মূল লেখায় যানSkip to content

SEO কী? ওয়েবসাইট গুগলে আনার পূর্ণ বাংলা গাইড (২০২৬)

Metanoz টিম হালনাগাদ 11 মিনিটে পড়ুন SEO ও মার্কেটিং · SEO & marketing
SEO কী? ওয়েবসাইট গুগলে আনার পূর্ণ বাংলা গাইড (২০২৬)
সংক্ষেপে উত্তর

SEO (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) হলো এমনভাবে ওয়েবসাইট সাজানো আর লেখা, যাতে কেউ গুগলে আপনার পণ্য বা সেবা খুঁজলে আপনার পেজ বিনা বিজ্ঞাপনে সামনে আসে। এর চারটি মূল অংশ: কিওয়ার্ড (মানুষ কী লিখে খোঁজেন), অন-পেজ (শিরোনাম, বিবরণ, লেখা), টেকনিক্যাল (গতি, মোবাইল, ইনডেক্স) আর বিশ্বাসযোগ্যতা (রিভিউ, উল্লেখ, লিংক)। নতুন সাইটে ফল আসতে সাধারণত কয়েক মাস লাগে, আর কেউ প্রথম পাতার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বন্ধ করলেই বিক্রি থেমে যায় — অনেক উদ্যোক্তার এই অভিজ্ঞতা আছে। গুগলের ফ্রি ফলাফল (অর্গানিক রেজাল্ট) এর উল্টো: একবার কোনো পেজ ভালো জায়গায় গেলে প্রতিদিন নতুন মানুষ আসতে থাকেন, প্রতি ক্লিকে টাকা লাগে না। কিন্তু SEO কি জিনিস, কোথা থেকে শুরু করবেন আর কোন পরামর্শ আসলে কাজের — নতুনদের কাছে এটা ধোঁয়াশা লাগে।

এই গাইডে কোনো কৌশলের শর্টকাট নেই। আছে গুগল কীভাবে কাজ করে তার সহজ ব্যাখ্যা, প্রতিটি অংশে ছোট ব্যবসার মালিক নিজে কী করতে পারেন, আর শেষে একটি ৯০ দিনের পরিকল্পনা। কোনো অংশ বিস্তারিত জানতে চাইলে সেই বিষয়ের আলাদা লেখার লিংক দেওয়া আছে।

এই লেখায় যা আছে
  1. গুগল কীভাবে র‍্যাঙ্ক করে
  2. কিওয়ার্ড রিসার্চ: মানুষ কী লিখে খোঁজেন
  3. অন-পেজ SEO: প্রতিটি পেজ ঠিক করা
  4. টেকনিক্যাল SEO
  5. কনটেন্ট: যে লেখা র‍্যাঙ্ক করে
  6. লোকাল SEO: নিজের এলাকার গ্রাহক
  7. ব্যাকলিংক: অন্যের সাইট থেকে আপনার দিকে লিংক
  8. ফল মাপা
  9. Metanoz-এ SEO-র কাজ কোথায়
  10. ৯০ দিনের পরিকল্পনা
  11. এখন কী করবেন
  12. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গুগল কীভাবে র‍্যাঙ্ক করে

গুগলের কাজ তিন ধাপে। আপনার পেজকে তিনটিই পার হতে হবে।

গুগল কীভাবে কাজ করে: ক্রল, ইনডেক্স আর র‍্যাঙ্কের তিন ধাপের ডায়াগ্রাম
গুগলে দেখাতে হলে আপনার পেজকে তিনটি ধাপই পার হতে হয় — প্রথম দুটো কারিগরি, তৃতীয়টা মানের লড়াই।
  1. ক্রল (খুঁজে পাওয়া): গুগলের প্রোগ্রাম (Googlebot) এক পেজ থেকে আরেক পেজের লিংক ধরে ইন্টারনেটে ঘোরে। আপনার সাইটে কোথাও থেকে লিংক না থাকলে বা সাইটম্যাপ জমা না দিলে নতুন পেজ খুঁজে পেতে দেরি হয়।
  2. ইনডেক্স (তালিকাভুক্ত করা): পেজ পড়ে গুগল বোঝে এটা কী নিয়ে, তারপর নিজের বিশাল তালিকায় রাখে। খুব পাতলা, অন্য পেজের নকল, বা "noindex" দেওয়া পেজ তালিকায় না-ও উঠতে পারে।
  3. র‍্যাঙ্ক (সাজানো): কেউ কিছু খুঁজলে গুগল তালিকা থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আর কাজের উত্তরগুলো আগে দেখায়। এখানে দেখা হয় লেখাটা প্রশ্নের উত্তর দেয় কি না, পেজ মোবাইলে ভালো চলে কি না, সাইটটা বিশ্বাসযোগ্য কি না, আর খোঁজকারী কোথায় আছেন।

গুগল নিজেই বলে, তারা "মানুষের জন্য লেখা, কাজের" কনটেন্টকে প্রাধান্য দেয়। তাই কিওয়ার্ড ঠেসে দেওয়া, অর্থহীন লেখা বা কেনা লিংক দিয়ে দীর্ঘ সময় টেকা যায় না। গুগল প্রতিটি বিষয়ে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা আর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেয় — ছোট ব্যবসার জন্য এর মানে আসল ছবি, আসল ঠিকানা-ফোন, আসল রিভিউ আর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।

কিওয়ার্ড রিসার্চ: মানুষ কী লিখে খোঁজেন

কিওয়ার্ড হলো সেই শব্দ বা বাক্য যা মানুষ গুগলে লেখেন। SEO-র শুরু এখান থেকেই, কারণ যে শব্দে কেউ খোঁজেন না, সেই শব্দে প্রথম হয়ে লাভ নেই।

বাংলাদেশে খোঁজার তিন রূপ

এখানে একই জিনিস মানুষ তিনভাবে খোঁজেন: বাংলায় ("জামদানি শাড়ি দাম"), ইংরেজিতে ("jamdani saree price") আর বাংলিশে ("jamdani shari dam")। আপনার গ্রাহক কোনটা বেশি লেখেন, তা দেখে পেজের ভাষা ঠিক করুন; দরকারে বাংলা ও ইংরেজি দুটো পেজ রাখুন।

ফ্রিতে কিওয়ার্ড খোঁজার উপায়

  • গুগলের সাজেশন: সার্চ বক্সে শব্দ লেখা শুরু করলে নিচে যা আসে, সেগুলো আসল মানুষের খোঁজ থেকে আসে।
  • "অন্যরা আরও জিজ্ঞেস করেছেন" আর পাতার নিচের সম্পর্কিত খোঁজ: লেখার বিষয় আর FAQ-এর প্রশ্নের ভালো উৎস।
  • গ্রাহকের প্রশ্ন: ফেসবুক ইনবক্স আর ফোনে মানুষ যে প্রশ্নগুলো বারবার করেন, সেগুলোই গুগলেও খোঁজেন।
  • Google Search Console: সাইট চালু হওয়ার পর কোন খোঁজে আপনার পেজ দেখা যাচ্ছে, তা এখান থেকে জানা যায়।

নতুন সাইটের জন্য "লম্বা" কিওয়ার্ড বেছে নিন — যেমন শুধু "কেক" নয়, "মিরপুরে জন্মদিনের কেক হোম ডেলিভারি"। এমন খোঁজে প্রতিযোগিতা কম, আর যিনি খোঁজেন তিনি কেনার কাছাকাছি। পুরো পদ্ধতি ধাপে ধাপে আছে বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চের নিয়ম লেখায়।

অন-পেজ SEO: প্রতিটি পেজ ঠিক করা

অন-পেজ SEO মানে পেজের ভেতরের যা আপনি নিজে নিয়ন্ত্রণ করেন। মূল নিয়ম: এক পেজ, এক মূল বিষয়। "আমাদের সেবা" পেজে দশটা সেবা একসাথে না রেখে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সেবার আলাদা পেজ রাখলে প্রতিটি নিজের খোঁজে দেখানোর সুযোগ পায়।

অন-পেজ SEO চেকলিস্ট: শিরোনাম, বিবরণ, হেডিং, ছবি, লিংক, URL সহ আটটি কাজ
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পেজ প্রকাশের আগে এই আটটি জিনিস মিলিয়ে নিন।

শিরোনাম ও বিবরণ

মেটা টাইটেল হলো গুগলের ফলাফলে নীল রঙের বড় লাইন, আর মেটা ডিসক্রিপশন তার নিচের দুই লাইন। শিরোনামে মূল কিওয়ার্ড শুরুর দিকে রাখুন, মোটামুটি ৬০ অক্ষরের মধ্যে, আর শেষে ব্যবসার নাম। বিবরণে লিখুন কেন ক্লিক করবেন — দাম, এলাকা, ডেলিভারি, বিশেষত্ব। প্রতিটি পেজের শিরোনাম আলাদা হতে হবে। বাংলা নমুনাসহ নিয়ম আছে মেটা টাইটেল ও ডিসক্রিপশন লেখার নিয়ম লেখায়।

হেডিং

প্রতিটি পেজে একটি প্রধান শিরোনাম (H1), তারপর অংশ ভাগ করতে H2, তার ভেতরে দরকারে H3। হেডিং শুধু বড় অক্ষর নয় — এগুলো গুগল আর পাঠক দুজনকেই পেজের কাঠামো বোঝায়। হেডিংয়ে স্বাভাবিকভাবে কিওয়ার্ড আসতে পারে, জোর করে নয়।

ছবি

ছবি পেজকে বিশ্বাসযোগ্য করে, কিন্তু বড় ফাইল সাইটকে ধীর করে। আপলোডের আগে ছবি ছোট করুন (সাধারণত কয়েকশো কিলোবাইটের মধ্যে), ফাইলের নাম অর্থবোধক দিন, আর প্রতিটি ছবির "alt" বিবরণে লিখুন ছবিতে কী আছে — যেমন "লাল জামদানি শাড়ি, সোনালি পাড়"। এতে গুগল ইমেজ সার্চেও দেখানোর সুযোগ বাড়ে।

ইন্টারনাল লিংক

নিজের সাইটের এক পেজ থেকে আরেক পেজে লিংক দিন — ব্লগ লেখা থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবার পেজে, সেবার পেজ থেকে প্রশ্নোত্তরে। এতে গুগল নতুন পেজ দ্রুত খুঁজে পায়, বোঝে কোন পেজ গুরুত্বপূর্ণ, আর ভিজিটর বেশিক্ষণ থাকেন। লিংকের লেখা বর্ণনামূলক রাখুন ("ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ"), "এখানে ক্লিক" নয়।

টেকনিক্যাল SEO

টেকনিক্যাল SEO হলো সেই ভিত্তি যার ওপর বাকি সব দাঁড়ায়। ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহার করলে এর বড় অংশ প্ল্যাটফর্মই সামলায়, তবু পরীক্ষা করে নেওয়া আপনার কাজ।

বিষয়কেন জরুরিকী দেখবেন
মোবাইলগুগল মূলত পেজের মোবাইল সংস্করণ দেখে মূল্যায়ন করেফোনে লেখা পড়া যায়, বোতাম চাপা যায়, পাশে সরে না
গতিধীর পেজ থেকে মানুষ ফিরে যানবড় ছবি, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিপ্ট, দুর্বল হোস্টিং
https"Not secure" আস্থা নষ্ট করে; https একটি ছোট র‍্যাঙ্কিং সংকেতসব পেজে তালার চিহ্ন
সাইটম্যাপগুগলকে সব পেজের তালিকা দেয়yoursite.com/sitemap.xml খোলে কি না, Search Console-এ জমা
ইনডেক্সতালিকায় না থাকলে দেখানোর প্রশ্নই নেইSearch Console-এ পেজগুলো "Indexed" কি না
ভাঙা লিংক ও ডুপ্লিকেটভিজিটর আর গুগল দুজনেরই সময় নষ্ট404 পেজ, একই লেখা একাধিক ঠিকানায়

ছোট ব্যবসার সাইটে সবচেয়ে সাধারণ টেকনিক্যাল সমস্যা হলো বড় ছবি আর ভুলে "noindex" থেকে যাওয়া পেজ — এই দুটো আগে দেখুন।

কনটেন্ট: যে লেখা র‍্যাঙ্ক করে

লম্বা লেখা মানেই ভালো লেখা নয়। গুগলে টিকে থাকে সেই লেখা যা খোঁজকারীর প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে দেয়। কয়েকটি নিয়ম:

  • উত্তর আগে, ব্যাখ্যা পরে: প্রথম অনুচ্ছেদেই মূল উত্তর দিন; তারপর বিস্তারিত।
  • নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করুন: আপনার এলাকা, আপনার পণ্য, আপনার গ্রাহকের সাধারণ প্রশ্ন — এমন তথ্য যা অন্য কেউ সহজে নকল করতে পারে না।
  • পণ্য ও সেবার পেজেও লেখা দিন: শুধু ছবি আর দাম দিলে গুগল বোঝার মতো কিছু পায় না। মাপ, উপাদান, ব্যবহারের নিয়ম, ডেলিভারির তথ্য লিখুন।
  • নিয়মিত ব্লগ: গ্রাহকের প্রশ্ন ধরে মাসে দুই-চারটি ভালো লেখা অনেক এলোমেলো লেখার চেয়ে বেশি কাজ দেয়।
  • পুরনো লেখা হালনাগাদ: দাম, নিয়ম বা তথ্য বদলালে পুরনো পেজ ঠিক করুন; নতুন পেজ বানানোর চেয়ে এটা প্রায়ই বেশি কার্যকর।

কী নিয়ে লিখবেন আর কত ঘন ঘন, তা আছে ব্যবসার জন্য ব্লগ লেখার নিয়ম লেখায়।

AI দিয়ে লেখা নিয়ে সতর্কতা: AI খসড়া বানাতে সাহায্য করে, কিন্তু যাচাই না করা, সাধারণ কথায় ভরা শত শত পেজ প্রকাশ করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। তথ্য মিলিয়ে নিন, নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করুন, তারপর প্রকাশ করুন।

লোকাল SEO: নিজের এলাকার গ্রাহক

দোকান, রেস্টুরেন্ট, ক্লিনিক, কোচিং বা পার্লার — যাঁদের গ্রাহক নির্দিষ্ট এলাকার, তাঁদের জন্য সবচেয়ে দ্রুত ফল দেয় লোকাল SEO। কেউ "কাছের ডেন্টাল ক্লিনিক" বা "উত্তরায় বিরিয়ানি" খুঁজলে গুগল ম্যাপসহ যে তালিকা দেখায়, সেখানে জায়গা পাওয়াই লক্ষ্য। গুগল জানিয়েছে এখানে তিনটি জিনিস দেখা হয়: প্রাসঙ্গিকতা, দূরত্ব আর পরিচিতি।

  1. Google Business Profile খুলুন ও যাচাই করুন: সঠিক ক্যাটাগরি, ঠিকানা, ফোন, খোলার সময়, ছবি আর ওয়েবসাইটের লিংক দিন। ধাপগুলো আছে Google Business Profile খোলার নিয়মে।
  2. সব জায়গায় একই তথ্য: ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ আর অন্য ডিরেক্টরিতে নাম-ঠিকানা-ফোন হুবহু এক রাখুন।
  3. আসল রিভিউ: সন্তুষ্ট গ্রাহককে রিভিউ দিতে অনুরোধ করুন, আর প্রতিটি রিভিউর উত্তর দিন। কেনা বা ভুয়া রিভিউ কখনো নয়।
  4. এলাকাভিত্তিক পেজ: একাধিক শাখা বা সেবা-এলাকা থাকলে প্রতিটির জন্য আসল তথ্যসহ আলাদা পেজ।

বিস্তারিত কৌশল আছে লোকাল SEO-র গাইডে।

অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য সাইট আপনার পেজে লিংক দিলে গুগল সেটাকে এক ধরনের সুপারিশ হিসেবে দেখে। তবে সংখ্যার চেয়ে মান অনেক বেশি জরুরি — প্রাসঙ্গিক, আসল সাইটের একটি লিংক শত শত আজেবাজে লিংকের চেয়ে ভালো।

যেভাবে লিংক পাওয়া ভালো

  • সাপ্লায়ার, পার্টনার বা ব্র্যান্ডের "যেখানে পাওয়া যায়" তালিকায় নাম
  • স্থানীয় সংবাদ, ব্লগ বা কমিউনিটি পেজে আপনার কাজ নিয়ে লেখা
  • ব্যবসায়িক সংগঠন বা চেম্বারের সদস্য তালিকা
  • এত কাজের লেখা, যা মানুষ নিজে থেকে শেয়ার করেন

যা এড়িয়ে চলবেন

  • "১০০০ ব্যাকলিংক ৫০০ টাকায়" ধরনের প্যাকেজ
  • অপ্রাসঙ্গিক সাইটে টাকা দিয়ে লিংক কেনা
  • মন্তব্যে বা ফোরামে লিংক ছড়ানো
  • লিংক বিনিময়ের চক্র

গুগলের নির্দেশিকা অনুযায়ী র‍্যাঙ্ক বাড়ানোর জন্য লিংক কেনা-বেচা নিয়মবিরুদ্ধ; ধরা পড়লে ক্ষতি হতে পারে। ছোট ব্যবসার জন্য ব্যাকলিংকের চেয়ে কনটেন্ট, লোকাল SEO আর রিভিউতে সময় দেওয়া সাধারণত বেশি কাজের।

ফল মাপা

যা মাপেন না, তা উন্নত করা যায় না। দুটো ফ্রি টুল যথেষ্ট:

  • Google Search Console: কোন খোঁজে আপনার পেজ কতবার দেখা গেছে (impressions), কতজন ক্লিক করেছেন, গড় অবস্থান কত, আর কোন পেজে ইনডেক্সের সমস্যা। শুরু করার নিয়ম আছে Google Search Console গাইডে।
  • Google Analytics: সাইটে আসার পর মানুষ কী করেন — কোন পেজ দেখেন, কতক্ষণ থাকেন, অর্ডার বা ফর্ম জমা দেন কি না। বসানোর নিয়ম Pixel ও Analytics সেটআপ লেখায়।

মাসে একবার Search Console খুলে দেখুন: কোন পেজের impressions বাড়ছে কিন্তু ক্লিক কম (শিরোনাম-বিবরণ ভালো করুন), কোন খোঁজে আপনি ১১–২০ নম্বরে আছেন (সেই পেজ আরও কাজের করুন), আর কোন পেজ ইনডেক্স হয়নি।

Metanoz-এ SEO-র কাজ কোথায়

ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহার করলে কারিগরি অংশ অনেকটাই হয়ে থাকে, আর বাকি কাজগুলো এক জায়গায় পাওয়া যায়। Metanoz-এ সব প্ল্যানে SEO টুল আছে: Admin → SEO → Settings-এ সাইটের নাম, মূল বিবরণ, শেয়ারের ছবি আর Search Console যাচাইয়ের কোড; SEO → Meta-তে প্রতিটি পেজ, পণ্য ও ক্যাটাগরির শিরোনাম-বিবরণ; সাইটম্যাপ yoursite.com/sitemap.xml-এ; আর SEO → Audit চালালে দেখায় কোথায় শিরোনাম, ছবির বিবরণ বা লেখা কম আছে। সাইট মোবাইল-রেডি, https ফ্রি, আর অ্যাডমিনের Metanoz AI-কে বাংলায় বলে পেজের শিরোনাম-বিবরণ ঠিক করানো বা ব্লগ লেখার খসড়া বানানো যায় (Metanoz AI সম্পর্কে)।

Metanoz হেল্প সেন্টারে SEO-র প্রাথমিক কাজের গাইডের স্ক্রিনশট
ওয়েবসাইট বিল্ডারে শিরোনাম, বিবরণ, সাইটম্যাপ আর অডিট এক জায়গায় থাকলে কারিগরি অংশ অনেক সহজ হয়।

তবে মনে রাখুন, কোনো টুল নিজে থেকে র‍্যাঙ্ক এনে দেয় না — কিওয়ার্ড বাছাই, ভালো লেখা আর আসল রিভিউ আপনাকেই করতে হবে। ধাপগুলো আছে হেল্প সেন্টারের SEO গাইডে।

৯০ দিনের পরিকল্পনা

নতুন বা অবহেলিত সাইটের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ক্রম। প্রতি সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা দিলেই চলে।

সময়কাজ
১–২ সপ্তাহSearch Console যুক্ত করা, সাইটম্যাপ জমা, https ও মোবাইল পরীক্ষা, Google Business Profile (দোকান থাকলে)
৩–৪ সপ্তাহ২০–৩০টি কিওয়ার্ডের তালিকা; কোন কিওয়ার্ড কোন পেজে, তা ঠিক করা
৫–৬ সপ্তাহহোম, সেবা/ক্যাটাগরি আর সেরা পণ্যের পেজে শিরোনাম, বিবরণ, হেডিং, ছবির alt আর লেখা ঠিক করা
৭–১০ সপ্তাহগ্রাহকের প্রশ্ন ধরে ৪–৬টি কাজের ব্লগ লেখা, সংশ্লিষ্ট পেজে ইন্টারনাল লিংক
১১–১২ সপ্তাহরিভিউ চাওয়া, পার্টনার-সাপ্লায়ারের সাইটে উল্লেখ, Search Console দেখে শিরোনাম ও লেখা উন্নত করা

৯০ দিন পরে সাধারণত Search Console-এ impressions বাড়তে দেখা যায়; ক্লিক আর বিক্রি আসে তার পরে, ধীরে ধীরে। ধৈর্য রাখুন আর কাজটা নিয়মিত চালিয়ে যান। দ্রুত কোন দশটি কাজ সবচেয়ে বেশি ফল দেয়, তার তালিকা আছে গুগলের প্রথম পাতায় আনার ১০টি বাস্তব উপায় লেখায়।

এখন কী করবেন

আজ শুধু দুটো কাজ করুন: আপনার সাইট Search Console-এ যুক্ত করুন, আর হোমপেজের শিরোনাম-বিবরণ পড়ে দেখুন সেখানে আপনার মূল সেবা আর এলাকা আছে কি না। সাইট এখনো না থাকলে এমন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন যেখানে মোবাইল-রেডি ডিজাইন, https, সাইটম্যাপ আর SEO টুল শুরু থেকেই আছে — তাহলে আপনার সময় যাবে লেখা আর গ্রাহকের পেছনে, কারিগরি ঝামেলায় নয়।

নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন

টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।

বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

SEO কি নিজে শেখা যায়?

হ্যাঁ। ছোট ব্যবসার জন্য দরকারি SEO — কিওয়ার্ড বাছাই, শিরোনাম-বিবরণ, ভালো লেখা, Google Business Profile আর Search Console — নিজে শেখা ও করা যায়। বড় বা জটিল সাইটে বিশেষজ্ঞের সাহায্য কাজে দেয়।

SEO-র ফল পেতে কত দিন লাগে?

নতুন সাইটে সাধারণত কয়েক মাস। প্রতিযোগিতা কম এমন লম্বা কিওয়ার্ড আর লোকাল খোঁজে আগে ফল আসে; প্রতিযোগিতাপূর্ণ শব্দে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।

কেউ কি গুগলের প্রথম পাতার নিশ্চয়তা দিতে পারে?

না। র‍্যাঙ্কিং গুগল ঠিক করে, আর গুগল নিজেও সতর্ক করে যে কেউ নিশ্চিত র‍্যাঙ্কের প্রতিশ্রুতি দিলে সাবধান থাকুন।

SEO-র জন্য কি টাকা দিতে হয়?

গুগলের অর্গানিক ফলাফলে জায়গা পেতে গুগলকে টাকা দিতে হয় না। খরচ হয় সময়ে, অথবা কাউকে দিয়ে কাজ করালে তাঁর পারিশ্রমিকে। বিজ্ঞাপন (Google Ads) আলাদা জিনিস।

বাংলা নাকি ইংরেজিতে লিখব?

আপনার গ্রাহক যে ভাষায় খোঁজেন, সেই ভাষায়। দেশের সাধারণ গ্রাহকের জন্য বাংলা পেজ প্রায়ই ভালো কাজ করে; প্রবাসী বা করপোরেট ক্রেতার জন্য ইংরেজি। দুটো লাগলে আলাদা পেজ রাখুন।

ফেসবুক পেজ থাকলে কি ওয়েবসাইটের SEO লাগে?

ফেসবুক পেজ গুগলে সীমিতভাবে দেখায়, আর পণ্য-সেবার আলাদা পেজ বা লেখা সেখানে র‍্যাঙ্ক করানো কঠিন। গুগল থেকে নিয়মিত গ্রাহক চাইলে নিজের ওয়েবসাইট আর তার SEO দরকার।

SEO আর গুগল বিজ্ঞাপনের পার্থক্য কী?

বিজ্ঞাপনে টাকা দিলে সাথে সাথে ওপরে দেখায়, টাকা বন্ধ করলে দেখানোও বন্ধ। SEO-তে সময় লাগে, কিন্তু একবার জায়গা পেলে প্রতি ক্লিকে খরচ ছাড়াই ভিজিটর আসতে থাকেন।

SEO কি এসইও শেখা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন SEO বাংলা ওয়েবসাইট গুগলে আনা
Metanoz টিম
Metanoz বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য তৈরি একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার। আমাদের টিম নিজেরা প্ল্যাটফর্ম বানায় ও চালায়, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই গাইডগুলো লেখে ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। প্রশ্ন থাকলে হেল্প সেন্টার দেখুন বা যোগাযোগ করুন।
শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp LinkedIn

আমরা এখন অফিসের বাইরেWe are outside office hours

অফিস সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা। নম্বর রেখে যান, অফিস খুললেই আমরা কল করব।Office hours: Saturday–Thursday, 9 AM – 9 PM. Leave your number and we will call you when we open.

তবুও WhatsApp-এ লিখুনWrite on WhatsApp anyway