মূল লেখায় যানSkip to content

নিজে নিজে ওয়েবসাইট বানানোর নিয়ম: কোডিং ছাড়া ধাপে ধাপে (২০২৬)

Metanoz টিম হালনাগাদ 10 মিনিটে পড়ুন ওয়েবসাইট তৈরি · Website basics
নিজে নিজে ওয়েবসাইট বানানোর নিয়ম: কোডিং ছাড়া ধাপে ধাপে (২০২৬)
সংক্ষেপে উত্তর

কোডিং ছাড়া নিজে ওয়েবসাইট বানানোর নিয়ম মোটামুটি সাত ধাপের: ১) একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার বেছে নিন, ২) আপনার ব্যবসার ধরনের টেমপ্লেট নিন, ৩) নিজের লেখা, ছবি, লোগো আর রং বসান, ৪) দরকারি পেজ (আমাদের সম্পর্কে, সেবা, যোগাযোগ, নীতিমালা) যোগ করুন, ৫) যোগাযোগ ফর্ম, পেমেন্ট বা বুকিং চালু করুন, ৬) নিজের ডোমেইন আর SEO ঠিক করুন, ৭) ফোনে পরীক্ষা করে প্রকাশ করুন। তথ্য গোছানো থাকলে একটি সাধারণ ব্যবসার সাইট এক-দুই দিনেই দাঁড় করানো যায়।

পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেখতে পড়ুন: ওয়েবসাইট বানানোর সম্পূর্ণ গাইড।

অনেকে ভাবেন ওয়েবসাইট মানেই প্রোগ্রামার, মাসের পর মাস অপেক্ষা আর মোটা অঙ্কের বিল। কয়েক বছর আগেও তাই ছিল। এখন ওয়েবসাইট বিল্ডারে তৈরি ডিজাইনের ওপর নিজের লেখা আর ছবি বসিয়েই একটি পেশাদার সাইট বানানো যায় — কম্পিউটারে তো বটেই, অনেক কাজ মোবাইল দিয়েও। এই গাইডে আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ দেখাব: কী আগে গুছিয়ে নেবেন, কোন ক্রমে কাজ করবেন আর কোথায় নতুনরা সবচেয়ে বেশি ভুল করেন।

এই লেখায় যা আছে
  1. শুরুর আগে: লক্ষ্য আর পেজের তালিকা
  2. ধাপ ১: প্ল্যাটফর্ম বাছাই
  3. ধাপ ২: টেমপ্লেট বাছাই
  4. ধাপ ৩: লেখা, ছবি আর রং বদলানো
  5. ধাপ ৪: দরকারি পেজ যোগ
  6. ধাপ ৫: যোগাযোগ, পেমেন্ট ও অ্যাপ
  7. ধাপ ৬: ডোমেইন আর SEO
  8. ধাপ ৭: প্রকাশ ও পরীক্ষা
  9. ওয়েবসাইট বানানোর সাধারণ ভুল
  10. এখন কী করবেন
  11. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শুরুর আগে: লক্ষ্য আর পেজের তালিকা

ওয়েবসাইট বানানোর সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় ডিজাইন নিয়ে নয়, সিদ্ধান্ত না নিয়ে কাজ শুরু করায়। তাই কিছু খোলার আগে কাগজে তিনটি প্রশ্নের উত্তর লিখুন।

  1. সাইট দিয়ে আসলে কী চান? অনলাইনে অর্ডার নেওয়া, ফোন কল বা বুকিং পাওয়া, নাকি শুধু বিশ্বাসযোগ্য পরিচিতি? একটা প্রধান লক্ষ্য বেছে নিন; প্রতিটি পেজ সেই দিকে নিয়ে যাবে।
  2. কারা দেখবেন? ঢাকার তরুণ ক্রেতা, জেলা শহরের অভিভাবক, নাকি বিদেশে থাকা প্রবাসী? এর ওপর নির্ভর করে ভাষা (বাংলা, ইংরেজি বা দুটোই), দামের ধরন আর পেমেন্টের মাধ্যম।
  3. কোন কোন পেজ লাগবে? বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার জন্য হোম, আমাদের সম্পর্কে, সেবা বা পণ্য, যোগাযোগ, প্রশ্নোত্তর আর নীতিমালা পেজই যথেষ্ট। পুরো তালিকা আর প্রতিটিতে কী লিখবেন তা আছে ছোট ব্যবসার ওয়েবসাইটের পেজ চেকলিস্টে।

এরপর একটা ফোল্ডারে জিনিসগুলো জোগাড় করুন: লোগো (না থাকলে আপাতত শুধু নাম দিয়েও চলে), ব্যবসার ঠিকানা ও ফোন নম্বর, ১০–২০টি ভালো ছবি, সেবা বা পণ্যের তালিকা ও দাম, আর গ্রাহকেরা সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো করেন। এগুলো হাতে থাকলে বাকি কাজ অনেক দ্রুত এগোয়।

কোডিং ছাড়া ওয়েবসাইট বানানোর ৭টি ধাপের ডায়াগ্রাম: পরিকল্পনা থেকে প্রকাশ
পুরো কাজটা সাতটি ধাপে ভাগ করে নিলে কোথায় আছেন আর কী বাকি, সবসময় পরিষ্কার থাকে।

ধাপ ১: প্ল্যাটফর্ম বাছাই

কোডিং ছাড়া ওয়েবসাইট বানানোর প্রধান তিনটি পথ আছে। কোনোটাই সবার জন্য সেরা নয়; আপনার সময়, বাজেট আর প্রযুক্তির সাথে স্বাচ্ছন্দ্য দেখে বেছে নিন।

পথকেমনকার জন্য ভালো
ওয়েবসাইট বিল্ডারতৈরি টেমপ্লেট, টেনে এনে সাজানো; হোস্টিং-নিরাপত্তা প্ল্যানের ভেতরেযাঁরা দ্রুত চালু করতে চান আর নিজেই বদলাতে চান
ওয়ার্ডপ্রেস নিজেবিনামূল্যের সফটওয়্যার, আলাদা হোস্টিং, থিম আর প্লাগইনযাঁরা প্রযুক্তি নিয়ে ঘাঁটতে ভালোবাসেন
ডেভেলপার দিয়েঅন্য কেউ বানিয়ে দেয়, আপনি চাহিদা বলেনজটিল বা একদম আলাদা ধরনের কাজ

এই গাইডটা প্রথম পথ ধরে লেখা, কারণ "নিজে নিজে, কোডিং ছাড়া" বলতে বেশিরভাগ মানুষ এটাই বোঝান। বিল্ডার বাছাইয়ের সময় বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি জিনিস মিলিয়ে নিন: দাম টাকায় আর বিকাশ-নগদে দেওয়া যায় কি না, সাইটে বাংলা ঠিকমতো দেখায় কি না, বিকাশ-নগদ আর ক্যাশ অন ডেলিভারি নেওয়া যায় কি না, আর নিজের ডোমেইন যুক্ত করা যায় কি না। কোন পথে কত খরচ আর কী দায়িত্ব, তার বিস্তারিত তুলনা পড়ুন ওয়েবসাইট বিল্ডার নাকি ডেভেলপার লেখায়।

ফ্রি ওয়েবসাইট নিয়ে একটা কথা: পরীক্ষা করে দেখার জন্য ফ্রি প্ল্যান বা ফ্রি ট্রায়াল ভালো। কিন্তু অনেক ফ্রি প্ল্যানে নিজের ডোমেইন, পেমেন্ট বা বিজ্ঞাপনমুক্ত চেহারায় সীমা থাকে। কী পাবেন আর কী হারাবেন, তা আছে ফ্রি ওয়েবসাইট বানানোর সৎ গাইডে।

ধাপ ২: টেমপ্লেট বাছাই

টেমপ্লেট হলো তৈরি করা একটা পুরো ওয়েবসাইটের নকশা — রং, অক্ষর, সেকশন আর পেজ সাজানো থাকে, আপনি শুধু নিজের তথ্য বসান। ভালো টেমপ্লেট বাছাইয়ের তিনটি নিয়ম:

  • ধরন মিলিয়ে নিন। রেস্টুরেন্টের টেমপ্লেটে মেনু আর বুকিং সাজানো থাকে, স্কুলের টেমপ্লেটে নোটিশ আর ভর্তি। নিজের ব্যবসার ধরনের টেমপ্লেট নিলে অর্ধেক কাজ আগেই হয়ে থাকে।
  • ছবি নয়, গঠন দেখুন। ডেমোর ছবি আপনি বদলে ফেলবেন। দেখুন কোন সেকশন কোথায়, মেনু কেমন, পণ্য বা সেবা কীভাবে দেখায়।
  • ফোনে খুলে দেখুন। টেমপ্লেটের ডেমো ফোনে খুলে স্ক্রল করুন। লেখা পড়া যায় কি না, বোতাম সহজে চাপা যায় কি না।

Metanoz-এ ১০ ধরনের ব্যবসার জন্য ৩২০টির বেশি টেমপ্লেট আছে — অনলাইন দোকান, রেস্টুরেন্ট, স্কুল, ক্লিনিক, নিউজ, কোম্পানি, পোর্টফোলিওসহ। পরে মত বদলালে টেমপ্লেট বদলানোও যায়। সব ডিজাইন একসাথে দেখতে টেমপ্লেট গ্যালারি ঘুরে আসুন।

Metanoz-এর get-started পেজের স্ক্রিনশট: ওয়েবসাইটের ধরন বাছাইয়ের প্রথম ধাপ
ওয়েবসাইট বিল্ডারে শুরু করা মানে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া — ধরন, ডিজাইন, নাম আর অ্যাকাউন্ট।

ধাপ ৩: লেখা, ছবি আর রং বদলানো

এবার টেমপ্লেটকে নিজের করে নেওয়ার পালা। ওয়েবসাইট বিল্ডারে সাধারণত পেজটা চোখের সামনে থাকে; যে অংশে ক্লিক করবেন সেটার লেখা, ছবি বা রং বদলাতে পারবেন। ক্রমটা এমন রাখুন: আগে হেডার, তারপর হোমপেজ, শেষে মোবাইল।

হেডার ও মেনু

হেডার হলো প্রতিটি পেজের ওপরের অংশ — লোগো, মেনু আর হয়তো একটা বোতাম ("অর্ডার করুন", "কল করুন")। মেনুতে ৫–৬টির বেশি নাম রাখবেন না; বাকিগুলো ফুটারে দিন। মেনুর নাম সহজ রাখুন: "আমাদের সেবা", "দাম", "যোগাযোগ" — নিজস্ব চমকপ্রদ নাম দিলে মানুষ খুঁজে পান না। লোগোর রং থেকে সাইটের প্রধান রং নিন, আর সারা সাইটে দুই-তিনটির বেশি রং ব্যবহার করবেন না।

হোমপেজ সেকশন

হোমপেজ ওপর থেকে নিচে একটা গল্প বলে। একটি কার্যকর ক্রম:

  1. প্রথম পর্দা: আপনি কী করেন, এক লাইনে, আর একটা প্রধান বোতাম। যেমন: "মিরপুরে ঘরে তৈরি কেক, দুই ঘণ্টায় ডেলিভারি — অর্ডার করুন"।
  2. সেবা বা পণ্য: সবচেয়ে জনপ্রিয় ৩–৬টি, ছবি আর দামসহ।
  3. কেন আপনি: তিন-চারটি সত্য কারণ (অভিজ্ঞতা, ডেলিভারির এলাকা, ফেরতের নিয়ম)।
  4. গ্রাহকের মতামত: শুধু আসল গ্রাহকের, অনুমতি নিয়ে।
  5. প্রশ্নোত্তর ও যোগাযোগ: ফোন নম্বর, ঠিকানা আর আবার একটা বোতাম।

টেমপ্লেটের যে সেকশন আপনার কাজে লাগে না, মুছে দিন বা লুকিয়ে রাখুন। ফাঁকা বা ডেমো লেখা রেখে দেওয়ার চেয়ে কম সেকশন অনেক ভালো। কোন লেখা কেমন হবে, ডিজাইনের বিস্তারিত নিয়ম জানতে পড়ুন ভালো ওয়েবসাইট ডিজাইনের ১২টি নিয়ম।

মোবাইলে দেখা

বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ ফেসবুক আর গুগল থেকে ফোনেই সাইটে আসেন। তাই প্রতিটি সেকশন বদলানোর পর ফোনের ভিউতে দেখে নিন: লেখা খুব ছোট বা খুব বড় হয়ে গেল কি না, ছবি কেটে গেল কি না, বোতাম আঙুলে চাপার মতো বড় কি না। ভালো বিল্ডারে ফোন আর কম্পিউটারের জন্য আলাদা মাপ ঠিক করা বা কোনো সেকশন শুধু ফোনে লুকানো যায়। পেজ বিল্ডার কীভাবে কাজ করে, তা ধাপে ধাপে দেখানো আছে পেজ বিল্ডারের হেল্প গাইডে।

ধাপ ৪: দরকারি পেজ যোগ

হোমপেজ ঠিক হলে বাকি পেজগুলো যোগ করুন। প্রায় সব ব্যবসার জন্য এগুলো লাগে:

  • আমাদের সম্পর্কে: কে, কবে থেকে, কোথায়, কেন — ছোট আর সত্যি গল্প। নিজের বা দোকানের আসল ছবি বিশ্বাস বাড়ায়।
  • সেবা বা পণ্য: প্রতিটির আলাদা বিবরণ, দাম বা "দাম জানতে যোগাযোগ করুন"।
  • যোগাযোগ: ফোন, WhatsApp, ঠিকানা, খোলার সময়, ম্যাপের লিংক আর একটি ফর্ম।
  • প্রশ্নোত্তর: ফোনে বা ইনবক্সে বারবার যে প্রশ্ন আসে, তার উত্তর।
  • নীতিমালা: প্রাইভেসি, রিফান্ড-রিটার্ন আর শর্তাবলি — বিশেষ করে অনলাইনে বিক্রি করলে।

অনেক বিল্ডারে এই সাধারণ পেজগুলো তৈরি অবস্থায় এক ক্লিকে যোগ করা যায়; আপনি শুধু নিজের তথ্য বসান। Metanoz-এ About, Contact, FAQ-এর মতো পেজ এক ক্লিকে আসে, আর হেডার-ফুটারের ডিজাইনও বদলানো যায়।

ধাপ ৫: যোগাযোগ, পেমেন্ট ও অ্যাপ

ওয়েবসাইটের কাজ শুধু দেখানো নয়, ভিজিটরকে গ্রাহক বানানো। তাই আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী অন্তত একটি "কাজের" ব্যবস্থা চালু করুন:

  • সেবা বা পরিচিতির সাইট: যোগাযোগ ফর্ম, কোটেশন অনুরোধ, WhatsApp বা কল বোতাম।
  • অনলাইন দোকান: পণ্য, কার্ট, ডেলিভারি চার্জ, আর বিকাশ-নগদ ও ক্যাশ অন ডেলিভারি। পুরো প্রক্রিয়া আছে অনলাইন দোকান খোলার আলাদা গাইডে।
  • রেস্টুরেন্ট, ক্লিনিক, কোচিং: টেবিল বুকিং, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ভর্তির ফর্ম।

প্রথম দিনেই সব ফিচার চালু করার দরকার নেই। যেটা আপনার প্রধান লক্ষ্যের সাথে সরাসরি যুক্ত, শুধু সেটা দিয়ে শুরু করুন; লয়্যালটি পয়েন্ট, ইমেইল ক্যাম্পেইন বা লাইভ চ্যাট পরে যোগ করা যায়।

ধাপ ৬: ডোমেইন আর SEO

ওয়েবসাইট বিল্ডারে শুরুতে সাধারণত একটা বিনামূল্যের ঠিকানা পাওয়া যায় (যেমন Metanoz-এ yourname.metanoz.com)। শুরু আর পরীক্ষার জন্য সেটা যথেষ্ট, কিন্তু ব্যবসার জন্য নিজের ডোমেইন (যেমন yourshop.com) বেশি বিশ্বাসযোগ্য আর মনে রাখা সহজ।

  1. ডোমেইন নিজের নামে কিনুন যেকোনো ডোমেইন বিক্রেতার কাছ থেকে। এতে পরে প্ল্যাটফর্ম বদলালেও ঠিকানা আপনার থাকে।
  2. বিল্ডারে যুক্ত করুন। Metanoz-এ Admin → Website → Connect domain-এ ডোমেইন লিখে অনুরোধ পাঠান, আর সেখানে দেখানো DNS তথ্য ডোমেইন বিক্রেতার প্যানেলে বসান। টিম যাচাই করে চালু করে; DNS ছড়াতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে, আর https নিজে থেকেই চালু হয়।
  3. মূল SEO ঠিক করুন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পেজের শিরোনাম আর ছোট বিবরণ লিখুন, সেই শব্দে যা মানুষ আসলে গুগলে লেখেন (যেমন "মিরপুরে কেক ডেলিভারি")। ছবির বিবরণ (alt) দিন।

সাইট প্রকাশের পর গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত করে sitemap জমা দিন। গুগলে আসার পুরো পরিকল্পনা আছে আমাদের SEO-র পূর্ণ বাংলা গাইডে।

ধাপ ৭: প্রকাশ ও পরীক্ষা

প্রকাশের আগে নিজে একজন গ্রাহক হয়ে পুরো সাইটটা ব্যবহার করুন। এই ছোট তালিকা মিলিয়ে নিন:

  • প্রতিটি পেজ ফোনে আর কম্পিউটারে খুলেছেন; কোথাও ডেমো লেখা ("Lorem ipsum", নমুনা ফোন নম্বর) রয়ে যায়নি।
  • মেনুর প্রতিটি লিংক আর প্রতিটি বোতাম চেপে দেখেছেন।
  • যোগাযোগ ফর্ম পূরণ করে দেখেছেন বার্তা আপনার কাছে পৌঁছায় কি না।
  • দোকান হলে নিজের ফোন থেকে একটা পরীক্ষামূলক অর্ডার দিয়েছেন — ডেলিভারি চার্জ আর মোট টাকা ঠিক আসছে কি না।
  • ফোন নম্বর, ঠিকানা আর খোলার সময় সঠিক।
  • বিশ্বস্ত দু-একজনকে লিংক পাঠিয়ে মতামত নিয়েছেন — নিজের ভুল নিজের চোখে কম পড়ে।
ফোনে একটি রেস্টুরেন্ট ডেমো ওয়েবসাইট দেখতে কেমন তার স্ক্রিনশট
প্রকাশের আগে প্রতিটি পেজ ফোনে খুলে দেখুন — বেশিরভাগ ভিজিটর ফোন থেকেই আসেন।

সব ঠিক থাকলে প্রকাশ করুন, তারপর ফেসবুক পেজ, WhatsApp, ভিজিটিং কার্ড আর দোকানের সাইনবোর্ডে ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিন। বড় কোনো বদলের আগে ব্যাকআপ নেওয়ার অভ্যাস করুন; ভালো বিল্ডারে এক ক্লিকেই ব্যাকআপ আর রিস্টোর করা যায়।

ওয়েবসাইট বানানোর সাধারণ ভুল

নতুনদের সাইটে ঘুরেফিরে এই ভুলগুলো দেখা যায়। আগে থেকে জানলে সহজেই এড়ানো যায়:

  • সব একসাথে চাওয়া: ২০টি পেজ আর সব ফিচার নিয়ে শুরু করলে কাজ কখনও শেষ হয় না। ৫–৬টি পেজে প্রকাশ করুন, পরে বাড়ান।
  • ডেমো লেখা রেখে দেওয়া: টেমপ্লেটের নমুনা লেখা বা ছবি থেকে গেলে সাইট অবিশ্বাস্য দেখায়।
  • শুধু কম্পিউটারে দেখা: কম্পিউটারে সুন্দর সাইট ফোনে ভেঙে যেতে পারে।
  • ঝাপসা বা অন্যের ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ছবিতে কপিরাইটের ঝুঁকি থাকে আর আপনার আসল পণ্যও দেখায় না।
  • যোগাযোগের তথ্য লুকানো: ফোন নম্বর বা WhatsApp খুঁজে না পেলে অনেকে সরাসরি চলে যান।
  • ডোমেইন অন্যের নামে: ডেভেলপার বা পরিচিত কারও নামে ডোমেইন থাকলে পরে সমস্যা হয়।
  • প্রকাশের পর ভুলে যাওয়া: পুরনো দাম, শেষ হয়ে যাওয়া অফার বা ভুল খোলার সময় বিশ্বাস নষ্ট করে। মাসে অন্তত একবার সাইট ঘুরে দেখুন।

এখন কী করবেন

আজই কাগজে লক্ষ্য আর পেজের তালিকা লিখুন, ছবি আর তথ্য এক ফোল্ডারে জোগাড় করুন। তারপর একটি বিল্ডারের ফ্রি ট্রায়ালে টেমপ্লেট বসিয়ে নিজের তথ্য দিয়ে দেখুন সাইটটা কেমন দাঁড়ায়। Metanoz-এ ওয়েবসাইটের ধরন, ডিজাইন, নাম আর অ্যাকাউন্ট — এই চারটি ধাপে সাইট তৈরি হয়ে যায়; ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, কার্ড লাগে না। এরপর প্ল্যানের দাম জানতে যোগাযোগ করুন; বিকাশ, নগদ বা রকেটে পরিশোধ করা যায় (বিস্তারিত মূল্য পেজে)। ধাপগুলোর স্ক্রিনশটসহ বর্ণনা আছে ওয়েবসাইট তৈরির হেল্প গাইডে।

কখন নিজে না বানানোই ভালো: যদি আপনার এমন বিশেষ সফটওয়্যার লাগে যা কোনো বিল্ডারে নেই, অথবা হাতে একেবারেই সময় না থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে করানোই ভালো। Metanoz-এ চাইলে সাইট বানানো আর দেখাশোনার কাজ টিমকে দিয়েও করানো যায়।

নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন

টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।

বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কোডিং না জেনে কি সত্যিই ওয়েবসাইট বানানো যায়?

হ্যাঁ। ওয়েবসাইট বিল্ডারে তৈরি টেমপ্লেটের ওপর ক্লিক করে লেখা, ছবি আর রং বদলানো যায়; সেকশন টেনে এনে সাজানো যায়। ফেসবুকে পোস্ট দিতে পারলে এটাও শেখা যায়, শুধু প্রথমবার একটু সময় লাগে।

মোবাইল দিয়ে কি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়?

অনেকটা যায় — লেখা বদলানো, পণ্য যোগ, অর্ডার দেখা ফোন থেকেই করা যায়। তবে প্রথমবার পুরো ডিজাইন সাজানোর কাজ কম্পিউটার বা ল্যাপটপে করলে বড় পর্দায় অনেক সহজ হয়।

ওয়েবসাইট বানাতে কত দিন লাগে?

লেখা, ছবি আর তথ্য গোছানো থাকলে একটি সাধারণ ৫–৬ পেজের ব্যবসার সাইট এক-দুই দিনে দাঁড় করানো যায়। অনলাইন দোকানে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে পণ্যের সংখ্যা আর ছবির ওপর।

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করে কি ব্যবসা চালানো যায়?

পরীক্ষার জন্য চলে। কিন্তু ফ্রি প্ল্যানে সাধারণত নিজের ডোমেইন, পেমেন্ট বা পেশাদার চেহারায় সীমা থাকে। ব্যবসার জন্য ফ্রি ট্রায়ালে পরীক্ষা করে তারপর পেইড প্ল্যানে যাওয়াই নিরাপদ।

ওয়েবসাইট বানাতে কি ডোমেইন আগে কিনতে হবে?

না। বেশিরভাগ বিল্ডারে বিনামূল্যের ঠিকানায় শুরু করা যায়, পরে নিজের ডোমেইন যুক্ত করা যায়। তবে পছন্দের নামটা খালি থাকতে থাকতে কিনে রাখা ভালো।

পরে কি ডিজাইন বা টেমপ্লেট বদলানো যাবে?

বেশিরভাগ বিল্ডারে যায়। Metanoz-এ টেমপ্লেট বদলানো যায়; বদলানোর আগে এক ক্লিকে ব্যাকআপ নিয়ে রাখা ভালো, যাতে দরকার হলে আগের অবস্থায় ফেরা যায়।

ওয়েবসাইট বানানোর নিয়ম কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করব মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি কোডিং ছাড়া ওয়েবসাইট
Metanoz টিম
Metanoz বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার। আমাদের টিম নিজেরা প্ল্যাটফর্ম বানায় ও চালায়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখে ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। প্রশ্ন থাকলে হেল্প সেন্টার দেখুন বা যোগাযোগ করুন।
শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp LinkedIn

আমরা এখন অফিসের বাইরেWe are outside office hours

অফিস সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা। নম্বর রেখে যান, অফিস খুললেই আমরা কল করব।Office hours: Saturday–Thursday, 9 AM – 9 PM. Leave your number and we will call you when we open.

তবুও WhatsApp-এ লিখুনWrite on WhatsApp anyway