগুলোতে নিজের লেখা ও ছবি বসান।
  4. দিন ৫: প্রধান ফিচারটা চালু করুন — অর্ডার, বুকিং, সিরিয়াল বা ভর্তি ফর্ম — আর নিজে একবার পরীক্ষা করুন।
  5. দিন ৬: ফোনে প্রতিটি পেজ দেখুন, দু-একজন পরিচিতকে দিয়ে ব্যবহার করিয়ে মতামত নিন।
  6. দিন ৭: প্রকাশ করুন, ফেসবুক পেজ, WhatsApp আর ভিজিটিং কার্ডে ঠিকানা দিন, আর কে কবে সাইট হালনাগাদ করবেন তা ঠিক করুন।

কীভাবে বাছাই করে শুরু করবেন

নিজের ধরন ঠিক হলে কাজ তিন ধাপে:

  1. ধরন অনুযায়ী টেমপ্লেট নিন। ব্যবসার ধরনের জন্য তৈরি টেমপ্লেটে দরকারি পেজ আর সেকশন আগে থেকেই সাজানো থাকে।
  2. দরকারি ফিচার চালু করুন, বাকিটা পরে। প্রথম দিনেই সব না চালিয়ে প্রধান লক্ষ্যের ফিচারটা দিয়ে শুরু করুন।
  3. প্ল্যান মিলিয়ে নিন। কোন ফিচার কোন প্ল্যানে আছে, তা আগেই দেখে নিন, যাতে মাঝপথে চমকে যেতে না হয়।
Metanoz-এর টেমপ্লেট গ্যালারির স্ক্রিনশট, যেখানে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিভাগ দেখা যায়
ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সাজানো টেমপ্লেট থেকে শুরু করলে প্রয়োজনীয় পেজ আর সেকশন আগে থেকেই থাকে।

Metanoz-এ ১০ ধরনের ব্যবসার জন্য ৩২০টির বেশি টেমপ্লেট আছে; অক্টোবর ২০২৬-এ ভাগগুলো ছিল এমন: অনলাইন দোকান ৫৮, একটি পণ্যের ফানেল ৯, নিউজ ও ম্যাগাজিন ২২, ব্লগ ২, কোম্পানি ও বিজনেস ১৪০, পোর্টফোলিও ১৮, রেস্টুরেন্ট ২৪, স্কুল ও শিক্ষা ২০, মেডিকেল ও ক্লিনিক ১৭, রাজনৈতিক ও সংগঠন ১১ — সব দেখুন টেমপ্লেট গ্যালারিতে। ফিচারগুলো আসে অ্যাপ হিসেবে, যা চালু-বন্ধ করা যায় (সব অ্যাপের তালিকা)। কোন প্ল্যান কার জন্য:

প্ল্যানকোন ধরনের সাইটে সাধারণত যথেষ্ট
Starterনিউজ, ব্লগ, পোর্টফোলিও, পরিচিতিমূলক কোম্পানি বা রাজনৈতিক সাইট — ব্লগ ও খবর, গ্যালারি, ভিডিও, ইভেন্ট, টিম, কোটেশন অনুরোধ
Businessঅনলাইন দোকান, রেস্টুরেন্ট (মেনু ও টেবিল বুকিং), স্কুল ও কোচিং (কোর্স), ক্লিনিক (ডাক্তার সিরিয়াল), বুকিং ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সার্ভিস, অনুদান
Premiumযাঁদের বিক্রি বাড়ানোর টুল (অসম্পূর্ণ অর্ডার রিকভারি, পপআপ, ফানেল), CRM, অফলাইন দোকান (POS) বা ড্রপশিপ লাগে

প্রতিটি অ্যাপ কোন প্ল্যানে আছে, তার পূর্ণ তালিকা মূল্য পেজে। প্রথম ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগে না; পরিশোধ বিকাশ, নগদ বা রকেটে।

যেখানে বিল্ডার যথেষ্ট নয়: হাসপাতালের পূর্ণ রোগী ব্যবস্থাপনা, স্কুলের পূর্ণ ফলাফল-হিসাব সফটওয়্যার বা ব্যাংকিং ধরনের জটিল সিস্টেম লাগলে আলাদা বিশেষায়িত সফটওয়্যার বা ডেভেলপার দরকার হতে পারে। ওয়েবসাইট বিল্ডার সেই সিস্টেমের পাশে সামনের সাইট হিসেবে কাজ করতে পারে।

নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন

টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।

বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ছোট ব্যবসার জন্য কোন ধরনের ওয়েবসাইট সবচেয়ে ভালো?

যেটা আপনার প্রধান লক্ষ্য পূরণ করে। পণ্য বিক্রি করলে অনলাইন দোকান, সেবা দিলে কোটেশন বা বুকিংসহ কোম্পানি সাইট, একটি পণ্য হলে ল্যান্ডিং পেজ। লক্ষ্য না মিলিয়ে সুন্দর ডিজাইন বাছলে সাইট কাজ করে না।

কোম্পানির ওয়েবসাইট আর অনলাইন দোকানের পার্থক্য কী?

কোম্পানির সাইট বিশ্বাস তৈরি করে আর কল বা কোটেশন আনে; অনলাইন দোকানে গ্রাহক সাইটেই পণ্য বেছে অর্ডার আর পেমেন্ট করেন। দোকানে কার্ট, চেকআউট, ডেলিভারি চার্জ আর পেমেন্ট ব্যবস্থা লাগে।

একই সাইটে কি দোকান আর ব্লগ দুটোই রাখা যায়?

হ্যাঁ, আর অনেক সময় সেটাই ভালো। দোকানের সাইটে ব্লগ যোগ করলে গুগল থেকে ভিজিটর আসে আর তাঁরা সরাসরি পণ্য দেখতে পান।

পরে কি ওয়েবসাইটের ধরন বদলানো যায়?

বেশিরভাগ বিল্ডারে টেমপ্লেট বদলানো আর নতুন ফিচার যোগ করা যায়। Metanoz-এ টেমপ্লেট বদলানো যায় আর অ্যাপ চালু-বন্ধ করা যায়; বড় বদলের আগে ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন।

স্কুল বা ক্লিনিকের সাইট কি ছোট ব্যবসার সাইটের চেয়ে কঠিন?

খুব বেশি না। কঠিন অংশ ডিজাইন নয়, নিয়মিত হালনাগাদ — নোটিশ, ডাক্তারের সময়, ফলাফল। কে, কবে হালনাগাদ করবেন তা আগে থেকে ঠিক করুন।

রাজনৈতিক বা এনজিওর সাইটে কি অনুদান নেওয়া যায়?

অনুদানের ফিচার দিয়ে বিকাশ-নগদ বা অনলাইনে দান নেওয়া যায়। তবে অনুদান নেওয়ার আইনি নিয়ম প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী আলাদা; এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয় — সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মিলিয়ে নিন।

ব্যবসার ওয়েবসাইট কোম্পানির ওয়েবসাইট ওয়েবসাইটের ধরন কোন ব্যবসার জন্য কোন ওয়েবসাইট ওয়েবসাইটে কী ফিচার লাগে
Metanoz টিম
Metanoz বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার। আমাদের টিম নিজেরা প্ল্যাটফর্ম বানায় ও চালায়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখে ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। প্রশ্ন থাকলে হেল্প সেন্টার দেখুন বা যোগাযোগ করুন।
শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp LinkedIn

আমরা এখন অফিসের বাইরেWe are outside office hours

অফিস সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা। নম্বর রেখে যান, অফিস খুললেই আমরা কল করব।Office hours: Saturday–Thursday, 9 AM – 9 PM. Leave your number and we will call you when we open.

তবুও WhatsApp-এ লিখুনWrite on WhatsApp anyway