বেশিরভাগ ব্যবসার জন্য .com ডোমেইনই সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ — যেকোনো রেজিস্ট্রার বা দেশি রিসেলারের কাছ থেকে কয়েক মিনিটে কেনা যায়, দাম সাধারণত বছরে আনুমানিক ৳১,২০০–২,০০০। দেশের ভেতরে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় জোরালো করতে চাইলে .com.bd নিতে পারেন, তবে এর জন্য সাধারণত কাগজপত্র লাগে। যেখান থেকেই কিনুন, তিনটি নিয়ম মানবেন: ডোমেইন নিজের নামে কিনবেন, নবায়নের দাম আগে দেখবেন, আর অটো-রিনিউ ও ডোমেইন লক চালু রাখবেন।
ডোমেইন হলো ইন্টারনেটে আপনার ব্যবসার ঠিকানা — yourshop.com-এর মতো। দোকানের সাইনবোর্ড যেমন একবার লাগিয়ে বছরের পর বছর রাখেন, ডোমেইনও তেমন। তাই কেনার সময় একটু সতর্ক থাকলে পরে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়: অন্যের নামে নিবন্ধিত ডোমেইন ফেরত পেতে ভোগান্তি, নবায়নের সময় হঠাৎ বেশি দাম, বা মেয়াদ শেষে ডোমেইন হারিয়ে যাওয়া। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখাব কীভাবে ঠিকভাবে ডোমেইন কিনবেন আর ওয়েবসাইটে যুক্ত করবেন। ডোমেইন, হোস্টিং আর DNS-এর মূল ধারণা জানতে চাইলে আগে পড়ুন ডোমেইন ও হোস্টিং কী।
এই লেখায় যা আছে
কেনার আগে নাম ঠিক করুন
ডোমেইনের নাম বদলানো কঠিন, তাই সময় নিয়ে ঠিক করুন। কয়েকটি সহজ নিয়ম:
- ছোট আর বলা সহজ: ফোনে কাউকে বললে যেন একবারেই বোঝেন।
- বানানে বিভ্রান্তি নেই: বাংলা নামের ইংরেজি বানান অনেক রকম হয় (যেমন "shaj", "saj", "shaaj")। সবচেয়ে প্রচলিত বানানটা নিন।
- হাইফেন আর সংখ্যা এড়িয়ে চলুন: মুখে বলতে আর মনে রাখতে ঝামেলা।
- ব্যবসার নামের সাথে মিল: ফেসবুক পেজ, দোকানের সাইনবোর্ড আর ডোমেইনে একই নাম থাকলে মানুষ সহজে খুঁজে পান।
- অন্যের ট্রেডমার্ক নয়: পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম বা তার কাছাকাছি নাম নিলে আইনি ঝামেলা হতে পারে।
নাম বাছাইয়ের আরও টিপস আছে ব্যবসার ডোমেইন নাম বাছাইয়ের ১০টি টিপস লেখায়।
কোন এক্সটেনশন: .com, .com.bd নাকি অন্য কিছু
ডোমেইনের শেষ অংশটাকে বলে এক্সটেনশন। বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য মূলত দুটো বিকল্প মাথায় আসে:

.com
সারা বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত। মানুষ ঠিকানা মনে না থাকলে প্রায় আপনা থেকেই ".com" লেখেন। কাগজপত্র লাগে না, কেনার কয়েক মিনিটের মধ্যে চালু হয়। দেশের বাইরের গ্রাহকও থাকলে .com সবচেয়ে ভালো।
.com.bd
বাংলাদেশের দেশভিত্তিক ডোমেইন। এটা দেখলে মানুষ বোঝেন প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের। .bd ডোমেইনের নিবন্ধন BTCL-এর মাধ্যমে হয় — সরাসরি বা তাদের অনুমোদিত রিসেলারের মাধ্যমে — আর সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স বা পরিচয়পত্রের মতো কাগজ চাওয়া হয়। তাই চালু হতে .com-এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। কোন কাগজ লাগে আর কীভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত আছে .com.bd ডোমেইন লেখায়।
দুটোই নিলে কেমন হয়?
অনেক প্রতিষ্ঠান .com আর .com.bd দুটোই নেয়, যাতে অন্য কেউ একই নাম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে। একটিকে মূল ঠিকানা রেখে অন্যটিকে সেখানে পাঠিয়ে (রিডাইরেক্ট) দেওয়া যায়। শুরুতে বাজেট কম থাকলে একটিই যথেষ্ট।
কোথা থেকে কিনবেন
.com-এর মতো ডোমেইন দুই ধরনের জায়গা থেকে কেনা যায়:
- আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্রার: সরাসরি বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সাধারণত কার্ড বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট লাগে, দাম ডলারে।
- দেশি রিসেলার বা হোস্টিং প্রতিষ্ঠান: টাকায় দাম, বিকাশ-নগদে পরিশোধ, বাংলায় সাপোর্ট। শুধু নিশ্চিত হোন যে ডোমেইন আপনার নামে নিবন্ধিত হচ্ছে আর আপনি নিজে প্যানেলে লগইন করতে পারবেন।
সবচেয়ে বড় ভুল: ডেভেলপার বা বিক্রেতাকে বলে দেওয়া "আপনিই কিনে দিন" — আর ডোমেইনটা তাঁর অ্যাকাউন্টে, তাঁর নামে থেকে যাওয়া। পরে সম্পর্ক খারাপ হলে বা তিনি যোগাযোগ বন্ধ করলে নিজের ঠিকানাই ফেরত পাওয়া কঠিন হয়। কাউকে দিয়ে কেনালেও মালিকের নাম, ইমেইল আর লগইন আপনার হতে হবে।
Metanoz ডোমেইন বিক্রি করে না; আপনি যেকোনো বিক্রেতার কাছ থেকে নিজের নামে কিনে Metanoz সাইটে যুক্ত করবেন। আগে থেকেই ডোমেইন থাকলে সেটাই চলবে।
দাম আর নবায়ন: যেখানে ফাঁদ থাকে
একটি .com ডোমেইনের দাম সাধারণত বছরে আনুমানিক ৳১,২০০–২,০০০; ডলারের দাম আর বিক্রেতা অনুযায়ী কম-বেশি হয়। কিন্তু শুধু প্রথম বছরের দাম দেখে কিনবেন না:
| কী দেখবেন | কেন |
|---|---|
| নবায়নের দাম | প্রথম বছরের অফার কম, পরের বছর থেকে বেশি হতে পারে |
| WHOIS প্রাইভেসি | আপনার ফোন-ঠিকানা সবার কাছে দেখানো বন্ধ রাখে; কেউ বিনামূল্যে দেয়, কেউ টাকা নেয় |
| ট্রান্সফারের নিয়ম | পরে অন্য বিক্রেতার কাছে নিতে চাইলে কোড (EPP/Auth code) পাবেন কি না |
| প্যানেলের অ্যাক্সেস | DNS নিজে বদলাতে পারবেন কি না, নাকি প্রতিবার বিক্রেতাকে বলতে হবে |
খরচ বাঁচাতে চাইলে কয়েক বছরের জন্য একসাথে নবায়ন করে রাখতে পারেন। ওয়েবসাইটের সব খরচের পূর্ণ হিসাব দেখুন ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ লেখায়।
ধাপে ধাপে ডোমেইন কেনা ও চালু করা

- নাম খুঁজুন: বিক্রেতার সার্চ বক্সে নাম লিখে দেখুন খালি আছে কি না। না থাকলে ছোট পরিবর্তন বা অন্য এক্সটেনশন ভাবুন।
- নিজের তথ্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন: এমন ইমেইল দিন যেটা বছরের পর বছর চালু থাকবে — নবায়নের নোটিশ সেখানেই আসবে।
- কিনুন: কত বছরের জন্য নেবেন বেছে নিন, পরিশোধ করুন, রশিদ রেখে দিন।
- নিরাপত্তা চালু করুন: অটো-রিনিউ, ডোমেইন লক (ট্রান্সফার লক) আর অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের লগইন।
- ওয়েবসাইটে যুক্ত করুন: আপনার ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম যে DNS সেটিং দেখায়, সেটা ডোমেইন প্যানেলে বসান।
- পরীক্ষা করুন: ডোমেইন দিয়ে সাইট খোলে কি না, ঠিকানার পাশে তালার চিহ্ন (https) আছে কি না দেখুন।
কেনার পর ওয়েবসাইটে যুক্ত করা
Metanoz-এ প্রতিটি সাইট শুরুতে yourname.metanoz.com ঠিকানায় চলে। নিজের ডোমেইন যুক্ত করতে Admin → Website পেজের "Connect domain" অংশে ডোমেইনটি লিখে অনুরোধ পাঠান, আর সেখানে দেখানো DNS সেটিং (nameserver বা record) আপনার ডোমেইন প্যানেলে বসান। Metanoz টিম অনুরোধটি যাচাই করে চালু করে। DNS ছড়িয়ে পড়তে কয়েক মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে; চালু হলে https নিজে থেকেই তৈরি হয়, আর পুরনো metanoz.com ঠিকানাও কাজ করতে থাকে। ধাপগুলো ছবিসহ আছে হেল্প সেন্টারের ডোমেইন গাইডে।
পরে বিক্রেতা বদলাতে চাইলে: ডোমেইন ট্রান্সফার
দাম, সাপোর্ট বা সুবিধার কারণে পরে অন্য বিক্রেতার কাছে ডোমেইন নিতে চাইলে সেটাকে বলে ট্রান্সফার। সাধারণ নিয়মটা এমন: পুরনো বিক্রেতার প্যানেলে ডোমেইন লক বন্ধ করে ট্রান্সফার কোড (EPP বা Auth code) নিন, নতুন বিক্রেতার কাছে ট্রান্সফারের অনুরোধ করে কোডটি দিন, আর মালিকের ইমেইলে আসা অনুমোদন নিশ্চিত করুন। ট্রান্সফারের সময় সাধারণত এক বছরের নবায়নের টাকা দিতে হয়, যা মেয়াদের সাথে যোগ হয়। নতুন কেনা বা সদ্য ট্রান্সফার হওয়া ডোমেইন কিছুদিন আবার ট্রান্সফার করা যায় না — এটা স্বাভাবিক নিয়ম। আর ট্রান্সফারের সময় DNS সেটিং একই রাখলে ওয়েবসাইট বন্ধ হয় না।
মালিকানা আর নিরাপত্তা: পাঁচটি অভ্যাস
- ডোমেইন অ্যাকাউন্টের লগইন একটা নিরাপদ জায়গায় লিখে রাখুন, আর ব্যবসার অন্তত আরেকজন বিশ্বস্ত মানুষ যেন জানেন।
- নবায়নের ইমেইল যেন স্প্যামে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন; মেয়াদের তারিখ ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন।
- ভুয়া "আপনার ডোমেইনের মেয়াদ শেষ, এখনই টাকা দিন" ইমেইল আসে — টাকা দেওয়ার আগে নিজের প্যানেলে লগইন করে দেখুন।
- DNS বদলানোর আগে আগের সেটিংয়ের একটা ছবি বা নোট রাখুন, যাতে ভুল হলে ফেরানো যায়।
- ব্যবসার ইমেইল ([email protected]) ব্যবহার করলে MX রেকর্ড বদলানোর সময় বিশেষ সতর্ক থাকুন — ভুল হলে ইমেইল আসা বন্ধ হয়ে যায়।
নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন
টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।
বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুনসচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
একটি .com ডোমেইনের দাম কত?
সাধারণত বছরে আনুমানিক ৳১,২০০–২,০০০, বিক্রেতা আর ডলারের দাম অনুযায়ী। প্রথম বছরের অফার দামের চেয়ে নবায়নের দাম বেশি হতে পারে, তাই কেনার আগে নবায়নের দামও দেখে নিন।
.com.bd ডোমেইন কি যে কেউ কিনতে পারেন?
.com.bd নিবন্ধনে সাধারণত ব্যবসা বা পরিচয়ের কাগজ চাওয়া হয়, আর নিবন্ধন হয় BTCL বা তাদের অনুমোদিত রিসেলারের মাধ্যমে। সর্বশেষ শর্ত আবেদনের সময় দেখে নিন।
ডোমেইন কি চিরদিনের জন্য কেনা যায়?
না। ডোমেইন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিবন্ধন করা হয় আর নিয়মিত নবায়ন করতে হয়। কয়েক বছরের জন্য একসাথে নবায়ন করা যায়; অটো-রিনিউ চালু রাখলে মেয়াদ শেষে হারানোর ভয় কমে।
ডেভেলপার আমার ডোমেইন তাঁর নামে কিনেছেন, কী করব?
তাঁকে ডোমেইনটি আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার বা মালিকের তথ্য আপনার নামে বদলে দিতে অনুরোধ করুন। ভবিষ্যতে যেকোনো ডোমেইন শুরু থেকেই নিজের নামে আর নিজের লগইনে কিনুন।
ডোমেইন কিনলেই কি ওয়েবসাইট হয়ে যায়?
না। ডোমেইন শুধু ঠিকানা; ওয়েবসাইট আলাদাভাবে বানাতে হয়, তারপর DNS সেটিং দিয়ে ডোমেইনটি সেই সাইটের সাথে যুক্ত করতে হয়।
ডোমেইন যুক্ত করার পর সাইট খুলছে না কেন?
DNS বদলের খবর ইন্টারনেটে ছড়াতে কয়েক মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে। এর পরও না খুললে DNS সেটিং আবার মিলিয়ে দেখুন, বা আপনার ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্মের সাপোর্টে যোগাযোগ করুন।
How to Buy a Domain in Bangladesh: .com vs .com.bd, Prices and Pitfalls
ওয়েবসাইট স্লো কেন? স্পিড বাড়ানোর ১০টি কার্যকর উপায়
How to Connect Your Own Domain to Your Website (DNS Explained Simply)