ডোমেইন হলো ইন্টারনেটে আপনার ব্যবসার ঠিকানা (যেমন yourshop.com), আর হোস্টিং হলো সেই জায়গা — একটি সার্ভার — যেখানে ওয়েবসাইটের ফাইল ও তথ্য রাখা থাকে। দুটোর মাঝে সংযোগ ঘটায় DNS, আর SSL সংযোগটাকে নিরাপদ (https) করে। একটি .com ডোমেইনের খরচ সাধারণত বছরে আনুমানিক ৳১,২০০–২,০০০। ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহার করলে হোস্টিং ও SSL সাধারণত প্ল্যানের ভেতরেই থাকে, আলাদা কিনতে হয় না।
ওয়েবসাইট বানাতে গেলেই প্রথম যে শব্দগুলো কানে আসে — ডোমেইন, হোস্টিং, DNS, নেমসার্ভার, SSL — নতুনদের কাছে এগুলো বেশ গোলমেলে লাগে। কেউ বলেন "আগে হোস্টিং কিনুন", কেউ বলেন "ডোমেইন কিনলেই হবে"। আসলে ডোমেইন হোস্টিং কি, কোনটা কেন লাগে আর কোনটা আপনার ক্ষেত্রে আদৌ আলাদা কেনার দরকার নেই — এটা পরিষ্কার হয়ে গেলে টাকা আর সময় দুটোই বাঁচে।
এই গাইডে প্রতিটি শব্দের সহজ মানে, দৈনন্দিন উদাহরণ, কোন ধরনের হোস্টিং কার জন্য, আনুমানিক খরচ আর নতুনদের সাধারণ ভুলগুলো একে একে দেখাব।
সব টাকার অঙ্ক অক্টোবর ২০২৬-এর বাজার অনুযায়ী আনুমানিক; বিক্রেতা আর ডলারের দাম অনুযায়ী কম-বেশি হয়।
এই লেখায় যা আছে
একটি দোকানের উদাহরণে পুরো ব্যাপারটা
ধরুন আপনি একটি দোকান দিচ্ছেন। দোকানের জন্য তিনটি জিনিস লাগে: একটা ঠিকানা যেটা মানুষ খুঁজে বের করবেন, একটা ঘর যেখানে মালপত্র সাজানো থাকবে, আর রাস্তার নির্দেশনা যাতে ঠিকানা থেকে ঘরে পৌঁছানো যায়। ওয়েবসাইটেও ঠিক তাই:
| দোকানে | ওয়েবসাইটে | কাজ |
|---|---|---|
| ঠিকানা ও সাইনবোর্ড | ডোমেইন | মানুষ যে নাম লিখে আপনাকে খোঁজেন |
| দোকানঘর | হোস্টিং (সার্ভার) | পেজ, ছবি, পণ্য, অর্ডারের তথ্য রাখা |
| রাস্তার নির্দেশনা | DNS | ঠিকানা থেকে সঠিক সার্ভারে পৌঁছে দেওয়া |
| দরজার তালা | SSL (https) | গ্রাহক আর সাইটের মাঝের তথ্য গোপন রাখা |
ঘর ছাড়া ঠিকানা থাকলে কেউ এসে কিছু পাবেন না; আবার ঘর থাকলেও ঠিকানা না থাকলে কেউ খুঁজে পাবেন না। তাই একটি চালু ওয়েবসাইটে এই চারটিই লাগে — প্রশ্ন শুধু কোনটা আপনি নিজে কিনবেন আর কোনটা আপনার প্ল্যাটফর্ম দেবে।
ডোমেইন কী
ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের নাম-ঠিকানা, যেটা মানুষ ব্রাউজারে লেখেন। এর দুটো অংশ: মূল নাম (yourshop) আর শেষের অংশ বা এক্সটেনশন (.com, .com.bd, .net ইত্যাদি)।
- ডোমেইন কেনা মানে আসলে ভাড়া নেওয়া। নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত এক বছর বা তার বেশি) জন্য নিবন্ধন হয়, তারপর নবায়ন করতে হয়। নবায়ন না করলে ডোমেইন হাতছাড়া হতে পারে।
- এক নাম, এক মালিক। একটি ডোমেইন একসাথে একজনই নিবন্ধন করতে পারেন। তাই পছন্দের নাম আগে কেউ নিয়ে থাকলে অন্য নাম বা অন্য এক্সটেনশন ভাবতে হয়।
- কোথা থেকে কেনেন: ডোমেইন রেজিস্ট্রার বা তাদের রিসেলারের কাছ থেকে — আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা দেশি হোস্টিং প্রতিষ্ঠান। .bd ডোমেইনের নিবন্ধন হয় BTCL-এর মাধ্যমে।
- সাবডোমেইন: মূল ডোমেইনের আগে আরেকটা নাম বসালে সেটা সাবডোমেইন, যেমন
shop.yourname.comবাyourname.metanoz.com। আলাদা করে কিনতে হয় না, যিনি মূল ডোমেইনের মালিক তিনিই বানাতে পারেন।
কোন এক্সটেনশন নেবেন আর কোথা থেকে কিনবেন, ধাপে ধাপে আছে ডোমেইন কেনার নিয়ম লেখায়। .com.bd নেওয়ার কাগজপত্র জানতে পড়ুন .com.bd ডোমেইনের গাইড।
হোস্টিং কী
হোস্টিং হলো ইন্টারনেটে সবসময় চালু থাকা একটি কম্পিউটার (সার্ভার)-এর জায়গা, যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সবকিছু রাখা থাকে — পেজের লেখা, ছবি, পণ্যের তালিকা, গ্রাহকের অর্ডার, ডেটাবেস। কেউ আপনার সাইট খুললে এই সার্ভারই তাঁর ফোনে বা কম্পিউটারে পেজটা পাঠায়।
নিজের বাসার কম্পিউটারে ওয়েবসাইট রাখা যায় না কেন? কারণ সেটা সারাদিন-সারারাত চালু, দ্রুত ইন্টারনেটে যুক্ত আর নিরাপদ রাখা কঠিন। হোস্টিং প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টারে এসব ব্যবস্থা রাখে, আর আপনি তার একটা অংশ ভাড়া নেন।
ভালো হোস্টিংয়ে কী দেখবেন
- গতি: পেজ কত দ্রুত খোলে। ধীর সাইট থেকে মানুষ অপেক্ষা না করে চলে যান। স্পিড বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলাদা লেখা আছে: ওয়েবসাইট স্লো কেন।
- চালু থাকার নির্ভরযোগ্যতা: সার্ভার ঘন ঘন বন্ধ হলে ব্যবসা হারাবেন।
- ব্যাকআপ: নিয়মিত কপি রাখা হয় কি না, আর দরকারে ফেরানো যায় কি না।
- সাপোর্ট: সমস্যা হলে কার সাথে, কোন ভাষায়, কত দ্রুত কথা বলা যায়।
- নবায়নের দাম: প্রথম বছরের অফার আর পরের বছরের দাম আলাদা হতে পারে।
DNS ও নেমসার্ভার
ইন্টারনেটে প্রতিটি সার্ভারের একটি সংখ্যার ঠিকানা থাকে (IP ঠিকানা, যেমন 203.0.113.10)। মানুষ সংখ্যা মনে রাখতে পারেন না, তাই নাম ব্যবহার করেন। DNS (Domain Name System) হলো ইন্টারনেটের ফোনবুক: নাম দিলে সে বলে দেয় কোন সংখ্যার সার্ভারে যেতে হবে।

নেমসার্ভার আর DNS রেকর্ড
আপনার ডোমেইনের "ফোনবুকের পাতা" কোথায় রাখা আছে, সেটা বলে নেমসার্ভার। আর সেই পাতায় যে লাইনগুলো লেখা থাকে, সেগুলো DNS রেকর্ড। নতুনদের যে কয়টি রেকর্ড চেনা দরকার:
| রেকর্ড | কী বলে | কখন লাগে |
|---|---|---|
| A | ডোমেইন কোন IP ঠিকানার সার্ভারে | ওয়েবসাইট যুক্ত করতে |
| CNAME | এই নামটা আরেকটা নামের মতোই | www বা সাবডোমেইন যুক্ত করতে |
| MX | এই ডোমেইনের ইমেইল কোন সার্ভারে যাবে | নিজের ডোমেইনে ইমেইল চালাতে |
| TXT | যাচাই বা নিরাপত্তার তথ্য | Google যাচাই, ইমেইলের SPF ইত্যাদি |
ওয়েবসাইট যুক্ত করার সময় সাধারণত দুটোর একটা করতে হয়: হয় নেমসার্ভার বদলে প্ল্যাটফর্মের দেওয়া নেমসার্ভার বসানো, নয়তো নিজের নেমসার্ভার রেখে শুধু A বা CNAME রেকর্ড বসানো। কোনটা করবেন, তা আপনার ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম বলে দেবে। DNS বদলের খবর পুরো ইন্টারনেটে ছড়াতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা (কখনো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত) লাগতে পারে — এই সময়ে কেউ পুরনো, কেউ নতুন সাইট দেখতে পারেন, এটা স্বাভাবিক।
সতর্কতা: নেমসার্ভার বদলালে পুরনো জায়গার সব রেকর্ড — ইমেইলের MX-সহ — আর কাজ করে না। ডোমেইনে আগে থেকে ইমেইল চালু থাকলে নেমসার্ভার বদলানোর আগে পুরনো রেকর্ডগুলোর ছবি বা নোট রেখে নিন, আর নতুন জায়গায় আবার বসান।
DNS সেটিং কোথায় কীভাবে বসাবেন, ছবিসহ ধাপগুলো আছে How to Connect Your Own Domain (DNS Explained) লেখায়।
SSL: ঠিকানার পাশে তালার চিহ্ন
SSL সার্টিফিকেট থাকলে ওয়েবসাইটের ঠিকানা http:// না হয়ে https:// দিয়ে শুরু হয়, আর ব্রাউজারে তালার চিহ্ন দেখায়। এর মানে গ্রাহকের ফোন আর আপনার সার্ভারের মাঝে যে তথ্য যাচ্ছে — নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, পাসওয়ার্ড — তা পথে কেউ পড়তে পারবে না। SSL না থাকলে ব্রাউজার "Not secure" দেখায়, আর অনেক গ্রাহক সেখানেই ফিরে যান।
এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবসার সাইটের জন্য ফ্রি SSL-ই যথেষ্ট। কোনটা ফ্রি, কোনটা পেইড আর কীভাবে পরীক্ষা করবেন — বিস্তারিত আছে SSL সার্টিফিকেট কী লেখায়।
হোস্টিংয়ের ধরন
হোস্টিং কিনতে গেলে নানা নাম শুনবেন। মূল ধরনগুলো এমন:

শেয়ারড হোস্টিং
একটি সার্ভারে অনেকগুলো ওয়েবসাইট একসাথে থাকে, খরচ ভাগাভাগি হয়। দাম কম, সাধারণত cPanel-এর মতো একটা প্যানেল দেওয়া হয়। ছোট ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য চলে, কিন্তু একই সার্ভারের অন্য সাইটে চাপ বাড়লে আপনার সাইটও ধীর হতে পারে। সফটওয়্যার আপডেট, প্লাগইন, নিরাপত্তা আর ব্যাকআপ দেখার দায়িত্ব সাধারণত আপনার বা আপনার ডেভেলপারের।
VPS ও ক্লাউড হোস্টিং
সার্ভারের একটি নির্দিষ্ট ভাগ শুধু আপনার জন্য। গতি আর নিয়ন্ত্রণ বেশি, কিন্তু সার্ভার চালানো, আপডেট আর নিরাপত্তা নিজেকেই সামলাতে হয় (বা "ম্যানেজড" প্যাকেজে বাড়তি টাকা দিতে হয়)। বড় ট্রাফিক বা কাস্টম সফটওয়্যারের জন্য উপযুক্ত; প্রযুক্তি না জানলে নতুনদের জন্য ঝুঁকির।
ডেডিকেটেড সার্ভার
পুরো একটি সার্ভার শুধু আপনার। বড় প্রতিষ্ঠান বা খুব বেশি ভিজিটরের সাইটের জন্য; ছোট ব্যবসার শুরুতে প্রায় কখনো লাগে না।
ওয়েবসাইট বিল্ডারের হোস্টিং
এখানে হোস্টিং আলাদা পণ্য নয় — প্ল্যাটফর্মের মাসিক বা বার্ষিক প্ল্যানের ভেতরেই থাকে। সার্ভার, আপডেট, SSL আর নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম দেখে; আপনি শুধু সাইটের লেখা, ছবি আর পণ্য সামলান। পরের অংশে বিস্তারিত।
ওয়েবসাইট বিল্ডারে কি আলাদা হোস্টিং লাগে?
না। ওয়েবসাইট বিল্ডারে সাইট বানালে সেই প্ল্যাটফর্মের সার্ভারেই সাইট থাকে, তাই আলাদা হোস্টিং কেনার দরকার নেই। আপনার হাতে থাকে শুধু একটা সিদ্ধান্ত: প্ল্যাটফর্মের দেওয়া ফ্রি সাবডোমেইনে চালাবেন, নাকি নিজের ডোমেইন কিনে যুক্ত করবেন।
Metanoz-এর উদাহরণে বলি: প্রতিটি সাইট শুরুতে yourname.metanoz.com ঠিকানায় চলে। নিজের ডোমেইন যুক্ত করতে যেকোনো বিক্রেতার কাছ থেকে ডোমেইন কিনুন (আগে থেকে থাকলে সেটাই চলবে), Admin → Website পেজের "Connect domain" অংশে ডোমেইনটি লিখে অনুরোধ পাঠান, আর সেখানে দেখানো DNS সেটিং (nameserver বা record) আপনার ডোমেইন প্যানেলে বসান। Metanoz টিম যাচাই করে চালু করে; DNS ছড়াতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে। চালু হলে https নিজে থেকেই তৈরি হয়, SSL আলাদা কিনতে হয় না, আর পুরনো metanoz.com ঠিকানাও কাজ করতে থাকে। বিস্তারিত দেখুন হেল্প সেন্টারের ডোমেইন যুক্ত করার গাইডে।

দুটো বিষয় মনে রাখুন। প্রথমত, Metanoz ডোমেইন বিক্রি করে না, আর ইমেইল হোস্টিংও দেয় না — ডোমেইন আপনি নিজের নামে অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনবেন, আর [email protected]এর মতো ইমেইলের জন্য আলাদা ইমেইল সেবা নেবেন। দ্বিতীয়ত, যাঁরা সার্ভারে নিজের কোড বা বিশেষ সফটওয়্যার চালাতে চান, তাঁদের জন্য ওয়েবসাইট বিল্ডার ঠিক জায়গা নয়; তাঁদের VPS বা ক্লাউড হোস্টিং-ই লাগবে।
ডোমেইন হোস্টিং খরচ কত
নিচের অঙ্কগুলো অক্টোবর ২০২৬-এর বাজারে সাধারণ দামের আনুমানিক ধারণা; বিক্রেতা, প্যাকেজ আর ডলারের দাম অনুযায়ী বদলায়।
| জিনিস | আনুমানিক খরচ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| .com ডোমেইন | বছরে ৳১,২০০–২,০০০ | নবায়নের দামও দেখে নিন |
| .com.bd ডোমেইন | BTCL বা রিসেলারের সর্বশেষ দাম দেখুন | সাধারণত কাগজপত্র লাগে |
| শেয়ারড হোস্টিং (ছোট প্যাকেজ) | বছরে কয়েক হাজার টাকা | প্যাকেজের জায়গা, সাইট-সংখ্যা ও ব্যাকআপ দেখুন |
| VPS / ক্লাউড | মাসে কয়েক হাজার টাকা বা বেশি | চালানোর লোকের খরচ আলাদা |
| SSL | বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্রি | বিশেষ প্রয়োজনে পেইড |
| ওয়েবসাইট বিল্ডার | প্ল্যানের মাসিক বা বার্ষিক ফি | হোস্টিং ও SSL ভেতরে |
শুধু হোস্টিংয়ের দাম তুলনা করলে ভুল হিসাব হয়। শেয়ারড হোস্টিং সস্তা মনে হলেও তার সাথে থিম, প্লাগইন, ডেভেলপারের মজুরি আর রক্ষণাবেক্ষণের সময় যোগ হয়। অন্যদিকে বিল্ডারের মাসিক ফিতে এসব অনেকটাই ধরা থাকে। Metanoz-এর প্ল্যান Starter, Business আর Premium (দাম জানতে যোগাযোগ করুন); প্রতিটিতে হোস্টিং আর ফ্রি SSL আছে, অনলাইন স্টোর শুরু হয় Business থেকে। বিস্তারিত আছে মূল্য পেজে। সব পথের পূর্ণ খরচের তুলনা দেখুন ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ লেখায়।
আপনার কোনটা কিনতে হবে: তিনটি পরিস্থিতি
- ওয়েবসাইট বিল্ডারে সাইট: শুধু ডোমেইন কিনুন (চাইলে পরে)। হোস্টিং আর SSL প্ল্যানে আছে। ইমেইল দরকার হলে আলাদা ইমেইল সেবা।
- ওয়ার্ডপ্রেস নিজে চালাবেন: ডোমেইন আর হোস্টিং দুটোই কিনুন; হোস্টিং প্যানেল থেকে SSL চালু করুন; থিম, প্লাগইন, আপডেট আর ব্যাকআপ নিজে বা ডেভেলপার দিয়ে।
- ডেভেলপার দিয়ে কাস্টম সাইট: ডোমেইন আর হোস্টিং দুটোই আপনার নামে, আপনার লগইনে কিনুন; ডেভেলপারকে শুধু কাজের অ্যাক্সেস দিন।
যেকোনো পথে একটি নিয়ম: ডোমেইন আর হোস্টিং অ্যাকাউন্ট যেন আপনার নিজের নামে, নিজের ইমেইলে থাকে। অন্যের অ্যাকাউন্টে থাকলে পরে সাইট সরাতে বা ঠিকানা ফেরত পেতে ভোগান্তি হয়।
নতুনদের সাধারণ ভুল
- ডোমেইন আর হোস্টিং এক ভাবা: ডোমেইন কিনলেই ওয়েবসাইট হয় না; সাইট কোথাও রাখতে আর বানাতে হয়।
- বিল্ডারে থেকেও আলাদা হোস্টিং কেনা: বিক্রেতার প্যাকেজে "ডোমেইন + হোস্টিং" একসাথে কিনে ফেলা, অথচ সাইট বিল্ডারে — হোস্টিংটা অব্যবহৃত পড়ে থাকে।
- শুধু প্রথম বছরের দাম দেখা: নবায়নের দাম না দেখে কেনা।
- নবায়নের ইমেইল না দেখা: মেয়াদ শেষে ডোমেইন বা হোস্টিং বন্ধ হয়ে সাইট উধাও। অটো-রিনিউ চালু রাখুন, তারিখ ক্যালেন্ডারে লিখুন।
- পুরনো রেকর্ড না রেখে DNS বদলানো: বিশেষ করে ইমেইলের MX রেকর্ড হারিয়ে মেইল আসা বন্ধ।
- ব্যাকআপ না রাখা: শেয়ারড হোস্টিংয়ে নিজের ব্যাকআপ নিজের কাছে রাখুন; বিল্ডারে বড় পরিবর্তনের আগে ব্যাকআপ নিন।
এখন কী করবেন
প্রথমে ঠিক করুন সাইটটা কীভাবে বানাবেন — বিল্ডারে, ওয়ার্ডপ্রেসে নাকি ডেভেলপার দিয়ে। তাতেই ঠিক হয়ে যায় আপনাকে কী কী কিনতে হবে। বিল্ডারে গেলে আজই সাবডোমেইনে সাইট বানানো শুরু করতে পারেন, আর নাম চূড়ান্ত হলে ডোমেইন কিনে যুক্ত করবেন। নাম বাছাইয়ের টিপস আছে ডোমেইন নাম বাছাইয়ের ১০টি টিপস লেখায়, আর নিজের ডোমেইনে ইমেইল চালাতে পড়ুন নিজের ডোমেইনে বিজনেস ইমেইল।
Metanoz-এ ৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল আছে, কার্ড লাগে না — এখান থেকে শুরু করে আপনার ব্যবসার ধরনের একটা টেমপ্লেট বেছে দেখতে পারেন।
নিজের ওয়েবসাইট আজই শুরু করুন
টেমপ্লেট বেছে নিন, নাম দিন — বাকিটা Metanoz সাজিয়ে দেবে। ৭ দিন বিনামূল্যে, কার্ড লাগবে না।
বিনামূল্যে শুরু করুনটেমপ্লেট দেখুনসচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ডোমেইন আর হোস্টিংয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
ডোমেইন হলো ঠিকানা (যেমন yourshop.com), আর হোস্টিং হলো সার্ভারের সেই জায়গা যেখানে ওয়েবসাইটের ফাইল ও তথ্য রাখা থাকে। DNS এই দুটোকে যুক্ত করে।
শুধু ডোমেইন কিনলে কি ওয়েবসাইট চালু হবে?
না। ডোমেইনের সাথে একটি ওয়েবসাইট লাগবে, যেটা কোনো হোস্টিং বা ওয়েবসাইট বিল্ডারে রাখা আছে। তারপর DNS সেটিং দিয়ে ডোমেইনটি সেই সাইটে যুক্ত করতে হয়।
ওয়েবসাইট বিল্ডারে কি হোস্টিং কিনতে হয়?
সাধারণত না। বিল্ডারের প্ল্যানের ভেতরেই হোস্টিং থাকে। Metanoz-এ হোস্টিং আর ফ্রি SSL প্রতিটি প্ল্যানে আছে; শুধু নিজের ডোমেইন চাইলে সেটা আলাদা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে যুক্ত করবেন।
ডোমেইন হোস্টিং খরচ বছরে কত?
অক্টোবর ২০২৬-এ একটি .com ডোমেইন বছরে আনুমানিক ৳১,২০০–২,০০০। ছোট শেয়ারড হোস্টিং প্যাকেজ সাধারণত বছরে কয়েক হাজার টাকা, প্যাকেজ অনুযায়ী বদলায়। নবায়নের দাম আলাদা হতে পারে, কেনার আগে দেখে নিন।
DNS বদলানোর পর সাইট খুলছে না কেন?
DNS বদলের খবর ছড়াতে কয়েক মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে। এর পরও না খুললে বসানো রেকর্ড বা নেমসার্ভার বানানসহ আবার মিলিয়ে দেখুন, আর আপনার প্ল্যাটফর্মের সাপোর্টে জানান।
একই ডোমেইনে ওয়েবসাইট আর ইমেইল আলাদা জায়গায় রাখা যায়?
যায়। ওয়েবসাইটের জন্য A বা CNAME রেকর্ড এক জায়গায় আর ইমেইলের জন্য MX রেকর্ড অন্য ইমেইল সেবায় দেখাতে পারেন। শুধু DNS বদলানোর সময় MX রেকর্ড যেন মুছে না যায়।
পরে হোস্টিং বা প্ল্যাটফর্ম বদলালে কি ডোমেইনও বদলাতে হবে?
না। ডোমেইন নিজের নামে থাকলে নতুন প্ল্যাটফর্মের DNS সেটিং বসালেই একই ঠিকানা নতুন সাইটে চলে যায়। এ কারণেই ডোমেইন নিজের অ্যাকাউন্টে রাখা জরুরি।
ডোমেইন কেনার নিয়ম: .com নাকি .com.bd, কোথা থেকে কিনবেন, কত খরচ
How to Buy a Domain in Bangladesh: .com vs .com.bd, Prices and Pitfalls
ওয়েবসাইট স্লো কেন? স্পিড বাড়ানোর ১০টি কার্যকর উপায়