এনজিও ওয়েবসাইটের মূল কাজ দাতা ও সহযোগীর আস্থা তৈরি করা। তাই সাইটে রাখুন: আপনার লক্ষ্য ও পরিচালনা পর্ষদ, প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা পাতা (কোথায়, কাদের জন্য, কী ফল), বার্ষিক প্রতিবেদন ও হিসাব, নিবন্ধনের তথ্য, স্বেচ্ছাসেবক আবেদনের ফর্ম আর মাঠের নিয়মিত হালনাগাদ। অনুদানের জন্য বিকাশ-নগদ আর কার্ডে দেওয়ার সহজ পাতা, সাথে সাথে রসিদ, আর পরে দাতাকে ফল জানানো — এটাই বারবার অনুদান আনে। বিদেশি অনুদান নিলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিয়ম মেনে চলুন।
বন্যা বা শীতের সময় অনেক সংগঠন ফেসবুক পোস্টে বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা তোলে। জরুরি সময়ে এটা কাজ করে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দাতারা জানতে চান: সংগঠনটা কারা চালান, নিবন্ধিত কি না, আগের টাকা কোথায় খরচ হলো, ফল কী হলো। একটা গোছানো ওয়েবসাইট এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এক জায়গায় দেয়। এই লেখায় দেখাব এনজিও, ফাউন্ডেশন, ক্লাব বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ওয়েবসাইটে কী রাখবেন, প্রকল্প ও হিসাব কীভাবে দেখাবেন, আর অনলাইনে অনুদান নেওয়ার নিয়ম।
এই লেখায় যা আছে
দাতা কী দেখতে চান
একজন সম্ভাব্য দাতা — ব্যক্তি, প্রবাসী বা প্রতিষ্ঠান — সাইটে এসে সাধারণত কয়েক মিনিটে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি খোঁজেন:
- আপনারা কারা: প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালনা পর্ষদ, কত বছর ধরে কাজ করছেন — আসল নাম আর ছবিসহ।
- ঠিক কী করেন: "মানবসেবা" নয় — "সিরাজগঞ্জের চরে শিশুদের জন্য নৌকা স্কুল"।
- টাকা কোথায় যায়: খরচের হিসাব, বার্ষিক প্রতিবেদন, অডিট।
- ফল কী হয়েছে: কতজন উপকৃত, কী বদলেছে — আসল সংখ্যা, প্রমাণসহ।
- বৈধতা: কোন দপ্তরে নিবন্ধিত, নিবন্ধন নম্বর।
- কীভাবে দেবেন: সহজ, নিরাপদ উপায় আর রসিদ।
উপকারভোগীর সংখ্যা, প্রভাব বা সাফল্যের গল্প বাড়িয়ে বলবেন না। দাতারা মাঠে গিয়ে বা অন্যের কাছ থেকে যাচাই করতে পারেন; একবার অতিরঞ্জন ধরা পড়লে পুরো সংগঠনের সুনাম যায়।
প্রয়োজনীয় পেজ

পেজ বাছাইয়ের সাধারণ নিয়ম আর কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কী লাগে, তার তুলনা আছে ব্যবসা অনুযায়ী ওয়েবসাইট গাইডে।
উপকারভোগীর মর্যাদা রক্ষা
ছবি আর গল্পে উপকারভোগীর মর্যাদা রাখুন। শিশু, নারী বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ছবি তাঁদের (শিশুর ক্ষেত্রে অভিভাবকের) অনুমতি নিয়ে দিন, অসহায়ত্ব প্রদর্শনের ছবি এড়িয়ে চলুন, আর প্রয়োজনে নাম বা মুখ গোপন রাখুন। কাজের ছবি — স্কুল চলছে, নলকূপ বসানো হচ্ছে — অনেক সময় বেশি আস্থা তৈরি করে।
প্রকল্প ও প্রতিবেদন
প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা পাতা
একটা পাতায় সব প্রকল্পের নাম লিখে দেওয়ার চেয়ে প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা পাতা অনেক বেশি কাজের। প্রতিটি পাতায়:
- সমস্যা: কোথায়, কাদের, কী সমস্যা — সংক্ষেপে।
- আপনার কাজ: কী করছেন, কবে থেকে, কাদের সাথে।
- ফল: এখন পর্যন্ত কী হয়েছে — আসল সংখ্যা আর তারিখ।
- খরচ: প্রকল্পের মোট বাজেট বা প্রতি উপকারভোগীর আনুমানিক খরচ।
- কীভাবে সাহায্য করবেন: অনুদান, স্বেচ্ছাসেবা বা উপকরণ — সরাসরি বোতাম।
প্রতিবেদন আর হিসাব
বার্ষিক প্রতিবেদন আর অডিট রিপোর্ট পিডিএফ হিসেবে দিন, কিন্তু মূল কথা — মোট আয়, কোন খাতে কত খরচ, কী অর্জন — পাতাতেই লিখুন, যাতে ফোনে পড়া যায়। ছোট সংগঠন হলেও একটা সরল বার্ষিক হিসাব প্রকাশ করুন; স্বচ্ছতা আকারের ওপর নির্ভর করে না।
মাঠের হালনাগাদ
ব্লগ বা খবর অংশে মাসে অন্তত একবার মাঠের খবর দিন: কোন গ্রামে কী হলো, কোন ক্যাম্পেইনের টাকায় কী কেনা হলো। পুরনো দাতারা এগুলো দেখেই আবার দেন।
অনুদান

অনুদানের পাতা
- ক্যাম্পেইন ভিত্তিক: "৫০টি পরিবারের শীতবস্ত্র — লক্ষ্য ৳১,০০,০০০" — লক্ষ্য, গল্প আর কত উঠেছে দেখালে মানুষ সাড়া দেন বেশি।
- পরিচিত উপায়: বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড আর ব্যাংক ট্রান্সফার। দেশের দাতাদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং, প্রবাসীদের জন্য কার্ড বা ব্যাংক।
- প্রতিষ্ঠানের নামে অ্যাকাউন্ট: ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অনুদান নিলে হিসাব আর আস্থা দুটোই দুর্বল হয়। সংগঠনের নামে ব্যাংক ও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট রাখুন।
- সাথে সাথে রসিদ: দাতার নাম, অঙ্ক, তারিখ আর ক্যাম্পেইনের নাম।
- মাসিক অনুদান: নিয়মিত দাতার জন্য প্রতি মাসে মনে করানোর ব্যবস্থা — ছোট মাসিক অঙ্ক বছরে বড় সহায়তা হয়।
- দাতার তালিকা (ঐচ্ছিক): যাঁরা রাজি, তাঁদের নাম কৃতজ্ঞতার সাথে প্রকাশ; যাঁরা নাম গোপন রাখতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ।
নিয়মকানুন
বাংলাদেশে বিদেশি উৎস থেকে অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন আর অনুমোদনের নিয়ম প্রযোজ্য। দেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিবন্ধন সাধারণত সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হয়, আর কর ছাড়ের নিয়ম আলাদা। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; আপনার সংগঠনের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর আর একজন অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষক বা আইনজীবীর কাছ থেকে নিশ্চিত হোন।
দুর্যোগের সময় জরুরি ক্যাম্পেইন
বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা শীতের সময় অনেক মানুষ একসাথে সাহায্য করতে চান, আর তখনই ভুয়া ক্যাম্পেইনও বাড়ে। আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে আপনার সংগঠনকে মানুষ দ্রুত বিশ্বাস করবেন:
- একটা জরুরি পাতার কাঠামো তৈরি রাখুন: কোথায় দুর্যোগ, আপনার দল কোথায় কাজ করছে, একটা প্যাকেজে কী থাকে আর কত খরচ (যেমন "একটি পরিবারের খাদ্য সহায়তা")।
- একটাই অফিসিয়াল পথ: ওয়েবসাইটের ক্যাম্পেইন পাতা আর সংগঠনের অফিসিয়াল নম্বর। ফেসবুকে লিখে দিন — এর বাইরে কেউ আপনার নামে টাকা চাইলে সেটা আপনার নয়।
- প্রতিদিন হালনাগাদ: কত উঠল, কত পরিবারের কাছে পৌঁছাল, কোন এলাকায় — ছবিসহ ছোট খবর।
- ক্যাম্পেইন শেষে হিসাব: মোট আয়, খরচ, বাকি থাকলে কোথায় যাবে — এক পাতায়, সবার জন্য।
যাঁরা এবার দেখলেন আপনি হিসাব দেন, পরের দুর্যোগে তাঁরাই প্রথমে আপনাকে খুঁজবেন।
স্বেচ্ছাসেবক
অনেক তরুণ সময় দিতে চান, কিন্তু কোথায় শুরু করবেন জানেন না। স্বেচ্ছাসেবক পাতায়:
- কী কাজ: ত্রাণ বিতরণ, শিশুদের পড়ানো, ছবি তোলা, সোশ্যাল মিডিয়া, হিসাব রাখা।
- কতটা সময়: সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা, শুধু ছুটির দিন, বা দুর্যোগের সময়।
- আবেদন ফর্ম: নাম, ফোন, এলাকা, দক্ষতা, কখন সময় দিতে পারবেন।
- পরের ধাপ: আবেদনের পর কবে যোগাযোগ করবেন, প্রশিক্ষণ বা পরিচিতি সভা কবে।
- আচরণবিধি: বিশেষ করে শিশু ও নারীদের সাথে কাজে সুরক্ষা নীতি।
যে ভুলগুলো এড়াবেন
- পুরনো খবর: দুই বছর আগের শেষ পোস্ট দেখলে দাতা ভাবেন সংগঠন আর সক্রিয় নেই।
- শুধু আবেগ, তথ্য নেই: হৃদয়ছোঁয়া ছবি আছে, কিন্তু কোথায়, কবে, কত খরচ — নেই।
- ব্যক্তিগত নম্বরে অনুদান: হিসাব মেলানো কঠিন, আস্থাও কম।
- শুধু ইংরেজি বা শুধু বাংলা: দেশের দাতার জন্য বাংলা, আন্তর্জাতিক সহযোগীর জন্য ইংরেজি — মূল পেজগুলো দুই ভাষায় রাখুন।
Metanoz-এ সংগঠনের ওয়েবসাইট
Metanoz-এ রাজনৈতিক ও সংগঠনের জন্য ১১টি টেমপ্লেট আছে, আর ওয়েবসাইট বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় বানানো যায়। Business প্ল্যানে (দাম জানতে যোগাযোগ করুন) ডোনেশন অ্যাপে লক্ষ্য আর গল্পসহ অনুদান ক্যাম্পেইন চালানো যায়; অনলাইনে বা বিকাশ-নগদে দান, রসিদ, দাতার তালিকা আর মাসিক মনে করানোর ব্যবস্থা আছে। ফর্ম বিল্ডার দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক আবেদন, ইভেন্ট অ্যাপে কর্মসূচি, ব্লগে মাঠের খবর আর গ্যালারিতে ছবি রাখা যায়; সদস্য থাকলে মেম্বার এরিয়া অ্যাপও আছে। সব অ্যাপ দেখুন অ্যাপের তালিকায়, আর তৈরি নকশা দেখুন সংগঠনের টেমপ্লেটে।

রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর সাইট আলাদা বিষয় — সেটা নিয়ে আছে রাজনৈতিক ওয়েবসাইট লেখায়; মাদ্রাসা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য দেখুন মাদ্রাসার ওয়েবসাইট।
এবার কী করবেন
এই সপ্তাহে তিনটি জিনিস গুছিয়ে ফেলুন: পরিচালনা পর্ষদের নাম ও ছবি, চলমান প্রকল্পগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ আসল সংখ্যাসহ, আর গত বছরের সরল হিসাব। এগুলো দিয়েই প্রথম সংস্করণের সাইট দাঁড় করানো যায়; অনুদান ক্যাম্পেইন যোগ করুন তার পরে।
নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন
টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।
বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুনসচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এনজিও ওয়েবসাইটে কী কী থাকা উচিত?
লক্ষ্য ও পরিচালনা পর্ষদ, প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা পাতা, বার্ষিক প্রতিবেদন ও হিসাব, নিবন্ধনের তথ্য, অনুদানের পাতা, স্বেচ্ছাসেবক আবেদন, খবর ও গ্যালারি, আর যোগাযোগ।
ওয়েবসাইটে কি বিকাশে অনুদান নেওয়া যায়?
যায়। দাতা সংগঠনের নম্বরে টাকা পাঠিয়ে TrxID দেন, বা গেটওয়ের মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করেন। ব্যক্তিগত নয়, সংগঠনের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন।
বিদেশ থেকে অনুদান নিতে কী লাগে?
বিদেশি উৎস থেকে অনুদানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন ও অনুমোদনের নিয়ম প্রযোজ্য। আপনার সংগঠনের ক্ষেত্রে কী লাগবে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর আর পরামর্শকের কাছ থেকে নিশ্চিত হোন।
ছোট সংগঠনের কি হিসাব প্রকাশ করা দরকার?
আইনি বাধ্যবাধকতা সংগঠনের ধরনভেদে আলাদা, কিন্তু আস্থার জন্য সরল একটা বার্ষিক হিসাব — মোট আয়, খাতওয়ারি খরচ — প্রকাশ করা সবসময় ভালো।
উপকারভোগীর ছবি দেওয়া যাবে?
অনুমতি নিয়ে আর মর্যাদা রেখে। শিশুর ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নিন, অসহায়ত্ব প্রদর্শনের ছবি এড়িয়ে চলুন, প্রয়োজনে মুখ বা নাম গোপন রাখুন।
ফেসবুক পেজ থাকলে কি ওয়েবসাইট লাগে?
পেজ খবর ছড়ায়, ওয়েবসাইট আস্থা তৈরি করে — প্রকল্প, হিসাব, নিবন্ধন আর অনুদান এক জায়গায়। বড় দাতা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাধারণত ওয়েবসাইটই দেখেন।
রেস্টুরেন্টের ওয়েবসাইট: মেনু, টেবিল বুকিং আর অনলাইন অর্ডার এক জায়গায়
How to Start a News Portal in Bangladesh (Design, Speed, Registration)
Doctor and Clinic Websites in Bangladesh: Appointments and Trust