ছোট অনলাইন দোকানের ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট তিনটি সংখ্যায় দাঁড়ায়: হাতে কত আছে, বিক্রির জন্য কত খালি, আর কোন সীমায় নামলে নতুন মাল আনবেন। প্রতিটি সাইজ-রঙের স্টক আলাদা রাখুন, অনলাইন আর দোকানের বিক্রি একটিই হিসাবে লিখুন, আর সপ্তাহে একবার দ্রুত চলা পণ্যগুলো হাতে গুনে মিলিয়ে নিন। এতেই স্টক শেষ হয়ে অর্ডার বাতিল আর অবিক্রিত মাল জমে থাকা — দুটো ক্ষতিই অনেক কমে।
শুরুর দিকে স্টকের হিসাব মাথায় রাখা যায়। কিন্তু পণ্য ২০টি থেকে ১০০টি হলে, প্রতিটিতে তিনটি সাইজ আর চারটি রং যোগ হলে, আর ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও দোকান থেকে একসাথে অর্ডার আসতে থাকলে — হিসাব গুলিয়ে যায়। তখনই ঘটে পরিচিত সমস্যাগুলো: অর্ডার কনফার্ম করার পর দেখা গেল মাল নেই, আবার কোনো পণ্য মাসের পর মাস তাকে পড়ে আছে। এই লেখায় কোনো জটিল সফটওয়্যার ছাড়াই ছোট দোকানের ইনভেন্টরি সামলানোর একটি সহজ পদ্ধতি দেখাব, যা খাতা, স্প্রেডশিট বা ওয়েবসাইট — যেকোনোটায় চালানো যায়।
এই লেখায় যা আছে
ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট কেন দরকার
স্টকের ভুল দুই দিক থেকে টাকা নষ্ট করে।
- কম স্টক: ক্রেতা অর্ডার দিলেন, আপনি কনফার্ম করলেন, তারপর দেখলেন মাল নেই। অর্ডার বাতিল হলো, ক্রেতা বিরক্ত হলেন, আর বিজ্ঞাপনে খরচ করা টাকাও গেল। বারবার এমন হলে ক্রেতার আস্থা কমে।
- বেশি স্টক: যে পণ্য চলে না, তাতে আপনার পুঁজি আটকে থাকে। কাপড়ের ডিজাইন পুরনো হয়, খাবার বা প্রসাধনীর মেয়াদ শেষ হয়, ইলেকট্রনিক্সের নতুন মডেল আসে। শেষে লোকসানে ছাড়তে হয়।
- ভুল হিসাব: কত মাল আছে জানা না থাকলে লাভ-ক্ষতির হিসাবও মেলে না। কোন পণ্য আসলে লাভ দিচ্ছে, সেটাই বোঝা যায় না।
ছোট ব্যবসায় পুঁজি সীমিত, তাই এই ক্ষতিগুলো বড় কোম্পানির চেয়ে বেশি লাগে। ভালো খবর হলো, সমাধানও সহজ — নিয়মিত কয়েকটি সংখ্যা ঠিক রাখা।
স্টকের তিনটি সংখ্যা
প্রতিটি পণ্যের (আর প্রতিটি সাইজ-রঙের) জন্য তিনটি সংখ্যা জানুন:

১. হাতে আছে
আপনার গুদাম, দোকান বা ঘরে আসলে কত পিস আছে। এটা আসে হাতে গোনা থেকে। নতুন মাল এলে যোগ করুন, পার্সেল পাঠালে বাদ দিন, ক্ষতিগ্রস্ত মাল আলাদা করে লিখে বাদ দিন।
২. বিক্রির জন্য খালি
হাতে থাকা মাল থেকে কনফার্ম হওয়া কিন্তু এখনো পাঠানো হয়নি এমন অর্ডার বাদ দিলে যা থাকে। ওয়েবসাইটে এই সংখ্যাটাই দেখানো উচিত। ধরুন হাতে ৪০ পিস, আর ৬টি অর্ডার প্যাক হওয়ার অপেক্ষায় — তাহলে নতুন ক্রেতার জন্য খালি ৩৪ পিস।
৩. আবার অর্ডারের সীমা
স্টক কোন সংখ্যার নিচে নামলে সরবরাহকারীকে নতুন অর্ডার দেবেন। সহজ হিসাব: দিনে গড়ে কত বিক্রি × নতুন মাল আসতে কত দিন লাগে, সাথে কয়েক দিনের বাড়তি নিরাপত্তা। দিনে গড়ে ৩ পিস বিক্রি হলে আর মাল আসতে ৭ দিন লাগলে সীমা অন্তত ২১ পিস। ঈদ বা পূজার আগে বিক্রি বাড়ে, আর সরবরাহকারীর কাছ থেকে মাল আসতেও সময় বেশি লাগতে পারে — তাই মৌসুমের আগে সীমাটা বাড়িয়ে নিন।
শুরু করুন সেরা পণ্য দিয়ে: সব পণ্যের সীমা একদিনে ঠিক করতে হবে না। যে ১০–১৫টি পণ্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, আগে সেগুলোর হিসাব করুন। স্টক শেষ হওয়ার ক্ষতি সাধারণত ওগুলোতেই বেশি।
ভ্যারিয়েন্ট: সাইজ আর রঙের হিসাব
পোশাক, জুতা বা মোবাইল কভারের মতো পণ্যে সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয় ভ্যারিয়েন্টে। "পাঞ্জাবি — ৫৯ পিস আছে" শুনে মনে হয় যথেষ্ট, কিন্তু ক্রেতা যে সাইজ আর রং চাইছেন, সেটাই হয়তো নেই।

- প্রতিটি সাইজ-রং আলাদা লাইনে: খাতায় হোক বা ওয়েবসাইটে, "সাদা-XL" একটি আলাদা জিনিস হিসেবে গুনুন।
- একটি কোড দিন: যেমন
PJ-SADA-XL। প্যাকেটে আর তাকে একই কোড লিখলে খোঁজা আর গোনা দ্রুত হয়, ভুল পার্সেলও কমে। - শেষ হওয়া ভ্যারিয়েন্ট বন্ধ করুন: সাদা XL শেষ হলে সেটা সাইটে "স্টক নেই" দেখাক বা বেছে নেওয়া না যাক। পুরো পণ্য লুকানোর দরকার নেই।
- কোন সাইজ বেশি চলে, লিখে রাখুন: কয়েক মাসের বিক্রি দেখলে বোঝা যায় আপনার ক্রেতাদের মধ্যে কোন সাইজ বেশি চলে। পরের বার সেই অনুপাতে মাল আনুন, সব সাইজ সমান করে নয়।
অনলাইন ও দোকান একসাথে
যাঁদের একটি দোকান বা শোরুম আছে এবং অনলাইনেও বিক্রি করেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো একই মাল দুই জায়গায় দুইবার বিক্রি হয়ে যাওয়া। দুপুরে দোকানে শেষ পিসটি বিক্রি হলো, বিকেলে ওয়েবসাইটে একই পণ্যের অর্ডার এলো।
- একটিই হিসাব রাখুন। দোকানের খাতা আর অনলাইনের তালিকা আলাদা রাখবেন না। যেখানেই বিক্রি হোক, একই জায়গা থেকে স্টক কমবে।
- দোকানের বিক্রি সাথে সাথে লিখুন। দিন শেষে একসাথে লিখলে মাঝের কয়েক ঘণ্টায় অনলাইনে ভুল সংখ্যা দেখায়।
- শেষ কয়েক পিস আলাদা রাখুন। কোনো পণ্যের মাত্র ২–৩ পিস বাকি থাকলে সেগুলো যেকোনো এক জায়গার জন্য রাখুন, অথবা সাইটে খালি সংখ্যা একটু কম দেখান।
- একাধিক গুদাম থাকলে জায়গা ধরে গুনুন। কোন মাল কোন দোকান বা গুদামে আছে, তা আলাদা করে জানলে পার্সেল কোথা থেকে যাবে সেটা দ্রুত ঠিক করা যায়।
দোকান আর অনলাইন বিক্রি এক জায়গায় চালানো নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের POS দিয়ে দোকান আর অনলাইন একসাথে চালানো লেখায়।
সাপ্তাহিক স্টক রুটিন
প্রতিদিন পুরো গুদাম গোনা সম্ভব নয়, দরকারও নেই। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন — যেদিন অর্ডার কম থাকে — আধা ঘণ্টা রাখুন:

মাসে একবার পুরো স্টক গুনুন, আর বছরে অন্তত একবার, ঈদ বা বড় মৌসুমের আগে, সব কিছু মিলিয়ে নিন। গরমিল পেলে শুধু সংখ্যা ঠিক করেই থামবেন না; কারণ খুঁজুন — ভুল পার্সেল, ফেরত আসা মাল যোগ না করা, নাকি দোকানের বিক্রি লেখা হয়নি। একই কারণ বারবার এলে সেই ধাপটা বদলান।
ফেরত আসা পার্সেলের হিসাব
ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কিছু পার্সেল ফেরত আসবেই। ফেরত পার্সেল হাতে পাওয়ার পর খুলে দেখুন মাল ঠিক আছে কি না, তারপর স্টকে যোগ করুন। ক্ষতিগ্রস্ত হলে আলাদা "ক্ষতি" তালিকায় লিখুন। পার্সেল কুরিয়ারের কাছে থাকা অবস্থায় স্টকে যোগ করবেন না — হাতে আসার পর।
যে মাল চলে না, তার কী করবেন
সাপ্তাহিক রুটিনে কিছু পণ্য বারবার "ধীর" তালিকায় আসবে। সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন, ফেলে রাখবেন না:
- ছবি আর বিবরণ বদলে দেখুন। অনেক সময় সমস্যা পণ্যে নয়, উপস্থাপনে। নতুন ছবি আর পরিষ্কার বিবরণ দিয়ে আবার চেষ্টা করুন — ছবির জন্য দেখুন মোবাইলে পণ্যের ছবি তোলার নিয়ম।
- বান্ডেল করুন। ধীর পণ্যটি জনপ্রিয় কোনো পণ্যের সাথে জুড়ে ছোট ছাড়ে দিন।
- মৌসুম শেষের ছাড়। লাভ কম হলেও আটকে থাকা টাকা ফেরত আসে, যা দিয়ে চলতি পণ্য আনা যায়।
- আর না আনার সিদ্ধান্ত। কোন পণ্য আর কিনবেন না, সেটা লিখে রাখুন — পরের বার সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে ভুলে আবার কেনা এড়াতে।
খাতা, স্প্রেডশিট নাকি ওয়েবসাইট
| পদ্ধতি | কার জন্য | সীমা |
|---|---|---|
| খাতা | খুব কম পণ্য, শুধু এক জায়গায় বিক্রি | খোঁজা আর যোগ-বিয়োগে সময় লাগে, ভুল ধরা কঠিন |
| স্প্রেডশিট (Google Sheets, Excel) | কয়েক ডজন পণ্য, নিয়মিত হালনাগাদ করতে পারেন | অর্ডার এলে হাতে বদলাতে হয়; কয়েকজন একসাথে বদলালে গোলমাল |
| ওয়েবসাইটের স্টক ব্যবস্থা | অনলাইনে নিয়মিত অর্ডার, অনেক ভ্যারিয়েন্ট | প্ল্যাটফর্মের মাসিক খরচ; দোকানের বিক্রিও সেখানে লিখতে হয় |
Metanoz-এর অনলাইন স্টোরে (Business প্ল্যান; দাম জানতে যোগাযোগ করুন) প্রতিটি পণ্যে ক্যাটাগরি, ব্র্যান্ড, সাইজ-রং আর স্টক রাখা যায় (ধাপগুলো পণ্য যোগ করার সহায়িকায়)। একাধিক দোকান বা গুদাম থাকলে Warehouses & Locations অ্যাপে প্রতিটি জায়গায় কোন পণ্য কত আছে দেখা যায়, মাল গ্রহণ, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো আর গোনা সংখ্যা ঠিক করা যায়; ওয়েবসাইটে মোট স্টক দেখায়। দোকানে সরাসরি বিক্রির জন্য POS অ্যাপ আছে Premium প্ল্যানে (দাম জানতে যোগাযোগ করুন)। কোন অ্যাপ কোন প্ল্যানে, তা অ্যাপের তালিকায় দেখুন।
কখন এটা যথেষ্ট নয়: যদি আপনার উৎপাদন বা কাঁচামালের হিসাব (কতটা কাপড় থেকে কতটা পোশাক), ব্যাচ বা মেয়াদভিত্তিক বিস্তারিত ট্র্যাকিং, বা বড় গুদামের বারকোড-স্ক্যানিং ব্যবস্থা লাগে, তাহলে আলাদা ইনভেন্টরি বা ERP সফটওয়্যার বিবেচনা করুন।
এই সপ্তাহে কী করবেন
আজই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ১০টি পণ্যের প্রতিটি সাইজ-রং হাতে গুনুন, তিনটি সংখ্যা লিখুন আর সপ্তাহের একটি দিন রুটিনের জন্য ঠিক করুন। নতুন দোকান খোলার পুরো প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন অনলাইন দোকান খোলার নিয়ম, আর ব্যবসার বড় পরিকল্পনার জন্য অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়ম গাইড।
নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন
টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।
বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুনসচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট মানে কী?
কোন পণ্য কত আছে, কোথায় আছে, কত দ্রুত বিক্রি হচ্ছে আর কখন নতুন মাল আনতে হবে — এসবের নিয়মিত হিসাব রাখা। ছোট দোকানের জন্য এর মূল হলো তিনটি সংখ্যা: হাতে আছে, বিক্রির জন্য খালি আর আবার অর্ডারের সীমা।
কত দিন পর পর স্টক গুনব?
দ্রুত চলা পণ্যগুলো সপ্তাহে একবার, পুরো স্টক মাসে একবার, আর বড় মৌসুমের আগে সব কিছু একসাথে। অর্ডার বেশি হলে দ্রুত চলা পণ্যগুলো আরও ঘন ঘন দেখুন।
ফেসবুক আর ওয়েবসাইট দুই জায়গায় বিক্রি করলে স্টক মেলাব কীভাবে?
দুই জায়গার অর্ডার একই তালিকায় আনুন। সহজ উপায় হলো ফেসবুকের ইনবক্সের অর্ডারও ওয়েবসাইটে অর্ডার হিসেবে তুলে রাখা, যাতে স্টক একটি জায়গা থেকেই কমে।
প্রি-অর্ডার নিলে স্টক কীভাবে দেখাব?
প্রি-অর্ডারের পণ্য আলাদা করে চিহ্নিত করুন এবং বিবরণে আনুমানিক কবে পাঠাবেন তা পরিষ্কার লিখুন। প্রি-অর্ডারের সংখ্যা আলাদা গুনুন, যাতে মাল এলে আগে সেগুলো পূরণ হয়।
ফেরত আসা পণ্য কখন স্টকে যোগ করব?
পার্সেল হাতে পাওয়ার পর খুলে দেখে, মাল ঠিক থাকলে। ক্ষতিগ্রস্ত হলে আলাদা ক্ষতির তালিকায় লিখুন, বিক্রয়যোগ্য স্টকে নয়।
ছোট দোকানে কি আলাদা ইনভেন্টরি সফটওয়্যার লাগে?
সাধারণত না। শুরুতে স্প্রেডশিট বা আপনার ওয়েবসাইটের স্টক ব্যবস্থাই যথেষ্ট। উৎপাদনের হিসাব, ব্যাচ-মেয়াদের ট্র্যাকিং বা বড় গুদাম হলে আলাদা সফটওয়্যার ভাবতে পারেন।
অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়ম: শূন্য থেকে প্রথম অর্ডার পর্যন্ত (২০২৬)
Selling Abroad from Bangladesh: Payments, Shipping, Currency and Language
How to Build an E-commerce Website in Bangladesh (Step by Step)