ছোট ব্যবসার ওয়েবসাইটে কী কী থাকা দরকার, তার সহজ উত্তর হলো ৬টি পেজ: হোমপেজ, আমাদের সম্পর্কে, সেবা বা পণ্য, যোগাযোগ, প্রশ্নোত্তর আর নীতিমালা (প্রাইভেসি, রিফান্ড, শর্তাবলি)। এর পর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বাড়তি পেজ যোগ করুন — দোকানে ক্যাটাগরি ও ডেলিভারি তথ্য, রেস্টুরেন্টে মেনু, স্কুলে নোটিশ ও ভর্তি। শুরুতে ৫–৮টি ভালো পেজই যথেষ্ট; ২০টি অর্ধেক-লেখা পেজের চেয়ে সেটা অনেক ভালো।
ওয়েবসাইট বানাতে বসে প্রথম যে প্রশ্নে অনেকে আটকে যান: কয়টা পেজ লাগবে, আর কোনটায় কী থাকবে? কেউ অন্যের সাইট দেখে দশ-বারোটা পেজ বানিয়ে ফেলেন, যার অর্ধেক ফাঁকা পড়ে থাকে। কেউ আবার শুধু একটা হোমপেজ রাখেন, ফলে গ্রাহক দাম, ঠিকানা বা ফেরতের নিয়ম খুঁজে পান না। এই লেখায় আছে একটি পূর্ণ চেকলিস্ট — ব্যবসার ওয়েবসাইটে কী কী থাকা দরকার, প্রতিটি পেজের কাজ কী, আর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কোন পেজ বাড়তি লাগে।
এই লেখায় যা আছে
অবশ্যই লাগবে এমন ৬টি পেজ
নিচের ছয়টি পেজ প্রায় সব ছোট ব্যবসার জন্য দরকারি — দোকান, সেবা প্রতিষ্ঠান, কোচিং, ক্লিনিক, যেটাই হোক। প্রতিটি পেজ গ্রাহকের একটা নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেয়।

১. হোমপেজ
হোমপেজ হলো আপনার দোকানের সামনের দরজা। এখানে কেউ এসে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বুঝতে চান: আপনি কী করেন, তাঁর কাজে লাগবে কি না, আর পরের ধাপ কী। তাই হোমপেজে থাকবে:
- এক লাইনে আপনার কাজ আর কোন এলাকায় (যেমন "উত্তরায় এসি সার্ভিসিং, একই দিনে টেকনিশিয়ান")।
- একটি প্রধান বোতাম — "অর্ডার করুন", "কল করুন" বা "বুকিং দিন"।
- জনপ্রিয় ৩–৬টি সেবা বা পণ্য, ছবিসহ।
- কেন আপনার কাছে আসবেন — তিন-চারটি সত্য কারণ।
- নিচে ফোন নম্বর, ঠিকানা আর বাকি পেজের লিংক।
২. আমাদের সম্পর্কে (About us পেজ)
About us পেজ মানুষ পড়েন একটাই কারণে: আপনাকে বিশ্বাস করা যায় কি না। এখানে লিখুন কে চালান, কবে থেকে, কোথায়, আর কেন এই ব্যবসা। মালিক বা দলের আসল ছবি, দোকান বা অফিসের ছবি, ট্রেড লাইসেন্স থাকলে তার উল্লেখ — এগুলো আস্থা বাড়ায়। বড় বড় বিশেষণ ("দেশসেরা", "অতুলনীয়") লিখবেন না; সাধারণ, সত্যি কথা বেশি কাজ করে।
৩. সেবা বা পণ্য
এটাই সাইটের সবচেয়ে কাজের পেজ। প্রতিটি সেবা বা পণ্যের নাম, কী পাওয়া যায়, কার জন্য, আর দাম বা দামের পরিসর লিখুন। দাম নির্দিষ্ট না হলে অন্তত "শুরু ৳…" বা "দাম জানতে কল করুন" লিখুন — দামের কোনো ধারণা না পেলে অনেকে যোগাযোগই করেন না। সেবা অনেক হলে প্রতিটির আলাদা পেজ রাখুন; তাতে গুগলে প্রতিটি সেবার নামে খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়।
৪. যোগাযোগ (Contact পেজ)
Contact পেজ যত সহজ, তত ভালো। রাখুন: ফোন নম্বর (চাপলেই কল যায় এমনভাবে), WhatsApp, ইমেইল, পূর্ণ ঠিকানা, গুগল ম্যাপের লিংক, খোলার সময় আর ছুটির দিন, এবং একটি ছোট যোগাযোগ ফর্ম। ফর্মে শুধু নাম, ফোন আর বার্তা চাইলেই যথেষ্ট — অনেক ঘর থাকলে মানুষ মাঝপথে ছেড়ে দেন।
৫. প্রশ্নোত্তর (FAQ)
ফোনে বা ফেসবুক ইনবক্সে যে প্রশ্নগুলো বারবার আসে, সেগুলোর উত্তর এক পেজে লিখে ফেলুন: ডেলিভারি কত দিনে, ঢাকার বাইরে যায় কি না, পেমেন্ট কীভাবে, ফেরত দেওয়া যায় কি না। এতে আপনার সময় বাঁচে, আর গুগলেও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে পেজটি দেখা যেতে পারে।
৬. নীতিমালা
প্রাইভেসি পলিসি (গ্রাহকের তথ্য কীভাবে রাখেন), রিফান্ড ও রিটার্ন নীতি, আর শর্তাবলি। অনলাইনে টাকা নিলে বা অর্ডার নিলে এগুলো বিশেষভাবে জরুরি, আর পেমেন্ট গেটওয়ের আবেদনেও সাধারণত এই পেজগুলো দেখতে চাওয়া হয়। কী লিখবেন আর কোন ভুল এড়াবেন, তা আছে প্রাইভেসি, রিফান্ড ও শর্তাবলি পেজের আলাদা গাইডে।
ব্যবসা অনুযায়ী বাড়তি পেজ
মূল ছয়টি পেজ সবার জন্য। এর পর কী লাগবে, তা ঠিক করে দেয় আপনার ব্যবসার ধরন। নিচের টেবিল থেকে নিজের ধরনটা মিলিয়ে নিন:

- অনলাইন দোকান: পণ্যের ক্যাটাগরি পেজ, প্রতিটি পণ্যের আলাদা পেজ, কার্ট ও চেকআউট, আর ডেলিভারি তথ্য (ঢাকার ভিতরে-বাইরে চার্জ, কত দিনে পৌঁছায়)।
- রেস্টুরেন্ট: দামসহ মেনু, টেবিল বুকিং, খোলার সময়, আর ডেলিভারি দিলে তার এলাকা।
- স্কুল, কলেজ, কোচিং: নোটিশ বোর্ড, ভর্তি তথ্য ও ফর্ম, শিক্ষক পরিচিতি, ফলাফল বা সাফল্য, গ্যালারি।
- ক্লিনিক ও ডাক্তার: ডাক্তারদের পরিচিতি ও বিশেষজ্ঞতা, চেম্বারের সময়সূচি, সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট।
- সেবা প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সি: কাজের নমুনা (পোর্টফোলিও), দামের প্যাকেজ, কোটেশন অনুরোধের ফর্ম।
- যেকোনো ব্যবসা চাইলে: ব্লগ (গুগল থেকে ভিজিটর আনতে), গ্রাহকের মতামত, চাকরির বিজ্ঞপ্তি, গ্যালারি।
প্রতিটি ধরনের ব্যবসার বিস্তারিত — কোন পেজ, কোন ফিচার — এক জায়গায় পাবেন কোন ব্যবসার জন্য কেমন ওয়েবসাইট গাইডে।
পেজ ছোট রাখুন, সংখ্যা নয়: একটা পেজে একটাই কাজ রাখুন। "সেবা" পেজে যোগাযোগ ফর্ম রাখা যায়, কিন্তু সেখানে কোম্পানির ইতিহাস লিখবেন না — সেটা About পেজের কাজ।
প্রতিটি পেজে কী লিখবেন
পেজের তালিকা ঠিক হলে লেখার পালা। প্রতিটি পেজের জন্য তিনটি প্রশ্নের উত্তর আগে লিখে নিন:
- কে এই পেজে আসবেন? নতুন গ্রাহক, পুরনো গ্রাহক, নাকি অভিভাবক বা রোগী?
- তিনি কী জানতে চান? দাম, সময়, ঠিকানা, নাকি আপনাকে বিশ্বাস করা যায় কি না?
- পড়ার পর তিনি কী করবেন? কল, অর্ডার, বুকিং, নাকি ফর্ম পূরণ? সেই বোতামটা পেজে পরিষ্কার রাখুন।
নিচের ছোট নমুনাগুলো থেকে ধারণা নিন:
| পেজ | শুরুর লাইনের নমুনা | প্রধান বোতাম |
|---|---|---|
| হোম | "মিরপুরে ঘরে তৈরি কেক, অর্ডারের দিনই ডেলিভারি" | অর্ডার করুন |
| আমাদের সম্পর্কে | "২০১৯ সালে নিজের রান্নাঘর থেকে শুরু, এখন চারজনের দল" | আমাদের কেক দেখুন |
| সেবা/পণ্য | "জন্মদিনের কেক — ১ থেকে ৩ পাউন্ড, নিজের নাম লিখিয়ে" | এই কেকটি অর্ডার করুন |
| যোগাযোগ | "সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা, শুক্রবারও খোলা" | কল করুন |
হোমপেজের শিরোনাম, সেবার বিবরণ, About পেজ আর বোতামের লেখা কীভাবে লিখবেন — আরও নমুনাসহ পুরো নিয়ম আছে ওয়েবসাইটের লেখা লেখার গাইডে।
মেনু আর ফুটারে পেজ সাজানো
পেজ বানানোর পর সেগুলো খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থাও দরকার। একটা সহজ নিয়ম মেনে চলুন:
- ওপরের মেনুতে ৫–৬টি: হোম, সেবা বা পণ্য, আমাদের সম্পর্কে, প্রশ্নোত্তর, যোগাযোগ। দোকান হলে প্রধান ক্যাটাগরিগুলো।
- ফুটারে বাকিগুলো: নীতিমালার পেজ, ব্লগ, চাকরি, সামাজিক মাধ্যমের লিংক, ঠিকানা আর ফোন।
- মেনুর নাম সাধারণ রাখুন: "আমাদের যাত্রা" না লিখে "আমাদের সম্পর্কে"; "যোগাযোগ" সবাই চেনেন।
পেজ নিয়ে সাধারণ ভুল
- ফাঁকা বা "শিগগিরই আসছে" পেজ: লেখা তৈরি না থাকলে পেজটা মেনুতেই রাখবেন না।
- টেমপ্লেটের নমুনা লেখা রেখে দেওয়া: ডেমোর নাম, নমুনা ফোন নম্বর বা ইংরেজি নমুনা লেখা থেকে গেলে সাইট অবিশ্বাস্য দেখায়।
- দাম আর ডেলিভারির তথ্য লুকানো: গ্রাহক এগুলোই সবচেয়ে বেশি খোঁজেন।
- নীতিমালা অন্য সাইট থেকে কপি: অন্যের প্রতিষ্ঠানের নাম বা ভুল নিয়ম থেকে গেলে উল্টো ক্ষতি। নিজের নিয়ম নিজের ভাষায় লিখুন।
- পুরনো তথ্য: ঠিকানা, খোলার সময় বা দাম বদলালে সাইটেও সেদিনই বদলান।
এক ক্লিকে তৈরি পেজ
প্রতিটি পেজ শূন্য থেকে সাজাতে হবে না। বেশিরভাগ ওয়েবসাইট বিল্ডারে টেমপ্লেটের সাথে সাধারণ পেজগুলো আগে থেকেই সাজানো থাকে। Metanoz-এ About, Contact, FAQ-এর মতো পেজ এক ক্লিকে যোগ করা যায়, আর হেডার-ফুটারের ডিজাইনও বদলানো যায়; আপনি শুধু নিজের লেখা আর ছবি বসান। পেজ বিল্ডারে সেকশন টেনে এনে সাজানো যায়, ফোনের জন্য আলাদা করে ঠিক করা যায় (পেজ বিল্ডারের ফিচার দেখুন)।

কোম্পানি বা সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি ডিজাইনগুলো দেখতে পারেন বিজনেস টেমপ্লেটের তালিকায়। ওয়েবসাইট তৈরির পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে জানতে পড়ুন নিজে নিজে ওয়েবসাইট বানানোর নিয়ম, আর খরচের হিসাব আছে ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ লেখায়।
এখন কী করবেন
- কাগজে ছয়টি মূল পেজের নাম লিখুন, তার নিচে নিজের ব্যবসার জন্য বাড়তি ১–৩টি পেজ।
- প্রতিটি পেজের জন্য শুরুর লাইন আর প্রধান বোতামটা ঠিক করুন।
- ছবি, দাম, ঠিকানা, খোলার সময় এক ফোল্ডারে জোগাড় করুন।
- একটি টেমপ্লেটে পেজগুলো বসিয়ে ফোনে খুলে দেখুন — প্রতিটি পেজ থেকে যোগাযোগের বোতাম সহজে পাওয়া যায় কি না।
Metanoz-এ ৭ দিন বিনামূল্যে চেষ্টা করা যায়, কার্ড লাগে না; এরপর প্ল্যানের দাম জানতে যোগাযোগ করুন (বিস্তারিত মূল্য পেজে)।
নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন
টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।
বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুনসচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ছোট ব্যবসার ওয়েবসাইটে কমপক্ষে কয়টি পেজ লাগে?
সাধারণত ৫–৬টি: হোম, আমাদের সম্পর্কে, সেবা বা পণ্য, যোগাযোগ, প্রশ্নোত্তর আর নীতিমালা। খুব ছোট ব্যবসায় প্রশ্নোত্তর হোমপেজের নিচে রেখেও শুরু করা যায়।
এক পেজের ওয়েবসাইট কি যথেষ্ট?
একটি পণ্য বা একটি সেবার জন্য এক পেজের সাইট (ল্যান্ডিং পেজ) ভালো কাজ করে। কিন্তু একাধিক সেবা বা পণ্য থাকলে আলাদা পেজ রাখা ভালো — গ্রাহক সহজে খুঁজে পান, আর গুগলেও প্রতিটি সেবার নামে দেখা যাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
About us পেজে কী লিখব?
কে চালান, কবে ও কোথা থেকে শুরু, কী কাজ করেন আর কেন — ছোট, সত্যি গল্প। আসল ছবি দিন, আর বড় বড় দাবি এড়িয়ে চলুন।
প্রাইভেসি পলিসি কি সব ওয়েবসাইটে লাগে?
যোগাযোগ ফর্ম, অর্ডার বা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের নাম-ফোন নিলে প্রাইভেসি পলিসি রাখা উচিত। অনলাইনে বিক্রি করলে রিফান্ড নীতি আর শর্তাবলিও রাখুন। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়।
ব্লগ পেজ কি শুরুতেই লাগবে?
না। মূল পেজগুলো ঠিক করে সাইট প্রকাশ করুন। নিয়মিত লেখার সময় থাকলে পরে ব্লগ যোগ করুন — গুগল থেকে ভিজিটর আনতে এটা কাজে লাগে।
পরে কি নতুন পেজ যোগ করা বা মুছে ফেলা যায়?
হ্যাঁ, ওয়েবসাইট বিল্ডারে যেকোনো সময় পেজ যোগ, লুকানো বা মুছে ফেলা যায়। শুধু মুছে ফেলা পেজের লিংক মেনু থেকেও সরিয়ে দিন।
ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ? ২০২৬ সালে বাংলাদেশে পূর্ণ হিসাব
Website Builder in Bangladesh: How to Choose the Right One (2026 Guide)
Small Business Website in Bangladesh: What It Needs and What It Costs